আজহার ইমাম, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৪, ০২:৩৩ পিএম
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৪, ০৩:০১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

দিনাজপুরে সাড়া ফেলেছে সূর্যমুখী ফুলের চাষ

সূর্যমুখী ফুলের ক্ষেত। ছবি : কালবেলা
সূর্যমুখী ফুলের ক্ষেত। ছবি : কালবেলা

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় তৃতীয়বারের মতো চাষ হচ্ছে সূর্যমুখী ফুল। সূর্যমুখী চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন উপজেলার পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের চাষি ডা. তৌফিক এলাহী আনসারী। শুধু তিনিই নন, আরও অনেক কৃষক এবার সূর্যমুখীর ফুলের চাষবাদ করেছেন।

তথ্য মতে, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে তৃতীয়বারের মতো উপজেলার পৌরসভাসহ কয়েকটি ইউনিয়নে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা হচ্ছে। অনাবাদি জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা হয়েছে। তাই এসব জমিতে সূর্যমুখী ফুল চাষ করে ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, গাছে গাছে ফুটেছে সূর্যমুখী ফুল। এসব ফুলেই স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। বাগানগুলো সড়কের পাশে হওয়ায় দূর থেকে তাকালে যে কেউ আকৃষ্ট হতে বাধ্য। প্রকৃতি যেন হলুদ গালিচা বিছিয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে কৃষক ডা. তৌফিক এলাহী আনসারী বলেন, ১১ বিঘা জমিতে আরডিএস-২৭৫ জাতের সূর্যমুখীর বীজ লাগিয়েছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে সূর্যমুখীর চাষ শুরু করি। এখন ফলন দেখে আমি অনেক খুশি।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিনই অনেক দূর-দূরান্ত থেকে বাগান দেখার জন্য দর্শনার্থীরা আসেন। তারা ছবি তুলে আবার ফেসবুকে আপলোডও দিচ্ছেন। যা দেখে আমার অনেক ভালো লাগে।

আরেক কৃষক মনি আরা বলেন, আমি ৫ বিঘা জমিতে আরডিএস-২৭৫ জাতের সূর্যমুখীর বীজ লাগিয়েছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ও দিক নির্দেশনায় সূর্যমুখী চাষ শুরু করছি। এ মৌসুমে জমি থেকে (প্রায়) ২৪ মণের মতো বীজ পাব। উপজেলার ফকির পাড়ার কৃষক জাকির হোসেন, কৃষানী মমতাজ বেগম, মির্জাপুরের মোজাম্মেল, জাহিদুল, ভগবতীপুরের হুয়ায়ুন করিব, চকহরিদাশ পুরের পিয়ারা বানুসহ অনেককেই সূর্যমুখী চাষ করছেন তিন বছর ধরে।

উপজেলার কৃষিবিদ ও কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মেদ কালবেলাকে বলেন, অন্যান্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী ফুল চাষে খরচ কম। সূর্যমুখী ফুলের বীজ নভেম্বর মাসের দিকে রোপণ করতে হয়। বীজ রোপণের তিন থেকে চার দিনের মধ্যে চারা গজায়। এবার এই মৌসুমে উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ১৩৫ জন কৃষককে বিরামপুর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে বীজ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এতে দিওর, জোতবানী ও বিনাইল ও খানপুর ইউনিয়নে সূর্যমুখীর ব্যাপক চাষ হচ্ছে। এ ছাড়াও দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণ করতে এবার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সূর্যমুখী চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছি। কৃষকরা সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হবেন বলে আশা করছি। এ বছর প্রায় ৩৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী তেলবীজের আবাদ হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিএনপি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে : মির্জা আব্বাস 

এনইআইআর কেন অবৈধ হবে না জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুল 

১ মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন

অবিশ্বাস্য জয়ে কোয়ালিফায়ারে সিলেট, কপাল পুড়ল রংপুরের

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন প্রতিবেদন জমা কবে, জানালেন অর্থ উপদেষ্টা

দেব-শুভশ্রীর বিয়ে হলে ভালো হতো : রাজ

আবারও বেকহ্যাম পরিবারকে আক্রমণ, কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আনলেন ছেলে

জামায়াতকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ালেন খেলাফত মজলিসের প্রার্থী

সীমান্তে অর্ধশতাধিক স্থলমাইনের চাপ প্লেট উদ্ধার

ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত আশুলিয়া থানার রুবেল হাওলাদার

১০

এবার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে নতুন প্রস্তাব

১১

গ্রিনল্যান্ডে সামরিক বিমান মোতায়েনের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

১২

ফ্রান্সের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্কারোপের হুমকি ট্রাম্পের

১৩

বিএনপির ২ নেতা বহিষ্কার

১৪

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে : দিপু ভুঁইয়া

১৫

একই দিনে ‘দুইবার’ মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান

১৬

‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাটের আসল পরিচয় প্রকাশ

১৭

এবার র‌্যাঙ্কিংয়ে সেনেগালের ইতিহাস, বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়?

১৮

নারায়ণগঞ্জে কারখানায় বিস্ফোরণ, শ্রমিক নিহত

১৯

থাইল্যান্ড যেতে চান আসিফের সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম, মেলেনি অনুমতি

২০
X