সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সুরঞ্জিত ‘হত্যাচেষ্টা’: সিলেট আদালতে আরিফ, গউছ, বাবরের জবানবন্দি

ছবি : কালবেলা
ছবি : কালবেলা

সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ওপর গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় ও বিস্ফোরক মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন শ্রম, কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সরকার দলীয় হুইপ জিকে গৌছ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারের আদালতে তারা সশরীরে উপস্থিত হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় জবানবন্দি দেন। তারা সবাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে মামলাটি মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করে অব্যাহতির আবেদন জানান।

বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী ও সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এটিএম ফয়েজ। তিনি বলেন, মামলার রায় প্রদানের আগে আজ ৩৪২ ধারায় আদালতে আসামি পরীক্ষা করা হয়। এতে আরিফুল হক, লুৎফুজ্জামান বাবার, জিকে গৌছসহ অন্য আসামিরা স্বশরীরে আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এ সময় নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন তারা। শুনানি শেষে আদালত আগামী ২১ এপ্রিল যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ নির্ধারণ করেন।

তিনি আরও বলেন, মামলায় উপস্থাপিত ৬৭ জন সাক্ষীর কেউই আসামিদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা বলেননি। এ কারণে তারা আশা করছেন, পর্যাপ্ত ও জোরাল প্রমাণের অভাবে আসামিরা খালাস পাবেন। ৩৪২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হওয়ায় এখন মামলাটি যুক্তিতর্কের পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় ঘোষণা করবেন।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি আবুল হোসেন জানান, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ওপর গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় ও বিস্ফোরক মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন শ্রম, কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সরকার দলীয় হুইপ জিকে গৌছ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর। আসামি পরীক্ষা শেষে আদালত আগামী ২১ এপ্রিল যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জিকে গউছ বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যা মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন। আমাদের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বিএনপিকে দুর্বল করার জন্য এই মামলায় সরাসরি আসামি করা হয়েছে। প্রথম এজাহারে আমাদের নাম ছিল না। পরবর্তীতে সম্পূরক চার্জশিটের মাধ্যমে আমাদের যুক্ত করা হয়। এটি সাংগঠনিকভাবে বিএনপিকে দুর্বল করার একটি অপচেষ্টা। আমরা আদালতে আমাদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করেছি। আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যায়বিচারের কোনো বিকল্প নেই।

লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে এসব কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, তা মানুষ বুঝতে পারে। এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত কিছু বলতে চাই না। বিএনপি ও নেতাকর্মীদের ধ্বংস করার জন্যই এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমাদের নেত্রী ও নেতা তারেক রহমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যও এতে রয়েছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলাসহ এসব মামলার পেছনে একই উদ্দেশ্য ও কারণ কাজ করেছে।

শ্রম, কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যা মামলায় ন্যায় বিচার হলে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হব, খালাস পাব। মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, সাজানো এবং ষড়যন্ত্রমূলক। এই মামলায় আমাদের বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষীই অভিযোগ করেননি। শুরুতে এজাহারেও আমাদের নাম ছিল না, পরে সম্পূরক অভিযোগপত্রে আমাদের যুক্ত করা হয়েছে। আজ আমরা ৩৪২ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া শেষ করেছি। আমরা আদালতের প্রতি আস্থা রাখি। ন্যায়বিচার হলে আমরা সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ প্রমাণিত হব।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে শ্রম, কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সরকার দলীয় হুইপ জিকে গৌছ, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। এ সময় বিপুলসংখ্যক আইনজীবী ও দলীয় নেতাকর্মী তাদের ঘিরে রাখেন। মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। শুনানিতে জেলা পিপি আশিক উদ্দিন ও মহানগর পিপি বদরুল আলম চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাইবাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। হামলায় যুবলীগের এক কর্মী নিহত এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ঘটনার পর দিরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর সুরঞ্জিত সেনের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনার দুটি মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জিকে গৌছসহ ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ১২৩ জন সাক্ষী রয়েছেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভাসানী জনশক্তি পার্টির সমাবেশ / ভারতীয় নাগরিকদের পুশইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবি

আল-জাজিরার বিশ্লেষণ / লেবাননকে কেন্দ্র করে ইরান-ইসরায়েল কী সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়াবে

বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য ফ্রি গুগল এআই প্রো নিয়ে এলো টেকনো

আর্জেন্টিনার বেস ক্যাম্পের শহরে বন্দুক হামলা

তুরিন আফরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ‘মাই ট্রি’ অ্যাপ পরীক্ষামূলক চালু

রিসার্চ ডটকম র‍্যাঙ্কিংয়ে  / দেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইইউবি

হামিদ রায়হানের কবিতা : মাটির পতাকার গাঁথা

ঢাবিতে ডেনিশ ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান রাইটস প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়

তিন ঘণ্টা ওঝার ঝাড়ফুঁক, শেষ পর্যন্ত প্রাণ গেল কৃষকের

১০

তিন নতুন জিরো : ইউনূস সরকারের তিক্ত প্রাপ্তি

১১

ফেসবুকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি বিধান দেশে নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১২

আইসিএবির উদ্যোগে ‘উইমেন ইন লিডারশিপ অ্যান্ড গভর্ন্যান্স কনফারেন্স ২০২৬’

১৩

স্লোগান লেখা নিয়ে উত্তেজনা, কারাগারে ছাত্রলীগ নেতা

১৪

নাহিদ রানার ভয়ে কাঁপছে অস্ট্রেলিয়াও

১৫

এআইইউবিতে নোবেলজয়ী ড. অ্যান ল’হুইলিয়ারের ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত

১৬

দ্বিতীয় ধাপে ১০০ উপজেলা-পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করবে এনসিপি

১৭

রাজশাহীর আম যাচ্ছে ফ্রান্সে

১৮

আরেক প্রশাসকের বিদেশযাত্রার আবেদন বাদ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

১৯

নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার

২০
X