

একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপ্রিয়, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করে ভারত। আর এ সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।
ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রণয় ভার্মা এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তী সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম চলাকালে যৌথ ত্যাগের এক অবিস্মরণীয় ইতিহাসসহ আমরা একটি বিশেষ সম্পর্ক ভাগাভাগি করে নিয়েছি। বছরের পর বছর ধরে, সংযুক্তি ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার দ্রুত রূপান্তরমান প্রেক্ষাপটে আমাদের পারস্পরিক আদান-প্রদান এবং যৌথ পারস্পরিক নির্ভরশীলতা আরও সুদৃঢ় হয়েছে, যা আমাদের সমাজ, জনগণ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরস্পরের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতীয় শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে ডিজেল পরিবহনের জন্য আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইন, ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে ভারত ও নেপাল থেকেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ নিয়ে আসা আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন—এসবই প্রমাণ করে ভারত ও বাংলাদেশ একসঙ্গে জ্বালানি সংযুক্তির ভিত্তি স্থাপন করেছে, যা প্রকৃত অর্থে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘আমাদের সরবরাহব্যবস্থা বাংলাদেশের সমৃদ্ধ তৈরি পোশাকশিল্প ও ফার্মাসিউটিক্যাল খাতকে শক্তিশালী করছে, যা পারস্পরিক সহযোগিতা ও নির্ভরশীলতার সুফল প্রমাণ করে।’
তিনি বলেন, দুই দেশের অংশীদারত্ব কীভাবে উভয় পক্ষের জনগণ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সুবিধা বয়ে এনেছে, সেটার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। এই সাফল্যগুলো আরও দূরদর্শী ও ভবিষ্যতের সহযোগিতার উপায় অনুসন্ধান করার প্রেরণা জোগায়।
সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের জন্য আগামীর যাত্রায় শান্তি, সমৃদ্ধি ও সফলতা কামনা করছি। আমরা একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপ্রিয়, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করেছি এবং সেটা অব্যাহত রাখব।’
অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, কূটনীতিক, শিল্পী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ নানা শ্রেণির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন