ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৪, ০৮:৪১ এএম
আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৪, ০৯:০৫ এএম
অনলাইন সংস্করণ

ঝালকাঠিতে এসএসসি পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রে ব্যাপক ভাঙচুর করল পরীক্ষার্থীরা

পরীক্ষাকেন্দ্রের শৌচাগারে ব্যাপক ভাঙচুর করে উচ্ছৃঙ্খল পরীক্ষার্থীরা। ছবি : কালবেলা
পরীক্ষাকেন্দ্রের শৌচাগারে ব্যাপক ভাঙচুর করে উচ্ছৃঙ্খল পরীক্ষার্থীরা। ছবি : কালবেলা

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার শেষ দিনে কেন্দ্রে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে উল্লাস করেছে একদল ছাত্র। তারা সবাই ওই কেন্দ্রেরই পরীক্ষার্থী। রোববারের (১০ মার্চ) বিজ্ঞান ও উচ্চতর গণিত (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা শেষে দুপুর একটার পর এ তাণ্ডব চালায় তারা। ঘটনাটি ঘটেছে ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে।

হামলাকারীরা মেয়েদের স্কুলটির ফ্যান, শৌচাগারের দরজা, কমোড ও বৈদ্যুতিক লাইটসহ অন্যান্য শ্রেণি-সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। এতে স্কুলের লক্ষাধিক টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে। এ সংক্রান্ত কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পাওয়া যাচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দোতলায় ২০৩ নম্বর কক্ষে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ১৫ জন এবং উদ্বোধন বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ওই কক্ষের চারটি বৈদ্যুতিক পাখা, তিনটি টিউবলাইট এবং কক্ষ সংলগ্ন প্রসাধন রুমে ছয়টি শৌচাগারের দরজা, ফ্লাশ প্যান, কমোড ভাঙচুর করা হয়েছে। অপরদিকে ২০৫ নম্বর কক্ষে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৬ জন এবং পৌর আদর্শ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ওই কক্ষের দুটি বৈদ্যুতিক পাখা এবং দুটি টিউবলাইট ভাঙচুর করে তারা।

কেন্দ্র সচিব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা এএসএম মাসুম বিল্লাহ। তার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই বলব না। যা বলার প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিব বলবেন।’

কেন্দ্র সচিব এবং ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ছুটিতে আসছি। ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছেন মাসুম বিল্লাহ। ভাঙচুরের ঘটনা শুনেছি।’

বিদ্যালয়ের কর্মচারী (আয়া) মাকসুদা বেগম বলেন, পরীক্ষা শেষ হলে পরীক্ষার্থীরা হৈ হুল্লোড় করে নেমে যায়। পরে রুম পরিষ্কার করতে গিয়ে দেখি সব ভাঙাচোরা। তখন স্যাররাও দায়িত্ব পালন শেষ করে চলে গেছেন।

ঝালকাঠির সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে ওই স্কুলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সুলতান আহম্মেদ বলেন, হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রটিতে সাড়ে ৫০০ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে। সবাই আমার স্কুলের ছাত্র নয়। কিছু মেয়ে পরীক্ষার্থীও পরীক্ষা দিয়েছিল। আর এই বিষয়টি হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয় বা কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ আমাকে জানায়নি। তারপরও ঘটনার তদন্তে যদি আমার স্কুলের ছাত্ররা দোষী প্রমাণিত হয় তবে আমি অভিভাবক ও কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ঝালকাঠি হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয় ও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি, গুরুত্বসহকারে দেখছি।’

কালবেলা
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অবৈধভাবে বসবাসরত প্রবাসীদের সুখবর দিল ইতালি

লেবাননে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি গড়ছে ইসরায়েল

রোমে রেড অ্যালার্ট জারি, তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি ছোঁয়ার আশঙ্কা

ছয় মাসে তুরস্কের আকাশপথ ব্যবহার করেছে ১১ লাখের বেশি ফ্লাইট

ডেমরা পুলিশ লাইন্সে কনস্টেবলের আত্মহত্যা

শনিবার খোলা হতে পারে কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

কেন ফাইনাল দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন না আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট?

বিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দাম

আজকের আবহাওয়া সম্পর্কে এখন পর্যন্ত যা জানা গেল

কমছে ধলাই নদীর পানি, ভাঙন আতঙ্কে এলাকাবাসী

১০

সাগরেই গায়েব ৫৩০ রোহিঙ্গা!

১১

কলকাতা বিমানবন্দরে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদে প্রবেশে বাধা

১২

চাকরিজীবীদের দুই দফায় টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

১৩

এনসিপির সমাবেশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

১৪

জিয়াউর রহমান হত্যা / ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার মোজাফফর, কোথায় ছিলেন এতদিন?

১৫

বিশ্বকাপ ফাইনালে উপস্থিত থাকবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

১৬

শিমুলিয়া ঘাটে টোল আদায়কে কেন্দ্র করে পর্যটকদের ওপর হামলা

১৭

চোরাই পথে জ্বালানি তেলের কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য

১৮

‘বিদায় পৃথিবী’ লিখে সাংবাদিকের আত্মহত্যা

১৯

আর্জেন্টিনা-স্পেন ম্যাচ রেফারি ছিলেন মাদক মামলার আসামি

২০
X