

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, এবার নির্বাচনে যদি দেশের কোথাও কেন্দ্র দখল হয়, কেউ ছাড় পাবে না। ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করা হবে। তিন দিন হোক বা চার দিন পর হোক, ধরা তাকে পড়তেই হবে।
তিনি বলেন, সবার সহযোগিতায় এবারের নির্বাচন খুব শান্তিপূর্ণ হবে। নির্বাচনে প্রশাসন ও সরকারি বাহিনী সবাই নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ নগরীর সিটি করপোরেশনের সম্মেলন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
শেরপুরের ঝিনাইগাতিতে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা নিহত হওয়ার ঘটনাকে খুবই দুঃখজনক বলে উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার যাচাইবাছাই চলছে এবং যারা দায়ী, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো ঘটনা ঘটিয়ে দুষ্কৃতকারীরা এলাকা থেকে দূরে চলে যায়। এজন্য একটু সময় লাগলেও তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। কোনো ধরনের সহিংসতা, অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি কঠোরভাবে সতর্ক করেন। এছাড়াও পুলিশের জন্য ২৫ হাজার ৭০০ বডি ক্যাম দিচ্ছি। আমরা ড্রোন ব্যবহার করছি, সুরক্ষা অ্যাপ ব্যবহার করছি। এরপরও এবার কেউ যদি কোন রকম কিছু করতে যায় তাহলে সে ভাই হোক বা বোন হোক কেউ ছাড় পাবে না।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে সারা দেশে প্রায় ১ লাখ সেনাবাহিনী, দেড় লাখ পুলিশ, ১০ হাজার র্যাব, ৫ হাজার নৌবাহিনী, ৩৭ হাজার বিজিবি, ৫ হাজার কোস্টগার্ড এবং প্রায় ছয় লাখ আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এর পাশাপাশি বিএনসিসি সদস্যরাও থাকবেন।
তিনি বলেন, শুধু অবৈধ অস্ত্র না, বৈধ অস্ত্রও বাইরে আছে, বিভিন্ন থানা থেকে যেসব অস্ত্র লুট হয়েছে তার সবগুলো এখনো উদ্ধার হয়নি। এরপরও উদ্ধারের পরিমাণ বেড়েছে। আমি আশা করি নির্বাচন পিসফুল হবে।
সাংবাদিকসহ সবার সহযোগিতা কামনা করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এবারে সাংবাদিকদের পোলিং সেন্টারের ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাই সাংবাদিকদের জন্য কোনো সমস্যা হবে না।
মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মিজ্ ফারাহ শাম্মী, রেঞ্জ ডিআইজি আতাউল কিবরিয়াসহ ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন