‎‎কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম
আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ভাইরাল তাইজুল ইসলাম

‎‘অভাব আর মানুষের অবহেলাকে ভুলে থাকতে ভিডিও বানাই’

মো. তাইজুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত
মো. তাইজুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল নারায়ণপুরের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. তাইজুল ইসলাম। ছয় ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। পেশায় একজন রাজমিস্ত্রির সহকারী (হেলপার)। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কাজের ফাঁকে শখের বশে মজার ভিডিও তৈরি করেন।

অভাব অনটনের সংসারে পরিবারের দুঃখ-কষ্ট ভুলতে হাতে নিয়েছেন বুম আর মোবাইল। ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট দেন। তাজুর আশা, ফেসবুক বদলে দিবে তার ভাগ্য। একমাস না যেতেই সেই আশা আর স্বপ্ন বাস্তবে ধরা দেয়।

‎সংসারের অভাবই শুধু তাকে বেদনা দেয়নি, নিজের জন্মস্থান নারায়ণপুরের অবহেলিত পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর জন্য মন কাঁদে তার। তাই প্রতিটি ভিডিও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। ‎ ‎২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত একটি ভিডিও ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তাকে স্থানীয় একটি দোকানে গিয়ে জিলাপি বিক্রি নিয়ে কথা বলতে দেখা গেছে। ‎ ‎ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘এখানে অনেক দোকানপাট, অনেক জিলাপি ভাজতেছে। তার কাছে আমি প্রশ্ন করব- জিলাপি কত করে বিক্রি করে, সাদাডা কত, লালডা কত? পরে তিনি দোকানিকে প্রশ্ন করেন, ‘জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে? যদি জনগণকে বলতেন তাহলে অনেক খুশি হইতাম।’ ‎ ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ লাখ (৫ মিলিয়ন) মানুষ দেখেছেন। ‎ ‎ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ ভিডিওটি বিনোদন হিসেবে দেখছেন ও প্রশংসা করছেন, আবার কেউ ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করছেন।

‎তাইজুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তার পরিবারে বাবা, মা, তিন ভাই ও তিনবোন নিয়ে সংসার। দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। সংসারে তাইজুল সবার বড়। বাকিরা পড়াশোনা করছে। নিজের বাড়িভিটা নেই। অন্যের ভিটায় বসবাস করেন। বাবা-মা শ্রবণ প্রতিবন্ধী। মা রাস্তায় মাটির কাজ করেন। অভাবী সংসারে তাইজুল ঢাকায় নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

তিন/চারমাস কাজ করে যখন বাড়িতে আসেন তখন তিনি ভিডিওর কাজ করেন। বিনোদন প্রেমি তাইজুল গান বাজনার দলের সঙ্গে থাকতে পছন্দ করেন। সংসারের দুঃখ কষ্ট ভুলতে তিনি এ ধরনের কাজে যুক্ত হন। প্রত্যন্ত এই এলাকায় আসতে চারটি নৌঘাট পাড়ি দিতে হয়। ফলে সাংবাদিকসহ কেউ এখানে আসেন না।

নিজে সাংবাদিক নয় পরিচয় দিয়ে তিনি জানান, মনের কষ্ট ভুলতে এবং এলাকার উন্নয়নে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তিনি ভিডিও করেন।

তাইজুল ইসলাম বলেন, আমি সাংবাদিক না। আপনারা সাংবাদিকরা নারায়ণপুরে আসেন না, আমাদের এলাকার নিউজ করেন না। আপনাদের এখানে আনার জন্য আমি ভিডিও করি। আমি বোকাসোকা মানুষ। আমার ভুল হতেই পারে। আপনারা আমাকে ট্রল করেন, এতে আমার কষ্ট নেই। আমি চাই, চরের মানুষের উন্নয়ন হোক।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তিন ঘণ্টা ওঝার ঝাড়ফুঁক, শেষ পর্যন্ত প্রাণ গেল কৃষকের

তিন নতুন জিরো : ইউনূস সরকারের তিক্ত প্রাপ্তি

ফেসবুকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি বিধান নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আইসিএবির উদ্যোগে ‘উইমেন ইন লিডারশিপ অ্যান্ড গভর্ন্যান্স কনফারেন্স ২০২৬’

স্লোগান লেখা নিয়ে উত্তেজনা, কারাগারে ছাত্রলীগ নেতা

নাহিদ রানার ভয়ে কাঁপছে অস্ট্রেলিয়াও

এআইইউবিতে নোবেলজয়ী ড. অ্যান ল’হুইলিয়ারের ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত

দ্বিতীয় ধাপে ১০০ উপজেলা-পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করবে এনসিপি

রাজশাহীর আম যাচ্ছে ফ্রান্সে

আরেক প্রশাসকের বিদেশযাত্রার আবেদন বাদ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

১০

নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার

১১

২ কোটি টাকা নিয়ে নারী হকির পাশে ব্র্যাক ব্যাংক

১২

সিআইডি পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ, যুবক গ্রেপ্তার

১৩

হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ইরানের ওপর ইইউ’র নতুন নিষেধাজ্ঞা

১৪

নারী ফুটবলারদের পাশে আমিনুল হক

১৫

কর্ণফুলীতে ভেসে উঠল মরদেহ

১৬

ট্রাম্পের অনুরোধে ইরানে হামলা স্থগিত করেছে ইসরায়েল!

১৭

টেস্ট দলে কি জায়গা হারাচ্ছেন শাহীন আফ্রিদি?

১৮

সাড়ে ১৭ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ঝুঁকিতে বাংলাদেশ : বাণিজ্যমন্ত্রী

১৯

ইরানের আকস্মিক হামলার পর ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ফোনালাপ

২০
X