পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক ও কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহানকে অফিস কক্ষে কর্তব্যরত অবস্থায় তালাবদ্ধ রাখার ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল।
পবিপ্রবি সাদা দলের সভাপতি প্রফেসর মোহাম্মদ জামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ নিন্দা জানানো হয়।
‘শিক্ষক কক্ষে তালাবদ্ধ, বিবেক অবরুদ্ধ’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "১৪ আগস্ট দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ছাত্রলীগের কতিপয় দুষ্কৃতকারী পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহানকে অফিস কক্ষে কর্তব্যরত অবস্থায় বাহির থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। মুঠোফোনে খবর পেয়ে উক্ত বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকের উপস্থিতিতে কর্মচারীগণ তালা ভেঙে উক্ত শিক্ষককে মুক্ত করেন। পবিপ্রবির ছাত্রলীগের এহেন দুষ্কর্মে সাদা দল, পবিপ্রবি তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশসহ জড়িতদের শনাক্তে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সব শিক্ষকের নিরাপত্তার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিধায় সাদা দল, পবিপ্রবি অনতিবিলম্বে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিতের আহ্বান জানাচ্ছে।'
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, ‘এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় আমি হতবাক, শিক্ষক তার নিজ অফিস কক্ষে নিরাপদ নয়। উক্ত ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ জানাচ্ছি। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কে কালিমা লেপনকারী এই কলঙ্কিত অপরাধীদের অতিসত্বর চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’
ইতোমধ্যে এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ পেশ করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান তিনি। একই সঙ্গে ছাত্র কর্তৃক অবরুদ্ধ হওয়ায় সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেছেন ভুক্তভোগী এই শিক্ষক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অ.দা) এবং প্রক্টর প্রফেসর ড. সন্তোষ কুমার বসু মুঠোফোনে জানান, ‘শিক্ষক সমিতি এবং ভুক্তভোগী শিক্ষক এ বিষয়ে আমাকে অবগত করেছে। শিক্ষকের সঙ্গে এমন আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়। অবশ্যই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
মন্তব্য করুন