

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে আবারও বন্দর অচল করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ মোড়ে টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদে কালো পতাকা মিছিল এবং সমাবেশ করেন শ্রমিকরা। মিছিল ও কালো পতাকা নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে রওনা দেন তারা। তাদের মিছিলটি কিছুদূর যাওয়ার পরই পুলিশ বাধা দিলে বারিক বিল্ডিং মোড়ে মিছিল সংক্ষিপ্ত করেন শ্রমিকরা।
মিছিল পরবর্তী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস. কে. খোদা তোতন, টিইইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক মো. তসলিম হোসেন সেলিম।
বক্তারা বলেন, বন্দর কোনো ব্যবসায়িক পণ্য নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। তাই জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো ধরনের কনসেশন বা ইজারা চুক্তি গ্রহণযোগ্য হবে না।
এছাড়া শ্রমিক, কর্মচারী ও সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা।
স্কপ চট্টগ্রামের যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার কামাল খান কালবেলাকে বলেন, আগ্রাবাদ মোড় থেকে মিছিল সহকারে আমরা বারিক বিল্ডিং মোড় এলে পুলিশ আমাদের মিছিলটি থামিয়ে দেয়। তাই আমরা ওইখানেই আমাদের কর্মসূচি সমাপ্ত করি। তবে যতই বাধা আসুক যতদিন পর্যন্ত এ ধরনের চুক্তির প্রক্রিয়া থেকে সরকার সরে না আসবে ততদিন আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে।
উল্লেখ্য, ড. ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার আমলে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বন্দরের এনসিটি ইজারা দেওয়ার চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়। সেই চুক্তি বাতিলের দাবিতে স্কপের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হলে সেখানে বিভিন্ন বাম রাজনৈতিক দলসহ বিএনপি নেতৃত্বাধীন শ্রমিকরাও যোগ দেন। একপর্যায়ে চট্টগ্রাম বন্দর অচলের কর্মসূচি শুরু হলে চুক্তি স্বাক্ষর স্থগিত করে অন্তর্বর্তী সরকার।