

দীর্ঘ আড়াই দশকের আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে ১৫ হাজার কোটির বিতর্কিত সম্পত্তি নিয়ে চলা মামলায় বড় জয় পেলেন পতৌদির ছোট নবাব সাইফ আলি খান। সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভারতের ভোপালের জেলা আদালত এই রায় দেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, দেশটির ভোপালের আদালত থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, পতৌদির নবাবদের ১৬.৬২ একরের স্থাবর সম্পত্তি আর বেহাত হচ্ছে না। পুরো এলাকার এই বিপুল পরিমাণ জমি ঘিরে আইনি বিতর্কের সূত্রপাত হয় ১৯৯৮ সালে। সেসময় আকিল আহমেদ ও তার লোকজনরা আদালতে মামলা দায়ের করে দাবি করেছিলেন, ১৯৩৬ সালে ভোপালের তৎকালীন রাজপরিবারের সদস্য নবাব হামিদুল্লাহ খান নাকি তাদের পূর্বপুরুষদের ওই জমিটি উপহার দিয়েছিলেন।
সেই সূত্র ধরেই নিজেদের জমির উত্তরাধিকার হিসেবে দাবি করে কোর্টে মামলা দায়ের করেন তারা। যদিও পঁচিশ বছরের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে তাদের দাবি আলোর মুখ দেখেনি আদালতে।
এ বিষয়ে বিচারকরা জানান, মামলাকারীরা কোনো গ্রহণযোগ্য দলিল, নথিপত্র বা শক্ত প্রমাণ পেশ করতে পারেননি। শুধু তাই নয়, গত ষাট বছরের ব্যবধান পেরিয়ে এই মামলা দায়েরের বিষয়টিকেও ‘গুরুতর দেরি’ বলে বিবেচনা করেছেন বিচারকরা। ফলে গোটা মামলাটিই খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে ১৫ হাজার কোটির ‘মসনদে’ থাকছেন সাইফ আলি খান।
উল্লেখ্য়, ১৯৪৭ সালে ভারতের ভোপাল ছিল এক প্রিন্সলি স্টেট। যার শেষ নবাব ছিলেন হামিদুল্লা খান। তিনিই সইফের বাবা মনসুর আলি খান পতৌদির নানা। তার তিন কন্যার মধ্যে যিনি বড়, সেই আবিদা সুলতান ১৯৫০ সালে পাকিস্তানে চলে যান। দ্বিতীয় কন্যা সাজিদা সুলতান ভারতেই থেকে যান। বিয়ে করেন সাইফের দাদা ইফতিকার আলি খান পতৌদিকে। এর ফলে সাইফের দাদা ওই সমস্ত সম্পত্তির আইনত উত্তরাধিকারী হয়ে যান।
এদিকে ২০১৯ সালে আদালত জানিয়ে দেয়, সাজিদা সুলতান ওই সম্পত্তির বৈধ উত্তরসূরি। এবং তার নাতি সাইফ আলি খানের সেই সম্পত্তিতে অংশ রয়েছে। কিন্তু আবিদা পাকিস্তানে চলে যাওয়ায় সরকার এটিকে শত্রু সম্পত্তি বলে দাবি করে। পরে এই সম্পত্তির ওপর থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার ফলেই নতুন করে সমস্যা দেখা দেয়। তবে নতুন বছরে আদালতের রায়ে এবার বড় স্বস্তি পেল পতৌদি পরিবার।
মন্তব্য করুন