

ঢাকার ধামরাইয়ে খড় শুকানো নিয়ে বিরোধে প্রতিবেশীদের হামলায় আহত গৃহবধূ লাইলী বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের বৈন্যা গ্রামে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে নিহতের পরিবার, আত্মীয়-স্বজনসহ শত শত গ্রামবাসী অংশ নেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে এনাম হাসপাতালে মারা যান গৃহবধূ লাইলী বেগম (৪০)।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ মে বৈন্যা গ্রামে খড় শুকানো নিয়ে লাইলী বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী শারমান, কায়েস ও নাহিদা বেগমসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা লোহার রড, লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে লাইলী বেগমের ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাভারের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত লাইলী বেগমের মেয়ে জানান, আমি ও মাকে নাহিদা বেগম, শারমান ও কায়েসসহ কয়েকজন মারধর করেন। আমার ফুফু আমাদের বাঁচাতে গেলে তারা আমার ফুফুকেও টেনেহিঁচড়ে মারধর করেন। রাতে আমার মা বাইরে বের হলে তাকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় আমাদের ঘর বাইরে থেকে আটকে দেয়। পরে আমার মাকে কুপিয়ে মেরে রাস্তায় ফেলে রাখে। এভাবে যারা আমার মাকে মেরে ফেললো তাদের ফাঁসি দাবি করছি।
নিহত লাইলী বেগমের ছেলে বলেন, আমার মাকে নিয়ে অনেক হাসপাতাল ঘুরেছি। সবশেষে এনাম হাসপাতালে আইসিইউতে মা মারা যায়। আমার মায়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই।
মানববন্ধনে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা বলেন, সামান্য ধানের খড় শুকানো নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে নাহিদা মেম্বার ও তার ছেলে শারমানের সন্ত্রাসী বাহিনী লাইলী বেগমের ওপর চড়াও হয়। তারা ওই গৃহবধূকে নির্মমভাবে ধরে নিয়ে বেদম মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। ঘটনার পর থেকে মূল আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
বক্তারা অবিলম্বে নাহিদা মেম্বারের ছেলে শারমানসহ সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানান।
ধামরাই থানার ওসি নাজমুল হুদা জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।