আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের হেভিওয়েট প্রার্থীদের চমক দেখিয়ে নৌকার মাঝি হলেন মো. রশিদুজ্জামান মোড়ল। পাইকগাছা আওয়ামী লীগে দীর্ঘদিন কোণঠাসা হয়েও হাল না ছেড়ে দলের জন্য কাজ করে যাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান অতঃপর আওয়ামী লীগের নৌকার মাঝি হলেন তিনি।
টানা দুইবার পাইকগাছা উপজেলার ২ নং কপিলমুনি ইউপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এরপর ২০০৯ সালে পাইকগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করার জন্য দল থেকে বহিষ্কারও হন তিনি। পরে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে পাইকগাছা-কয়রার হেভিওয়েট অনেক প্রার্থীদের নাম শোনা গেলেও এমপি প্রার্থী হিসেবে কোথাও পোস্টার, ব্যানার বা গণসংযোগ পযন্ত করেনি মো. রশিদুজ্জামান মোড়ল। বরং জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল আলম এমপি প্রার্থীর প্রচারণায় অংশ নিয়ে সরকারের উন্নয়ন প্রচার সভা করেন।
গত রোববার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যখন দলের মনোনীতদের নাম ঘোষণা করেন তখনও কেউ বিশ্বাস করতে পারেনি মো. রশিদুজ্জামান মোড়ল নৌকার টিকিট পেয়েছেন। নামের কিছুটা মিল থাকায় সাবেক এমপি পুত্র শেখ মো. রাশেদুল ইসলাম রাসেলকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে অভিনন্দন জানাতে থাকে।
পরে মো. রশিদুজ্জামান মোড়লের জন্মস্থান আগড়ঘআটা বাজার থেকে আনন্দ মিছিল বের হয়ে উপজেলার বিভিন্ন জায়গা প্রদক্ষিণ করে। এদিকে মনোনয়নবঞ্চিত আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন বলে গুঞ্জন চলছে।
জানা গেছে, ছাত্রজীবন থেকে গণমানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার মো. রশিদুজ্জামান মোড়ল আশির দশক থেকে অপরিকল্পিত ও পরিবেশ বিধ্বংসী চিংড়ি চাষবিরোধী আন্দোলন করে পরিচিতি পান। বারবার পুলিশ ও প্রভাবশালী মহলের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। বেশ কয়েকবার জেলও খেটেছেন। এরপরও বারবার কপিলমুনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৯০ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হলেও সেই বিজয়ী ছিনিয়ে নেয় তৎকালীন স্বৈরশাসক এরশাদ।
সাবেক ছাত্র নেতা মো. রশীদুজ্জামান ১৯৮১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর পরই স্বৈরাচারবিরোধী-আন্দোলনে ছাত্রঐক্য পরিষদের ব্যানারে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তৎকালীন স্বৈরাচার সরকার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ১৯৮৩ সালে সামরিক জান্তার হাতে গ্রেপ্তার হয়ে শারীরিক নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে কারাবরণ করেন তিনি। পরে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার প্রবেশপত্র আদালতে দেখিয়ে জামিন নিয়েছিলেন তিনি। এম এ পরীক্ষার পূর্বে আবারও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৮৭ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনের সঙ্গে আরও ৩টা মামলা যোগ করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ মো. নূরুল হকের পক্ষে নির্বাচন পরিচালনা করায় সারা দেশে রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পর তার গোটা পরিবারের ওপর চারদলীয় জোটের দ্বারা অবর্ণনীয় নির্যাতন ও হয়রানি শিকার হয়। ২০০৬ সাল পর্যন্ত ডজনখানেক মামলা মোকাবিলা করতে হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে এলাকায় ফিরে রাজনীতিতে সময় দেওয়ার জন্য চাকরির প্রত্যাশা করেনি সাহসী তরুণ নেতা রশীদুজ্জামান। এলাকায় পড়ে থেকে রাজনীতি ও সামাজিক কাজেই সময় দিয়েছেন তিনি। খুঁজে খুঁজে অনেক সম্ভাবনাময় যুবকদের সংগঠিত করে দলে সম্পৃক্ত করেছেন। যে কারণে অতীতে ওই আসনে আওয়ামী লীগবিরোধী প্রার্থীরা বিজয়ী হলেও বর্তমানের চিত্র উল্টো। জননেত্রী শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্ব এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত প্রার্থীরা যে কোনো নির্বাচনে বিজয়ী হন।
মন্তব্য করুন