

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে শেখ রেহানার দুই সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীকে পৃথকভাবে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড ও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকার বিশেষ জজ-৪ আদালতের বিচারক মো. রবিউল আলম এই রায় ঘোষণা করেন। একই রায়ে মামলার অন্য আসামিদেরও অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার বোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীকে পৃথকভাবে ১০ কাঠা করে দুটি সরকারি প্লট বরাদ্দ দেন। মামলাগুলোতে শেখ রেহানার আরেক মেয়ে ও যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শহরে বাড়ি বা ফ্ল্যাট বা আবাসন সুবিধা থাকার পরও তা গোপন করেছেন। এর ফলে প্লট বরাদ্দে আইন, বিধি, নীতিমালা ও আইনানুগ পদ্ধতি লঙ্ঘন হয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রভাবিত করেছেন। মামলার আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নিজেরা লাভবান হয়ে ও অন্যকে লাভবান করার উদ্দেশ্যে পূর্বাচলের নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তার ১০ কাঠা করে প্লট তাদের নামে বরাদ্দ দেন।
জানা গেছে, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর ১৩ ও ১৮ জানুয়ারি আদালত পৃথক এই দুই মামলার রায় ঘোষণার জন্য ২ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেছিলেন।
এ ছাড়াও, জুলাই অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী আমলের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে দুদক ছয়টি মামলা করে।
এর মধ্যে শেখ হাসিনা পরিবারের তিন মামলার রায় ইতোমধ্যেই ঘোষণা হয়েছে। চার মামলায় শেখ হাসিনাকে মোট ২৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে পুতুলকে পাঁচ বছর করে, বোন শেখ রেহানাকে সাত বছর এবং ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিককে দুই বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।
মামলায় মোট ২৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত ১৩ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় এবং একই দিনে খুরশীদ আলম আত্মপক্ষ শুনানিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
মন্তব্য করুন