

পটুয়াখালীর গলাচিপায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ও দুপুরে উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের উত্তর আমখোলা গ্রাম এবং চরকাজল ইউনিয়নের পশ্চিম চরকাজল গ্রামে এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এ ঘটনায় দুই পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃতরা হলেন আমখোলা ইউনিয়নের উত্তর আমখোলা গ্রামের মো. খলিল হাওলাদারের ছেলে মো. রিয়াজ হাওলাদার (৩০) এবং পশ্চিম চরকাজল গ্রামের মৃত আহমেদ সরদারের ছেলে আলমগীর সরদার (৪৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজ বাড়ির উঠানে কাজ করছিলেন রিয়াজ হাওলাদার। এ সময় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে একই দিন দুপুরে পশ্চিম চরকাজল গ্রামে আরেকটি বজ্রপাতের ঘটনায় প্রাণ হারান কৃষক আলমগীর সরদার। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর বৃষ্টি শুরু হলে তিনি বাড়ির পাশের মাঠে থাকা নিজের গরু আনতে যান। গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আকস্মিক বজ্রাঘাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নামাজ শেষে পরিবারের সদস্যরা আলমগীর সরদারকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে দূর থেকে গরুগুলোকে একটি স্থানে জড়ো হয়ে থাকতে দেখে তারা সেখানে যান। কাছে গিয়ে তাকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়রা নিশ্চিত হন যে বজ্রাঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, আমখোলা এলাকায় বজ্রপাতে আহত এক কৃষকের হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ গলাচিপায় আনার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে চরকাজল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে বজ্রাঘাতেই আলমগীর সরদারের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।