শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৪, ১০:২৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

চাহিদার চেয়ে বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত

খামারে গরু পালন। ছবি : কালবেলা
খামারে গরু পালন। ছবি : কালবেলা

ঈদুল ফিতরের আবেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হতে যাচ্ছে কোরবানি ঈদের আনুষ্ঠানিকতা। কোরবানিকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন শেরপুরের খামারিরা। সম্পূর্ণ দেশীয় খাবারের ওপর ভিত্তি করে এসব খামারে কোরবানির পশু লালন পালন করা হচ্ছে।

তবে প্রতিবছর এ সময়ে কিছু চক্র ভিনদেশ থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে চোরাই গরু দেশে আনতে উঠে পরে লেগে যায়। ফলে গরুর বাজারদর কমে যায়। এতেই স্থানীয় খামারিরা কাঙ্ক্ষিত দাম পায় না। এ ব্যাপারে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও পুলিশ প্রশাসন তৎপর আছে বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়াও জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের কাছে এ ব্যাপারে সহায়তাও চেয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার ৫টি উপজেলার ছোট বড় প্রায় ১৩ হাজার ৭৩১ জন খামারি রয়েছেন। এ ছাড়াও অনেক পরিবার ব্যক্তিগতভাবে গরু, মহিষ ও ছাগল পালনের সঙ্গে জড়িত। এবার কোরবানির জন্য শেরপুর জেলায় ৫১ হাজার ২২৫টি পশুর চাহিদা থাকলেও প্রস্তুত হয়েছে ৮৩ হাজার ৮০২টি পশু। যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩২ হাজার বেশি। পশুগুলো হলো- ৪০হাজার ২৭০টি ষাঁড়, ২হাজার ৮৬৫টি বলদ, ১৩হাজার ৭৯৪টি গাভি, ১হাজার ৩৮৬টি মহিষ, ২২হাজার ৩৯টি ছাগল, ৩হাজার ৪৪৮টি ভেড়া। প্রস্তুত করা এসব পশু নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাইরে হাট বাজারগুলোতে বিক্রি হবে।

সরেজমিনে জেলার কয়েকটি খামারে গিয়ে দেখা যায়, যেসব গরু কোরবানীতে বিক্রি করা হবে সেসব গরুকে পৃথক করে রাখা হয়েছে। নেওয়া হচ্ছে বাড়তি যত্ন। ওই গরুগুলোকে নিয়মিত ডাক্তারি পরীক্ষাও করা হচ্ছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকেও নেওয়া হচ্ছে নিয়মিত খোঁজখবর।

খামারি বিল্লাল হোসেন বলেন, কোরবানি উপলক্ষে আমার খামারে ২০টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব গরুর নিয়মিত যত্ন নেওয়া হচ্ছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়েছে। তবে গোখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় এসব গরুর পেছনে বেশি খরচ হয়েছে। এখন বাজারদর নিয়ে শঙ্কায় আছি।

পাপ্পু নামের সদর উপজেলার এক খামারি বলেন, আমরা যত্নের সঙ্গে গরু লালন পালন করি। নিজেদের ক্ষেতের কাঁচা ঘাস খাওয়ানো হয় গরুগুলোকে। তবে ভারতীয় গরু যদি কোনোভাবে ঢুকে পরে তাহলে আমাদের পরিশ্রম বৃথা যাবে। প্রশাসনের কাছে খামারিদের রক্ষা করতে অবৈধ গরু প্রবেশ বন্ধে এখন থেকেই কাজ করতে হবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার ডা. রেজওয়ানুল হক ভূঁইয়া জানান, কোরবানির পশুকে অসদুপায়ে মোটাতাজা না করার জন্য আমরা বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করেছি। তাছাড়া বিভিন্ন ভেটেরিনারি ফার্মেসিতে নিম্নমানের ওষুধসামগ্রী না রাখার বিষয়ে তদারকি করা হচ্ছে। তবে কয়েক দফায় গোখাদ্যের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে খামারিদের।

দেশে অবৈধ গরু প্রবেশের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে জেলা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতনদের উন্নয়ন সমন্বয় সভায় অবহিত করেছি। সভায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। এই রেজুলেশন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রেরণ করা হবে।

এ ব্যাপারে শেরপুর পুলিশ সুপার মো. আকরামুল হোসেন পিপিএম বলেন, বর্ডার আমার এরিয়া নয়। বর্ডার অন্য সংস্থার আন্ডারে। তবে বর্ডার ফাঁকি দিয়ে আমার এলাকায় অবৈধভাবে গরু প্রবেশ করলে আমি অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

কালবেলা/এমএ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ব্যবসায়ী ‌হত্যা ‌মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চিপ শিল্পে স্বনির্ভরতার পথে চীন

বেফাক ও হাইআতুল উলয়ায় সচেতন আলেম সমাজের ১২ প্রস্তাবনা

রাজধানীতে টিসিবির পণ্য কেনার সময় দেয়াল ধস, নিহত ২

কমিউনিকেশনস পেশাজীবীদের জন্য হাতে-কলমে এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বিসিপিএস

মেয়ের আত্মহত্যার ৩ মাস পর পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

শিশুর মতোই গাছের চারাকে লালন-পালন করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

ইসরায়েলি সেনা পাহারায় আল আকসা মসজিদে শতাধিক অবৈধ বসতি স্থাপনকারীর অনুপ্রবেশ

কর্ণফুলী টানেলের মেইনটেন্যান্স কাজের জন্য ট্রাফিক ডাইভারসন

১০

‘পুলিশ আর কারও লাঠিয়াল বাহিনী হবে না’

১১

তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে নরসিংদীর জনজীবন বিপর্যস্ত

১২

হরমুজ প্রণালি পরিচালনা নিয়ে ইরানকে নতুন প্রস্তাব দিল ওমান

১৩

সাপ কি মরার পরও কামড়াতে পারে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

১৪

সাকিব আল হাসানকে টপকে পরীমনির নতুন রেকর্ড

১৫

জিওব্যাগেও মিলছে না সুরক্ষা, পায়রার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে মির্জাগঞ্জ

১৬

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা / রাষ্ট্রপতি পদে থাকার আগে-পরে অভিযোগ থাকলে আইনি ব্যবস্থা

১৭

গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩,৩৩৩

১৮

দেশে ৫ ধরনের ক্যানসার বাড়ছে, কারণ কী?

১৯

ককটেল বিস্ফোরণে উড়ে গেল প্রবাসীর বাড়ির সেপটিক ট্যাংক

২০
X