অনিয়ম অযোগ্যতার দায়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পালি বিভাগের শিক্ষক হতে না পারলেও বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরের কর্মচারী (ঊর্ধ্বতন সহকারী) হিসেবে ৬ মাসের জন্য নিয়োগ পেয়েছেন সহকারী প্রক্টর অরূপ বড়ুয়ার স্ত্রী অভি বড়ুয়া।
বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কে এম নূর আহমেদ ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) সৈয়দ মনোয়ার আলী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।
আদেশে বলা হয়, অভি বড়ুয়া, স্বামী অরূপ বড়ুয়াকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরে রিসার্চ ফেলোর (পালি, সংস্কৃত) শূন্যপদের বিপরীতে দৈনিক ৬৫০ টাকা হারে ৬ মাসের জন্য ঊর্ধ্বতন সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। তার যোগদানের তারিখ হতে এ নিয়োগ কার্যকর হবে। তাকে যে কোনো সময়ে বিনা নোটিশে অপসারণ করা যাবে।
গত ১৩ মার্চ পালি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডে চবির সহকারী প্রক্টর অরূপ বড়ুয়ার স্ত্রী প্রার্থী অভি বড়ুয়াকে নিয়োগ দিতে নির্বাচনী বোর্ডের সর্বোচ্চ সুপারিশ করা হয়। তখন প্রার্থী অভি বড়ুয়ার নানা অসঙ্গতি ও অনিয়ম তুলে ধরে নোট অব ডিসেন্ট (দ্বিমত) প্রদান করেন বিভাগীয় সভাপতি ও নির্বাচনী বোর্ডের সদস্য শাসনানন্দ বড়ুয়া রূপন।
এরপর বিভাগীয় সভাপতির নোট অব ডিসেন্ট, পরিকল্পনা কমিটি থেকে বাদ পড়া, আবেদনের শর্তাবলি পূরণ না করা, গত ২০ বছরে তার কোনো চাকরির অভিজ্ঞতা না থাকা, তাকে নিয়োগ না দিতে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে আইনি নোটিশসহ প্রার্থী অভি বড়ুয়ার বিভিন্ন অসঙ্গতি ও অনিয়ম বিস্তারিত তুলে ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত চবির ৫৪৪তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনী বোর্ডের সর্বোচ্চ সুপারিশ পাওয়া প্রার্থী অভি বড়ুয়ার নিয়োগ সুপারিশ বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন কালবেলাকে বলেন, উপাচার্যের নিজস্ব কিছু ক্ষমতা রয়েছে, যার কারণে, প্রয়োজন অনুসারে তিনি বিজ্ঞপ্তির বাহিরেও কর্মচারী নিয়োগ দিতে পারেন। কিন্তু এটা নৈতিকতা বহির্ভূত।
বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য মোহাম্মদ আলী কালবেলাকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উপাচার্য নৈতিকতা ব্যতিরেকে যখন তখন নিয়োগ দিচ্ছেন। এটা অন্যায়।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কে এম নূর আহমেদ ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) সৈয়দ মনোয়ার আলীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তারা রিসিভ করেননি। পরে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখেন।
মন্তব্য করুন