কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:৪৮ পিএম
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:৫৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আদালতের কক্ষ থেকে লোহার খাঁচা সরাতে হাইকোর্টে রিট

পুরোনো ছবি।
পুরোনো ছবি।

অধস্তন আদালতের এজলাসকক্ষ থেকে লোহার খাঁচা অপসারণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবী বাদী হয়ে এই রিট করেছেন।

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আগামী সপ্তাহে এই রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।

এর আগে আদালতের এজলাসকক্ষ থেকে লোহার খাঁচা সরাতে গত বছরের ১৬ অক্টোবর আইনসচিব, জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবী।

নোটিশ পাওয়ার চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতের এজলাসকক্ষ থেকে লোহার খাঁচা সরাতে অনুরোধ জানানো হয়। তা না হলে উচ্চ আদালতে রিট করে আইনি প্রতিকার চাওয়া হবে বলে আইনি নোটিশ উল্লেখ করা হয়েছিল।

নোটিশের জবাব না পেয়ে ১০ আইনজীবী আজ রিট করেন। রিটকারী ১০ আইনজীবী হলেন—জি এম মুজাহিদুর রহমান, মোহাম্মদ নোয়াব আলী, সাদ্দাম হোসেন, আবদুল্লাহ সাদিক, মিজানুল হক, মুজাহিদুল ইসলাম, মেসবাহ উদ্দিন, মো. জোবায়দুল ইসলাম, আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী ও সাজ্জাদ সারোয়ার।

রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির সাংবাদিকদের বলেন, দেশের অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে এ ধরনের লোহার খাঁচা অতীতে ছিল না। বর্তমানে প্রায় শতাধিক আদালতে এই ধরনের খাঁচা বিদ্যমান, যার সিংহভাগ ঢাকায় অবস্থিত। এ ধরনের খাঁচা ব্যবস্থা সংবিধানের ৩১, ৩২ ও ৩৫ (৫) অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদে বলা আছে, কারও সঙ্গে নিষ্ঠুর-অমানবিক আচরণ করা যাবে না। অথচ, এই খাঁচা ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের সঙ্গে নিষ্ঠুর, অমানবিক ও বর্বর আচরণ করা হচ্ছে।

রিট আবেদনকারীদের এই আইনজীবী আরও বলেন, সর্বজনীন মানবাধিকার সনদ, নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদসহ অন্যান্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক দলিল এই ধরনের আচরণ অনুমোদন করে না। অন্ধকার যুগে মানুষকে খাঁচায় বন্দি করে রাখা হতো। এই ধরনের নিষ্ঠুর আচরণ করা হতো। বর্তমানে নিম্ন আদালতে এই খাঁচা ব্যবস্থার মাধ্যমে মূলত নিষ্ঠুর আচরণ করা হচ্ছে। এমনকি জামিনে থাকা আসামিদের হাজিরার জন্যও এই খাঁচা ব্যবহার করা হয়। তাদের এই খাঁচায় ঢোকানো হয়। সাক্ষ্যগ্রহণের সময়ও জামিনে থাকা আসামিদের খাঁচায় ঢুকিয়ে রাখা হয়।

রিটে, আদালতকক্ষে লোহার খাঁচা স্থাপনের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, ইতোমধ্যে স্থাপিত লোহার খাঁচা অপসারণ করে কাঠের ডক কেন প্রতিস্থাপন করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে।

যেসব আদালত ও ট্রাইব্যুনালে এ ধরনের লোহার খাঁচা স্থাপন করা হয়েছে, তার একটি তালিকা হাইকোর্টে দাখিলের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয়েছে রিটের প্রার্থনায়।

রুল হলে তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিনে থাকা আসামিদের আদালতকক্ষে লোহার খাঁচায় না ঢোকানোর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয়েছে এই রিটে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শিক্ষার্থীর ওপর হামলার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

চসিকের ২২৬০ কোটি টাকার নতুন বাজেট ঘোষণা

‘হরমুজ প্রণালি ইরানের সার্বভৌমত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ’

মালদ্বীপে এক তরুণের সঙ্গে কেয়া পায়েলের ভিডিও ভাইরাল, কে এই তরুণ?

বাড়ি ফেরার পথে জুলাই শহীদের ভাই নিহত

স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার / রিমান্ডে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ দিয়েছেন অভিনেতা আলভী

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বার্তা

৫২ বছরের ঠিকানায় ইতি টানতে যাচ্ছেন সালমান?

ঝিনাইদহে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত বৃদ্ধের মৃত্যু

কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ১০

১০

পাঁচ অভিযোগ থেকে খালাস পেলেন ইনু

১১

এসএসসি পাসেই আনসার বাহিনীতে চাকরির সুযোগ

১২

শহীদ মিনারে মুস্তাফা মনোয়ারকে শেষ শ্রদ্ধা

১৩

আদ-দ্বীন হাসপাতালে চাকরির সুযোগ, বেতন ৪০ হাজার

১৪

স্বপ্নভাঙা ৬ কফিনে ফিরল প্রবাস জীবন

১৫

জুলাইয়ে ৬ হত্যা: ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

১৬

‘রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তেই’ কী বাদ পড়ল জার্মানি?

১৭

চমক নিয়ে ফিরছেন ইমরান-ন্যান্সি

১৮

ব্রাজিলকে বিদায় দেওয়া সেই গণক দেখলেন তার নিজের দেশই নাই

১৯

হাসপাতালে ভর্তি গীতিকার মিল্টন খন্দকার

২০
X