ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৯ এএম
অনলাইন সংস্করণ

তিস্তার চরে তরমুজে স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা

তিস্তার চরাঞ্চলে তরমুজে নতুন দিগন্ত খুলছে। ছবি : কালবেলা
তিস্তার চরাঞ্চলে তরমুজে নতুন দিগন্ত খুলছে। ছবি : কালবেলা

নীলফামারী জেলার তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে তরমুজ চাষ কৃষকদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এক সময় অনাবাদি পড়ে থাকা বালুচর এখন সবুজ লতায় ছেয়ে গেছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেচ, পরিচর্যা ও আগাছা পরিষ্কারে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা। চলতি মৌসুমে জেলার তিস্তার বাঘের চরসহ বিভিন্ন চর এলাকায় প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে।

এ বছর তিস্তার চরাঞ্চলে মূলত স্যান্ডবার পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে নদীর বালুময় জমিতে নির্দিষ্ট দূরত্বে গর্ত করে জৈব সার ও প্রয়োজনীয় সার মিশিয়ে চারা রোপণ করা হয়। বালুমিশ্রিত জমিতে পানি জমে থাকে না এবং মাটির ভেতরে বাতাস চলাচল ভালো থাকায় তরমুজের শিকড় দ্রুত ছড়াতে পারে। ফলে তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। কৃষি বিভাগ বলছে, চরাঞ্চলের জন্য এই পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অল্প সময়ে ফলন পাওয়া যায় এবং বাজারে চাহিদা থাকায় গত বছরের তুলনায় এ বছর তরমুজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে। অনেক কৃষক গম, ভুট্টা ও অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন। এতে একদিকে জমির সঠিক ব্যবহার হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে আয়ের সুযোগ।

ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের তিস্তার চর এলাকার কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, তিনি ৪০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত গাছ ভালো রয়েছে। বাজারদর ভালো থাকলে লাভবান হবেন বলে আশা করছেন তিনি। একই এলাকার কৃষক নাসির উদ্দিন জানান, গত বছর ১২ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করে ভালো লাভ হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এ বছর তিনি ৭০ বিঘা জমিতে আবাদ শুরু করেছেন।

কৃষকরা জানান, এ বছর টানা ১৫ দিন শৈত্যপ্রবাহ থাকায় মৌসুমের শুরুতে চারা বৃদ্ধিতে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তবে বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছের বৃদ্ধি সন্তোষজনক। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই প্রথম দফায় তরমুজ বাজারজাত করা সম্ভব হবে। দ্বিতীয় দফায় রোপণ করা জমির তরমুজ পুরো রমজান মাসজুড়ে বাজারে সরবরাহ করা যাবে। যদিও কালবৈশাখী ঝড় ও অতিবৃষ্টির আশঙ্কায় নিয়মিত জমির দেখভাল করতে হচ্ছে বলে জানান তারা।

নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তিস্তার চরাঞ্চলে প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ১ থেকে ২ লাখ টাকার তরমুজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। বাজারদর অনুকূলে থাকলে চরাঞ্চলের কৃষকদের আয় বাড়বে। পাশাপাশি চাষাবাদ, ফসল সংগ্রহ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

কৃষি অধিদপ্তরের ডিমলা উপজেলা কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না বলেন, তিস্তার চরে তিনজন প্রদর্শনী কৃষকের মাধ্যমে স্যান্ডবার পদ্ধতিতে প্রায় ২৫ কৃষক ৩০০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করছেন। প্রতি কেজি তরমুজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিটি তরমুজের ওজন ৬ থেকে ৭ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। শুরু থেকেই কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে চরের প্রধান সমস্যা সেচ। চলতি মৌসুমে ওই কৃষকদের মধ্যে ডিজেলচালিত পাম্প ও ফিতা পাইপ বিতরণ করা হবে। ভবিষ্যতে প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে স্যান্ডবার পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পরীক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তনের দাবিতে সড়ক অবরোধ

বন্ধুদের ঈদে জমানো টাকায় আর্জেন্টিনার পতাকায় সেজেছে গোটা লঞ্চঘাট

যেসব জেলায় ৬০ কিমি বেগে বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

অবশেষে পঞ্চগড় সীমান্ত থেকে ১০ জনকে ফেরত নিলো বিএসএফ

ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু

১১ জেলার সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে আনসার মোতায়েন

দেশের বাজারে কত দামে স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি হচ্ছে

ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি খুব কাছে : ট্রাম্প

দুই ভূমি অফিসে হঠাৎ হাজির প্রতিমন্ত্রী, দেখতে পেলেন নানা অনিয়ম

৪৮ ঘণ্টা পর শূন্যরেখা থেকে ১১ জনকে সরিয়ে নিলো বিএসএফ

১০

বড় ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল ছোট ভাইয়ের

১১

জাবিতে নতুন দুই উপ-উপাচার্যের যোগদান

১২

হামে শিশু মৃত্যু / ড. ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

১৩

বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস পালন করল বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস

১৪

হোটেলে সাবেক ইউপি সদস্যের মরদেহ, সেই নারী পুলিশ হেফাজতে

১৫

আরেক দফায় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

১৬

যে কারণে রোগী প্রতিদিন হাসে, কিন্তু আনন্দ পায় না

১৭

ডলারকে আমি চিনি : রামিসার বাবা

১৮

ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতবে মরক্কো: মামদানি

১৯

মালদ্বীপ-বাংলাদেশ ম্যাচে উত্তেজনা, শেষ মুহূর্তে সংঘর্ষ ১-১ গোলে ড্র

২০
X