

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ উঠেছে। তার নাম মো. জাকির হোসেন জেকে। তিনি উপজেলার চরবানিপাকুরিয়া ইউনিয়নের রান্ধুনীগাছা গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৩০ মার্চ রাত আনুমানিক ৪টার দিকে ভাংগুনী ডাংগা গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের বাড়িতে চুরি হয়।এ ঘটনায় ৫ এপ্রিল ভুক্তভোগীর স্ত্রী পিপাসা মেলান্দহ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আব্দুল কুদ্দুস পরিবারসহ জামালপুর শহরে বাস করলেও গ্রামের বাড়িতে তার মা ও স্বজনরা থাকেন। তিনি মাঝে মাঝে গ্রামের বাড়ি আসেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার রাতে তাদের বাড়ির আশপাশে জাকির হোসেনকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। ওই রাতে তাদের ঘরে চুরি হয়। পরবর্তী সময়ে চুরি হওয়া একটি শাড়ি একই এলাকার শহীদের স্ত্রী নাছিমার কাছে পাওয়া যায়। চুরি হওয়া শাড়ির বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশে নাছিমা চুরির মালামাল কেনার কথা স্বীকার করেন এবং এতে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা উঠে আসে।
জাকির হোসেনকে সালিশে উপস্থিত হতে বলা হলেও তিনি উপস্থিত হননি। সলিশ সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নিতে না পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেন।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী পিপাসা বলেন, ‘আমি অনেক কষ্ট করে মেয়ের জন্য গহনা ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করেছি। সব কিছু চুরি হয়ে গেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।’
গ্রামবাসীরা জানান, জাকিরের মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি তার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জোর্তিময় সরকার জানান, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চুরির আংশিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, এর আগে জাকির হোসেন রান্ধুনীগাছা গ্রামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার কথা বলেন। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। ওই সময় তিনি নিজেই ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।