লাল-সবুজ রঙের পতাকা আমাদের পরিচয়ের একমাত্র বাহক। এই পতাকা আমাদের মনে করিয়ে দেয় মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত ইতিহাস। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার চিহ্ন বহন করছে এই লাল-সবুজের পতাকা। এই পতাকা আমাদের গর্ব, আমাদের চিরঞ্জীব অহংকার।
শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) দেশজুড়ে পালিত হবে মহান বিজয় দিবস। সেই অপেক্ষায় পুরো দেশবাসী। দেশজুড়ে উড়বে জাতীয় পতাকা। বিজয়ের মাস এলেই লাল-সবুজ ফেরিওয়ালাদের পতাকা বিক্রির ধুম পড়ে। এ সময় ফেরিওয়ালাদের হাতে থাকে বিজয়ের নিশান বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা।
শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় দেখা যায়, পতাকা হাতে ফেরিওয়ালাদের পথচলা, এ যেন এক মুগ্ধকর দৃশ্য। বিজয়ের মাসে ফেরিওয়ালারা রাস্তায় ঘুরে ঘুরে পতাকা বিক্রি করছেন। তাদের দেখে পতাকা কিনতে ক্রেতারাও ভিড় করছেন। যার যার চাহিদা অনুযায়ী নিচ্ছেন পতাকা। শিশুদের হাতেও শোভা পাচ্ছে আমাদের পরিচয়ের বাহক লাল-সবুজের পতাকা।
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরকামারকান্দি গ্রামের সালাউদ্দিন আহমেদ (৩৫) এসেছেন এই উপজেলায় পতাকা বিক্রি করতে। তিনি বলেন, আমার পরিবার দরিদ্র হওয়াতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছি। পরে সংসারের হাল ধরতে হয়। সারা বছর রঙের কাজ করি। বিজয় মাস এলেই রঙের কাজ বাদ দিয়ে জাতীয় পতাকা বিক্রি করতে বিভিন্ন এলাকায় ছুটে যাই। শিবচর থেকে পতাকা বিক্রি করতে করতে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় এসেছি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বাসিন্দা মাহতাব হোসেন জানান, সংসার চালাতে বিভিন্ন সময়ে নানারকম কাজ করেন তিনি। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় বিশেষ দিনগুলো সামনে রেখে জাতীয় পতাকা বিক্রি করেন তিনি গত আট বছর ধরে। এতেই চলে তার পাঁচ সদস্যের সংসার।
সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস মিয়া বলেন, দেশের জন্য নিজের জীবন বাঁজি রেখে এ দেশকে স্বাধীন করেছি। লাল-সবুজের পতাকাই আমাদের মনে করে দেয় বিজয়ের কথা। লাল-সবুজের পতাকা মানুষের মধ্যে বিজয়ের চেতনা জাগিয়ে তোলে।
মন্তব্য করুন