

জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’। ক্ষমতার লড়াই, অশনি সংকেত আর ভবিষ্যৎ বিপদের প্রতীকী ভাষার জন্যই যার খ্যাতি। সেই সিরিজের সবচেয়ে আলোচিত সংলাপ ‘উইন্টার ইজ কামিং’ এবার জায়গা করে নিয়েছে চট্টগ্রামের রাজপথে। তবে এই বার্তা আর কল্পনার জগতে সীমাবদ্ধ নেই— এবার তা ব্যবহার করা হচ্ছে বাস্তব রাজনীতির প্রচারণায়।
চট্টগ্রামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের জনসভাকে কেন্দ্র করে জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’-এর থিমে তৈরি একটি ব্যানার নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দর স্কুল ও কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভাকে কেন্দ্র করে এই ব্যানারটি নগরে দেখা যায়।
নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিতে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম সফর করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার আগমনের দিন তার ছবি দিয়ে তৈরি এমন পোস্টার ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
নগরের হালিশহর ও চকবাজারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দেখা গেছে, গেম অব থ্রোনস–এর আদলে তৈরি ব্যানার। সেখানে সিরিজের জনপ্রিয় চরিত্র জন স্নোর পরিবর্তে বসানো হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের ছবি। হাতে জন স্নোর তলোয়ারের আদলে রয়েছে দাঁড়িপাল্লা— জামায়াতের নির্বাচনী প্রতীক। পেছনের পটভূমিতে তুষার, নেকড়ের অবয়ব- সব মিলিয়ে পুরো ব্যানারটি যেন সিরিজের পোস্টার থেকেই উঠে এসেছে। নিচে লেখা— ‘দাদু ফ্যান ক্লাব, সিটিজি’।
গেম অব থ্রোনস–এর গল্পে ‘উইন্টার ইজ কামিং’ ছিল কেবল একটি বাক্য নয়; এটি ছিল সতর্কবার্তা- কঠিন সময় আসছে, প্রস্তুত থাকো। স্টার্ক পরিবারের এই মূলমন্ত্রের মধ্য দিয়ে দর্শকদের জানানো হয়েছিল এক অজানা ভয়ংকর ভবিষ্যতের কথা, যেখানে হোয়াইট ওয়াকারসের মতো অশুভ শক্তির আবির্ভাব ঘটবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতীকী ভাষা ব্যবহার করে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে- আগামী সময়কে ‘পরিবর্তনের মুহূর্ত’ বা ‘সংকটের কাল’ হিসেবে উপস্থাপন করা। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পপ কালচারের জনপ্রিয় উপাদানকে কৌশলে রাজনীতির মাঠে নামানো হয়েছে।
রাজনীতিতে পপ কালচারের ব্যবহার নতুন নয়, তবে গেম অব থ্রোনস–এর মতো বিশ্বব্যাপী আলোচিত সিরিজের প্রতীককে সরাসরি রাজনৈতিক বার্তায় রূপ দেওয়ার ঘটনা দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে— যা ইতোমধ্যে নগরজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে এমন ব্যানার নিয়ে বিব্রত অবস্থায় পড়েছে জামায়াত ও তাদের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির। দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, এসব পোস্টারের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত নন।
ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখার প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক জাহিদুল আলম জয় বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কতগুলো ফ্যান পেজ থেকে ছবিগুলো ভাইরাল হয়েছিল। এরপর এগুলো প্রিন্ট কেউ ব্যানার আকারে লাগিয়েছে। এটির সঙ্গে সংগঠনের কোনও সম্পর্ক নেই।
চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, বিষয়টি শুনিনি। সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে এমন কোনও ব্যানার লাগানো হয়নি। এরপরও বিষয়টি নিয়ে খবর নিচ্ছি।
মন্তব্য করুন