

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার একটি মসজিদে দীর্ঘ ৪০ বছর ইমামতির পর ফুলসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে ইমামকে রাজকীয় বিদায় দিয়েছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী৷
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে তেঁতুলিয়া উপজেলার উত্তর দর্জিপাড়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুস সালামকে ফুলসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িসহ মোটরসাইকেল বহরে তাকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
তার বিদায় উপলক্ষে একটি ফুলসজ্জিত প্রাইভেটকারে তাকে শেষবারের মতো মসজিদে নিয়ে আসা হলে ফুল ছিটিয়ে বরণ করে নেয় স্থানীয় শিশুরা৷
তেঁতুলিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের আজিজ নগর গ্রামের আফাস মুন্সির ছেলে ৭৫ বছর বয়সী মাওলানা আব্দুস সালাম। তিনি ১৯৮৬ সাল থেকে টানা ৪০ বছর ধরে উত্তর দর্জিপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বার্ধক্যজনিত কারণে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে শনিবার মসজিদ প্রাঙ্গণে তার সম্মানে এক ব্যতিক্রমী বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সদ্য বিদায়ী মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুস সালাম। প্রধান আলোচক ছিলেন- নুরুল আলা নুর কামিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল হান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিশু স্বর্গের পরিচালক কবির আহমেদ আকন্দ ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ তমিজ উদ্দীন।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ থেকে জানা গেছে, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তিনি মসজিদের খেদমত করেছেন। তার বিদায়কে স্মরণীয় ও তার সম্মানে এমন আয়োজন করা হয়েছে৷ তার বিদায় ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে মিলনমেলা তৈরি হয়। এ সময় ৫০-৫৫ বছর বয়স্ক তার শিক্ষার্থীসহ ছোট-বড় সব বয়সী মানুষ চলে আসেন ৷
উত্তর দর্জিপাড়া জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শামসুজ্জোহা নিয়াজিদ বলেন, আব্দুস সালাম সাহেব দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে আমাদের মসজিদের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ জন্য মসজিদ কর্তৃপক্ষের উদ্যাগে তার প্রাপ্য সম্মান প্রদানের চেষ্টা করব। আজকে তার বিদায়ে এমন স্মরণীয় আয়োজন করেছি৷ আমরা চাই, সব ইমাম ও খতিবরা যেন সম্মানের সঙ্গে বিদায় নিতে পারেন।
এ সময় বিদায়ী খতিব মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুস সালাম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আমার দ্বারা কোনো ভুল হয়ে থাকলে আপনারা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং আমার জন্য দোয়া করবেন।
তিনি আরও বলেন, মসজিদ কর্তৃপক্ষ আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন এতে আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
অনুষ্ঠান শেষে তাকে নগদ এক লাখ টাকাসহ বিভিন্ন উপহার দেওয়ার পাশাপাশি তাকে ঘোড়ার গাড়িতে উঠানো হয়। এ সময় গ্রামবাসীর মাঝে কান্নার আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়৷
মন্তব্য করুন