রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৪, ০৭:০৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সর্বজনীন পেনশন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রত্যাহারের দাবি বেরোবি শিক্ষক সমিতির

বেরোবি ক্যাম্পাসের রাসেল চত্বরে শিক্ষকদের কালো ব্যাজ ও মৌনমিছিল। ছবি : কালবেলা
বেরোবি ক্যাম্পাসের রাসেল চত্বরে শিক্ষকদের কালো ব্যাজ ও মৌনমিছিল। ছবি : কালবেলা

সরকারের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনার আওতাভুক্ত থেকে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রত্যাহারের দাবিতে মৌনমিছিল ও কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচি পালন করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শিক্ষক সমিতি।

মঙ্গলবার (১৪ মে) বেলা ১১টায় ক্যাম্পাসের রাসেল চত্বরে শিক্ষকরা কালো ব্যাজ ধারণ করে মৌনমিছিল বের করেন। মৌনমিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেখ রাসেল চত্বরে এসে শেষ হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

মৌনমিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, বেরোবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. বিজন মোহন চাকী ও সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান মন্ডল আসাদ।

বক্তারা বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে যোগদানকৃতদের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনার আওতাভুক্ত করার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তা বৈষম্যমূলক। এ ধরনের বৈষম্য বাংলাদেশের সংবিধানের মূল চেতনার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে শিক্ষাদর্শনের চেতনা থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্বায়ত্তশাসন দিয়েছিলেন, এ প্রজ্ঞাপন সেই চেতনাকে অবজ্ঞা ও অবমাননা করার শামিল।

বক্তারা আরও বলেন, সর্বজনীন বলতে আমরা বুঝি, সবার জন্য। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিক্ষকদের ওপর যে স্কিম চালু করা হচ্ছে, এটি খুবই বৈষম্যমূলক। নতুন যেই পেনশন স্কিম সরকারি কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য চালু করা হলো সেটা কীভাবে সর্বজনীন পেনশন স্কিম হয়? সর্বজনীন মানে সবার জন্য- এতে কি কোনো অস্পষ্টতা আছে? সবার জন্য যদি হয়, তাহলে সরকারি কর্মকর্তারা এর আওতার বাইরে থাকবেন কেন?

বক্তারা বলেন, প্রত্যয় স্কিমটি নামে সর্বজনীন হলেও আদতে সর্বজনীন নয়। সরকারের ৩টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান-সামরিক ও বেসামরিক আমলাতন্ত্র ও বিচার বিভাগকে এই প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে একে সর্বজনীন বলার সুযোগ নেই। স্কিমটি যদি সত্যিই সর্বজনীন হয়ে থাকে তবে একে অধিকতর সর্বজনীন করার জন্য সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র ও বিচার বিভাগকেও এর আওতায় আনা হোক। তা না হলে তড়িঘড়ি করে জারি করা এই অন্যায্য ও বৈষম্যমূলক স্কিম অবিলম্বে বাতিল করা হোক।

সর্বজনীন পেনশনে নতুন স্কিম ‘প্রত্যয়’

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কী লাভ, কী ক্ষতি তুলে ধরে শিক্ষক নেতারা বলেন, এই স্কিম চালু হলে দেশের স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে অবসর গ্রহণকারী কর্মীদের অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা কমে যাবে। ফলে দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতে মেধাবীরা ভবিষ্যতে অনাগ্রহী হবেন। প্রত্যয় স্কিমের আওতায় অবসরভোগীরা যে পরিমাণ অর্থ প্রতি মাসে পাবেন, তা নির্দিষ্ট নয়‒ এর হ্রাস-বৃদ্ধি হতে পারে। অন্যদিকে বর্তমান পেনশন বিধি অনুযায়ী, প্রতিবছর অবসরভোগীদের প্রদেয় অর্থ শতকরা পাঁচ ভাগ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে প্রচলিত অবসর ভাতাকে প্রতিবছর মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করার এই পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। কিন্তু প্রত্যয় স্কিমের আওতায় স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য তা বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যয় স্কিমে অবসরজনিত সুবিধা বা আনুতোষিক কিংবা কর্মীদের অর্জিত কিন্তু অভোগকৃত ছুটির নগদায়ন সম্ভব নয়।

তারা বলেন, বর্তমানে পাঁচ বছর চাকরি করলেই একজন কর্মীর পরিবারের সদস্যরা নির্ধারিত হারে মাসিক পেনশন প্রাপ্য হন; অথচ প্রত্যয় স্কিমের আওতায় চাকরির সময় ১০ বছরের কম হলে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা শুধু জমাকৃত অর্থ ও এর মুনাফা একবারে প্রাপ্য হবেন। এতে এসব কর্মীর পরিবারগুলোর যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত হবে না। অথচ বৈষম্যমূলকভাবে শুধু সরকারি কর্মচারীদের পরিবারই আগের নিয়মে পেনশন প্রাপ্য হবেন। বর্তমান পেনশন ব্যবস্থাপনায় পারিবারিক পেনশন থাকার কারণে অবসরভোগীর অবর্তমানে তার স্ত্রী বা স্বামী কিংবা প্রতিবন্ধী সন্তান আজীবন পেনশন পাবেন। এমনকি তার অবিবাহিত কন্যারাও এর কিছু সুবিধা পাবেন। এর সঙ্গে মূল অবসরভোগীর বয়সের কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ প্রত্যয় স্কিমে অবসরভোগী কর্মী ৭৫ বছর বয়সে মারা গেলে তার পরিবারের কোনো সদস্য আর কোনো সুবিধা পাবেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নিজস্ব পরিচয় রয়েছে, নিজস্ব সিন্ডিকেট রয়েছে, সিনেট রয়েছে। অতএব, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কখনই যায় না। আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এ প্রতিবাদ নীতিনির্ধারকসহ প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছাবে এবং বৈষম্যমূলক এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হবে। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আলাদা স্বতন্ত্র বেতনকাঠানো প্রণয়নসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। নতুবা দাবি আদায়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালবিদ্যালয় পরিবার সব ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন শিক্ষক নেতারা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ

২০ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ দুই বাহিনীর হাতে, ঢুকতে লাগে অনুমতি!

ঘোষণা দিয়েও ইসলামী আন্দোলনের আমিরের আসন ছাড়েনি জামায়াত

সব রেকর্ড ভেঙে দেশে স্বর্ণের দামে ইতিহাস

দুই দেশ থেকে ফেরত এলো ৫৬০০ পোস্টাল ব্যালট

বাবা হতে চলেছেন সৌম্য সরকার

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমিরের সম্মানে যে ২ আসন ছাড়ল ইসলামী আন্দোলন

শুধু পড়াশোনার চাপ নয়, শিশুদের আগ্রহের বিষয়টিতে উৎসাহ দেওয়া জরুরি

ফেব্রুয়ারির শুরুতেই যেভাবে মিলবে ৪ দিনের ছুটি

১০

আমার কর্মীদের ভয়ভীতি দেওয়া হচ্ছে : মহিউদ্দিন আহমেদ

১১

আলিফ হত্যা মামলা / নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেন চিন্ময় ব্রহ্মচারী

১২

আমির হামজার সকল ওয়াজ-মাহফিল স্থগিত ঘোষণা

১৩

ভারতীয়দের ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধা প্রত্যাহার দুই দেশের

১৪

পঞ্চগড়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির ‘হ্যাঁ যাত্রা’ ক্যাম্পেইন

১৫

শাকসু নির্বাচন নিয়ে উত্তাল শাবি

১৬

খড়িবাহী ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল মা-মেয়ের

১৭

দেশে প্রথম বেস আইসোলেশন প্রযুক্তিতে ফায়ার সার্ভিস ভবন নির্মাণ করছে গণপূর্ত

১৮

সাইড দিতে গিয়ে ট্রাকের নিচে মোটরসাইকেল, মা-মেয়ে নিহত

১৯

নির্বাচনকালীন সহিংসতা রোধে মাজআসের গোলটেবিল আলোচনা সভা

২০
X