

ভারতের অব্যাহত পুশ-ইন কার্যক্রমের প্রভাব এবার শেরপুর সীমান্তেও দেখা গেছে। জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া বিওপির অধীন ১১৮ নম্বর সীমান্ত পিলারের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৪০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থানরত ছয় ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য ও স্থানীয় জনসাধারণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
ঘটনাটি শুক্রবার দুপুরে ঘটলেও শনিবার (৬ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন ময়মনসিংহ ৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ২২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বাবুরামবিল ক্যাম্পের আওতাধীন চেরাংপাড়া এলাকায় ছয় ব্যক্তিকে ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে এনে মানবপাচারকারী চক্রের সহায়তায় বাংলাদেশে পুশ-ইনের উদ্দেশ্যে রাখা হয়। পরে কাটাতারবিহীন সীমান্ত এলাকা দিয়ে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর পরিকল্পনা করা হয়। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বিএসএফের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
বিজিবি আরও জানায়, ঘটনার পর থেকে সীমান্তের সব বিওপিতে জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। সম্ভাব্য পুশ-ইনপ্রবণ এলাকায় ২৪ ঘণ্টা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি মাইকিং করে স্থানীয়দের সচেতন করা হচ্ছে এবং সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে জনসচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হচ্ছে।
এ ছাড়া, তথ্যদাতা নিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশি দালাল ও মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছে বিজিবির টহল দল। মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ বলেন, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষা এবং সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে ৩৯ বিজিবি দিনরাত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সীমান্তে মাদক পাচার, চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশ-ইন প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।