কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৪, ০৭:৩৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

শিক্ষার্থীপ্রতি পরিবারের ব্যয় বাড়ছে

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে প্রেসব্রিফিং। ছবি : কালবেলা
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে প্রেসব্রিফিং। ছবি : কালবেলা

দেশে শিক্ষার্থীপ্রতি পরিবারের ব্যয় বাড়ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীপ্রতি বছরে একটি পরিবারের ব্যয় হয় প্রায় ১৪ হাজার টাকা। আর মাধ্যমিকে ২৭ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে। আর এই ব্যয়ের বড় কারণ হলো কোচিং-প্রাইভেট এবং নোট গাইড।

শনিবার (৩০ মার্চ) গণসাক্ষরতা অভিযানের ‘বাংলাদেশে বিদ্যালয় শিক্ষা: মহামারি উত্তর টেকসই পুনরুত্থান’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য ওঠে আসে। এডুকেশন ওয়াচ-২০২৩’ নামে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর জন্য বছরে গড়ে ১৩ হাজার ৮৮২ টাকা খরচ হয়। তবে শহরের তুলনায় গ্রামে খরচ কম। গ্রামে বছরে গড়ে ১০ হাজার ৬৩৭ এবং শহরে ১৮ হাজার ১৩২ টাকা খরচ হয়। গত বছরের (২০২৩) প্রথম ছয় মাসে এ খরচ ৮ হাজার ৬৪৭ টাকা বা ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

সারা দেশের ৮ বিভাগের ১৬টি জেলার মধ্যে থেকে ২৬টি উপজেলা ও ৫টি সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে গবেষণাটি করা হয়েছে। গবেষণার জন্য বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা মিলিয়ে মোট ৭ হাজার ২২৫ জন কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে।

এদিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বছরে শিক্ষার্থীপ্রতি বছরে গড়ে খরচ হয় ২৭ হাজার ৩৪০ টাকা। এর মধ্যে গ্রামে ২২ হাজার ৯০৯ এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার ৬৬২ টাকা ব্যয় হয়। গত বছরের প্রথম ছয় মাসে এ খরচ অন্তত ২০ হাজার ৭১২ টাকা বা ৫১ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর এবং গত বছরের (২০২৩) জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত তুলনামূলক হিসাব করে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ খরচের বড় অংশই চলে যায় টিউশনি বা কোচিং সেন্টারে। এছাড়া বাকি খরচ হয় গাইড বইসহ সহায়ক বিভিন্ন সামগ্রী, যাতায়াত, খাবার, শিক্ষা উপকরণ (বই, খাতা, কলম), স্কুলের বিভিন্ন ফি এবং এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজে।

এ বিষয়ে এডুকেশন ওয়াচ-২০২৩ এর মুখ্য গবেষক ড. মনজুর আহমদ বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ নানা কারণে খরচ বেড়েছে। প্রাথমিকে ২৫ শতাংশ এবং মাধ্যমিক ৫১ শতাংশ খরচ বেড়েছে। খরচ বেশি হচ্ছে কোচিং, টিউশনি ও গাইড বইয়ে।

গবেষণার তথ্য বলছে, প্রাথমিক পর্যায়ে ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশ ও মাধ্যমিকে ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী মহামারির পরে তাদের নতুন শ্রেণির পাঠ অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। কিন্তু প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী পাঠ বোঝার ক্ষেত্রে অসুবিধায় ছিল।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে তিন-চতুর্থাংশের বেশি শিক্ষার্থী প্রাইভেট টিউটরের সহায়তা নিয়েছে বা কোচিং সেন্টারে গিয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় এই নির্ভরতার হার ছিল যথাক্রমে ৯২ ও ৯৩ শতাংশ।

গবেষণার তথ্য বলছে,

করোনা মহামারির কারণে দ্বিতীয় শ্রেণির ৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়েছে। আর ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বর্তমানে প্রাথমিক স্কুল বয়সী শিশুদের ৪১ শতাংশ এবং মাধ্যমিক স্তরের ৪৯ শতাংশ কাজ বা শিশুশ্রমে নিয়োজিত আছে।

করোনা মহামারির কারণে বিদ্যালয় স্থানান্তরের বিষয়টিও গবেষণা প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে। এ বিষয়ে বলা হয়, ২০২০ সালে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদ্রাসায় স্থানান্তরের একটি প্রবণতা দেখা গেছে। মাধ্যমিক স্তরের তুলনায় প্রাথমিক স্তরে এ প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি (৬ দশমিক ৪ শতাংশ) ছিল। এর কারণ হিসেবে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অভিভাবক ধর্মীয় কারণকে প্রধান বিবেচ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এক-পঞ্চমাংশ বলেছেন মাদ্রাসা বাড়ির কাছে ও মহামারি চলাকালে মাদ্রাসা খোলা ছিল এবং মূলধারার স্কুলগুলো তখন বন্ধ ছিল।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

একটি দল ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করছে : মাহদী আমিন

উৎসবমুখর পরিবেশে মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

গভীর নলকূপ থেকে উদ্ধার শিশুটি মারা গেছে

আবারও স্বর্ণের দামে রেকর্ড

এমপিওভুক্তির আবেদন যাচাইয়ে ১১ সদস্যের কমিটি

ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের যে অভিযোগ দিল জামায়াত

চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করতে তরুণদের নেতৃত্ব জরুরি : মেয়র ডা. শাহাদাত

গভীর নলকূপে পড়া সেই শিশু উদ্ধার

১৪ বছর পর ঢাকা থেকে করাচি যাবে বিমানের ফ্লাইট 

বিএনপিতে যোগ দিলেন জাতীয় পার্টির ৩ শতাধিক নেতাকর্মী

১০

খেলাপিদের নাম-ছবি প্রকাশ ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিতে চায় ব্যাংকগুলো

১১

সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রস্তুত : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

১২

দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাওয়ায় জামায়াত নেতার বাড়িতে আগুন

১৩

নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যে কুমিল্লা বিভাগ ঘোষণা করা হবে : আসিফ

১৪

ক্রেতা দেখলেই মরার ভান ভেড়ার, দামে রেকর্ড

১৫

‘রাজনীতি আমার ইবাদত, এটা দিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ নেই’

১৬

শেরপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি স্থগিত

১৭

দেশে ফিরে কোন ব্যাটে খেলবেন সাকিব, জানালেন তারই বন্ধু

১৮

ফোনের চার্জিং পোর্টে এই ৫টি জিনিস কখনোই লাগাবেন না

১৯

৫ দফা দাবিতে বারির শ্রমিকদের বিক্ষোভ 

২০
X