বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৪, ০৩:৫১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

রাবির ভর্তি পরীক্ষায় ছেলে চতুর্থ, অন্ধকার দেখছেন দিনমজুর আব্দুস সালাম

বাবা-মায়ের সঙ্গে রিয়াদ ইসলাম। ছবি : কালবেলা
বাবা-মায়ের সঙ্গে রিয়াদ ইসলাম। ছবি : কালবেলা

অভাব আর অনটনের সংসার। পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অটোরিকশাচালক বাবা। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট রিয়াদ ইসলাম। পড়ালেখায় আগ্রহী থাকলেও অভাবের কারণে বেশি দূর এগোতে পারেনি তার বড় ভাই। বোনের বিয়ে হয়েছে অনেক আগেই।

দুঃখ-কষ্টের সংসারে রিয়াদই এখন বাবা-মায়ের একমাত্র আশার আলো। আর তাই দিনরাত এক করে অটোরিকশা চালিয়ে ছেলেকে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেই চলছেন দরিদ্র বাবা। ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে বুকে আশা বুনেছেন রিয়াদের বাবা-মা।

রিয়াদ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ৫নং মহাদিপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের দুর্গাপুর গ্রামের মো. আব্দুস সালাম ও মোছা. লাইজু বেগম দম্পতির ছোট ছেলে।

এদিকে রিয়াদও থেমে নেই। পড়ালেখায় ইতোমধ্যে সফলতার সাক্ষর রেখেছেন তিনি। স্কুল ও কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। চতুর্থ স্থান অর্জন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায়। ভর্তিযুদ্ধে এই সফলতার পরও চোখে অন্ধকার দেখছেন তিনি। কেননা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া, খাতা-কলম, থাকা-খাওয়াসহ বড় অঙ্কের টাকা প্রয়োজন প্রতি মাসে। নানা খরচের টাকার জোগান কীভাবে আসবে তা ভেবে ভেঙে পড়েছেন রিয়াদ।

দুশ্চিন্তায় অন্ধকার দেখছেন দিনমজুর পিতা। কীভাবে চালাবেন ছেলের বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয়ভার তার কোনো কুলকিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি।

জানা যায়, কিছু আবাদী জমি থাকলেও ছেলের পড়ালেখার জন্য অনেক আগেই তা বন্ধক রাখেন আব্দুস সালাম। শুধু তাই নয়, পরিবারের সদস্যদের মুখে আহার জোটানো এবং ছেলের পড়ালেখার খরচ চালাতে অনেক সময় আত্মীয়স্বজন, ভাইবোনদের কাছেও হাত পাততে হয় তাকে। এমনকি বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ করেছেন তিনি।

স্কুল-কলেজ ও কোচিং শিক্ষকদের কাছেও বাকি রেখেছেন রিয়াদের পড়ালেখার ফি। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েও সব বাধা-বিপত্তি আর লজ্জাকে উপেক্ষা করে ছেলের পড়ালেখা চালিয়ে নিতে পিছু হটেননি এই বাবা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পর তিনি কীভাবে এর ব্যয়ভার বহন করবেন তিনি এ চিন্তায় অস্থির হয়ে উঠেছেন তিনি।

রিয়াদ ইসলাম কালবেলাকে জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রতিটি গ্রুপে ১৮ হাজার করে ৪টি গ্রুপে সর্বমোট ৭২ হাজার পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে সে চতুর্থ স্থান অধিকার করে। শুধু তাই নয় সে ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। ভালো কিছু করতে পারলে বাবা-মায়ের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করতে, পাশাপাশি দেশের জন্য অবদান রাখতে চান রিয়াদ ইসলাম।

রিয়াদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। সরকার ও বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে রিয়াদ ইসলাম দেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

কালবেলা
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৬০ বছরের স্বপ্ন ভঙ্গ, চোখের জলে বিদায় নিল ইংল্যান্ড

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিশুদের মতো উল্লাসে মেসি

ইংল্যান্ডকে কাঁদিয়ে আবারও ফাইনালে আর্জেন্টিনা

বাড়ির সামনে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

হাফটাইমের আগে গোলের দেখা পেল না কেউ

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা / সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

জামায়াতে যোগ দেননি সাদিক কায়েম

এক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা

পুকুরে গোসলে নেমে প্রাণ গেল ২ শিশুর

জুলাইয়ের অন্যতম শহীদ ওয়াসিমের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

১০

বাবার চেয়ে ছেলের বয়স ‘বেশি’

১১

মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে কুপিয়ে জখম

১২

যুবককে বাড়ি থেকে তুলে এনে মোবাইল ফেরত দিলেন ওসি

১৩

রাষ্ট্রপতির বাণী / জুলাই গণঅভ্যুত্থান জনগণের ক্ষোভের বিস্ফোরণ 

১৪

মাঝ আকাশেই থেমে গেল রেমিট্যান্স যোদ্ধা ফখরুলের জীবন 

১৫

নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষা বাতিল

১৬

সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ, দুশ্চিন্তায় মার্কিন প্রশাসন-এফবিআই

১৭

শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা, অভিযোগের তীর আপন চাচির দিকে

১৮

বাংলাদেশে উগ্রবাদের কোনো ঠাঁই হবে না: প্রধানমন্ত্রী

১৯

বর্ষা এলেই দুর্ভোগ বাড়ে শিক্ষার্থীদের

২০
X