

পদ ও অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে সম্পর্ক তৈরি করলে তা টেকসই হয় না বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, সফল হওয়ার পর আমরা যদি নিজেদের একটি নির্দিষ্ট বলয়ে আবদ্ধ করে ফেলি, তবে তা সামষ্টিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। বৃহত্তর যশোরের উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে যশোর সাংবাদিক ফোরামের ইফতার পার্টি ও ‘ঐতিহ্যের যশোর: আগামীর পথচলা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমরা যখন খুব সফল বা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাই, তখন একটি বলয়ে নিজেদের আবদ্ধ করে ফেলি। এই জায়গা থেকে সরে আসতে না পারলে সামষ্টিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। সম্পর্ক সময়ের সাথে পরিবর্তিত না হয়ে স্থায়ী হওয়া উচিত। পদ-অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে সম্পর্ক তৈরি হলে তা টেকসই হয় না।
প্রয়াত পিতা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য তরিকুল ইসলামের স্মৃতিচারণ করে অমিত বলেন, যশোর সমিতি যখন তৈরি হয়, তখন একটি নির্দিষ্ট জায়গা দেওয়ার জন্য বাবার উদ্যোগ ছিল। সমিতির সব আয়োজনে তিনি প্রধান অতিথি হতেন। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদল হলে তাকে আর অতিথি করা হতো না। ২০০১ সালে আবার মন্ত্রী হলে তাকে দাওয়াত দেওয়া হয়। তখন বাবা বলেছিলেন, দাওয়াত আসলে পদ-পদবির ওপর নির্ভর করে, সম্পর্কের ওপর নয়। এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে আমাদের উন্নতি কঠিন।
যশোরের উন্নয়নে বর্তমান সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বহু বছর পর বৃহত্তর যশোরের সামনে একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারে ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আমাদের অনেক মানুষ রয়েছেন। অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, বাবু নিতাই রায় চৌধুরীসহ আমরা যারা আছি, সবার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে কাজ করতে পারলে যশোরের ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সম্প্রতি রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাচনে দুই যশোর সভাপতি পদে দাঁড়িয়ে দুজনই হেরেছেন। আমি আগেই বলেছিলাম, দুজন মিলে একজন ঠিক করেন। কিন্তু কেউ কথা শোনেনি। একা ভালো থাকার চেষ্টা না করে সবাই মিলে ভালো থাকার চেষ্টা করলে সফলতা আসবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মো. মোক্তার আলী বলেন, আলোচনার শিরোনাম ‘ইতিহাসে ঐতিহ্যের যশোর: আগামীর পথচলা’ হলে আরও যথাযথ হতো। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামীর পথচলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, যশোরের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিসহ সব ক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তিনি সবার পরামর্শ কামনা করেন এবং প্রয়োজনে নিজেদের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার আশ্বাস দেন।
অধ্যাপক মোক্তার আলী আরও বলেন, সাংবাদিকরা জাতির বিবেক এবং পত্রিকা ও সংবাদমাধ্যম জাতির দর্পণ। সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জাতির সামনে বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপিত হয়। তাই সাংবাদিকদের লেখনীতে স্বার্থপরতা, স্বজনপ্রীতি ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ সময় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাবিরা নাজমুল মুন্নী, যশোর জেলা সমিতির সভাপতি জেলা প্রশাসক আজারুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক হারুন জামিল, রশীদ চ্যাটার্জি, তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, মুরসালীন নোমানী; যশোর জেলা সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ রশীদ, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খায়রুল কবীর চঞ্চল, এনসিপি নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ জুয়েলসহ ঢাকাস্থ যশোরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
যশোর সাংবাদিক ফোরামের আহ্বায়ক মাহমুদ সোহেল সভাপতির বক্তব্যে বলেন, যশোরের যে কোন উন্নয়নে পাশে থাকবে যশোর সাংবাদিক ফোরাম। যশোর ঐতিহ্য এগিয়ে থাকলে উন্নয়নে অনেক পিছিয়ে। যোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের মধ্যে একটি আদর্শ ও উন্নত জেলা হিসেবে যশোরকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিকরা।
যশোরের মানুষের মাঝে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় যশোর সাংবাদিক ফোরাম নানা সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন যশোর সাংবাদিক ফোরামের আহ্বায়ক।
অনুষ্ঠানে যশোর সাংবাদিক ফোরামের সদস্য সচিব নাজিম উদ দৌলা সাদি, মুখ্য সংগঠক হাসান ওয়ালী, যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ সাইফুল্লাহ, সৈয়দ আহসান কবীর, তানভীর হোসেন, ইফতার বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব হাবিবুল ইসলাম, খাজা মেহেদি শিকদারসহ রকি আহমেদ, মুতাসিম বিল্লাহ, এফ এ শাহেদ, আব্দুস সালাম আজাদ, এ আর আজাদ, পলিয়ার ওয়াহিদ, জয়নাল হোসেন, মাহবুব হোসেন, তৌহিদুল ইসলাম, ফয়সাল আহমেদ, রাকিবুল হাসান তামিম, এনামুল হোসেন, তারিনা সুলতারা সোনিয়া, বায়েজিদ হুসাইনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।