গলাচিপা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:৫১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

নিজ উদ্যোগে ৭০ বছর ধরে গাছ লাগাচ্ছেন সিরাজুল

বৃক্ষপ্রেমিক সিরাজুল ইসলাম। ছবি : কালবেলা
বৃক্ষপ্রেমিক সিরাজুল ইসলাম। ছবি : কালবেলা

গাছ লাগানো ও পরিচর্যা করাই যার নেশা। নিজের বাড়ি তো বটেই এলাকার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি খোলা জায়গায় গাছ লাগিয়ে বেড়ান তিনি। নিজের পকেটের টাকায় গাছ লাগানোই তার আনন্দ। সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে গাছ লাগিয়ে প্রায় ৭০ বছর পার করেছেন গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের পূর্ব আটখালী গ্রামের সিরাজুল ইসলাম (৮২)।

গ্রামে তিনি বৃক্ষপ্রেমিক নামে পরিচিত। এ ৭০ বছরে ৫০ হাজার গাছ রোপণ করেছেন তিনি। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা ১২ মাস নিজের টাকা খরচ করে এলাকায় এলাকায় গাছ লাগান এবং মানুষকে গাছ লাগানোর জন্য ও গাছের পরিচর্যা করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন।

পটুয়াখালী শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে ডাকুয়া গ্রামের টিনশেডের ঘরে বসে কথা হয় সিরাজুলের সঙ্গে। পরে নিজেই গ্রাম ঘুরে ঘুরে দেখান তার লাগানো গাছগুলো। পরম মমতায় গাছগুলো বেড়ে উঠছে। কোনো গাছ ৫০ বছরের পুরোনো। নিজের সন্তানের মতোই সযত্নে প্রতিপালন করছেন এসব গাছ।

তিনি জানান, বাবা আলতাফ হোসেন হাওলাদারের সাত ছেলের মধ্যে তিনি সবার ছোট। ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল (এমএ) পাস করেন ১৯৮৬ সালে। গলাচিপা শহর ও নিজ গ্রামের কয়েকটি মসজিদে ইমামতির চাকরি করেছেন।

ছোটবেলা থেকেই গাছ লাগানোর প্রতি ঝোঁক ছিল উল্লেখ করে সিরাজুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, ‘গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়। ছায়া দেয়। ফল দেয়। গাছের ছায়ায় ক্লান্ত পথিক বিশ্রাম নেন। গাছের পাতা মাটিতে পচে জৈব সার হয়।’

তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ চারা আমি নিজের বাড়িতে তৈরি করি। আবার কিছু বাজার থেকে কেনেন। মূলত বর্ষায় গাছ লাগাই। বাকি সময় গাছের পরিচর্যা করি।’

তার রোপণ করা গাছের মধ্যে আছে—সুপারি, নারিকেল, পেয়ারা, জাম্বুরা, গাব, তাল, মেহগনি, রেইনট্রি, সুন্দরী ইত্যাদি।

প্রতিবেশীরা জানান, সিরাজুল ইসলাম হাওলাদার সরকারি রাস্তার দুই পাশে ও অন্যের জমিতেও গাছ লাগান। নিজের বাড়ি, গ্রামের পতিত জায়গা, সরকারি রাস্তার দুই পাশসহ সব সর্বত্রই সিরাজুল ইসলাম হাওলাদারের লাগানো গাছ চোখে পড়ে। গাছ লাগানো যেন তার নেশা ও পেশা।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, ‘সিরাজুল ইসলাম হাওলাদারের গাছ লাগানোর অভ্যাস আমাকে মুগ্ধ করেছে। তার এ কাজ প্রশংসার দাবিদার।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে সব রকম সাহায্য সহযোগিতা করব।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জকসু নির্বাচন : দুপুর থেকে বেড়েছে ভোটার উপস্থিতি

জকসু নির্বাচন / ভোটাররা ৩টার পর ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না

বিয়ের মঞ্চেই ‘জাস্টিস ফর হাদি’ প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ 

তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে স্বাগত জানাল আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম

বাংলাদেশিদের নিয়ে ট্রাম্পের পোস্ট, যুক্তরাষ্ট্রে আতঙ্ক

মাছ শূন্য হওয়ার শঙ্কায় বঙ্গোপসাগর, প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন

ছাত্রদলের বিরুদ্ধে পেশিশক্তি প্রদর্শনের অভিযোগ ছাত্রশক্তি সমর্থিত প্যানেলের ‎ ‎

নির্বাচনে লড়বেন যে ৩১ ঋণখেলাপি

কারসাজি করে এলপি গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে : জ্বালানি উপদেষ্টা

শিবিরের ভিপি প্রার্থীর স্ত্রীকে হেনস্তার পর পুলিশে দেওয়ার অভিযোগ ‎ ‎

১০

ভোট সংশ্লিষ্টদের নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জবি শিক্ষক সমিতির

১১

ইউল্যাব ও মেডিক্সের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

১২

জকসুতে প্রথম ৩ ঘণ্টায় ভোটার উপস্থিতি কম

১৩

অলৌকিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠছেন বিশ্বকাপজয়ী মার্টিন

১৪

মাহফিল থেকে ফেরার পথে বক্তার গাড়িতে ডাকাতি

১৫

ভেনেজুয়েলায় মাঝরাতে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে গুলি

১৬

এবিবির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন, সেক্রেটারি আহসান জামান

১৭

শীতে কাঁপছে সাতক্ষীরা, তাপমাত্রা নামল ১০ ডিগ্রিতে

১৮

ঘরের ভেতরে পড়ে অসুস্থ মাহাথির মোহাম্মদ

১৯

৪০ কোটি টাকার শেয়ার কিনবেন তপন চৌধুরী

২০
X