

পুরুষদের স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক বিষয় আছে যেগুলো নিয়ে আমরা সাধারণত সচেতন নই। তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অনেক সময় অবহেলিত বিষয় হলো প্রস্টেট স্বাস্থ্য।
প্রস্টেট একটি ছোট গ্রন্থি (গ্রন্থি মানে গ্ল্যান্ড), যা মূত্রথলির নিচে এবং পায়ুর সামনের দিকে অবস্থান করে। এটি পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রস্টেটে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে—যেমন প্রস্টেট ক্যানসার, সাধারণভাবে প্রস্টেট বড় হওয়া (BPH), কিংবা প্রস্টেটের সংক্রমণ (Prostatitis)।
অনেক পুরুষ এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে লজ্জা পান বা ভয় পান। কিন্তু নিয়মিত প্রস্টেট চেক করানো জীবন বাঁচাতে পারে। নিচে জানানো হলো কেন প্রস্টেট পরীক্ষা করানো এত গুরুত্বপূর্ণ:
পুরুষদের মধ্যে স্কিন ক্যানসারের পরই সবচেয়ে বেশি যেটা দেখা যায়, সেটা হলো প্রস্টেট ক্যান্সার। প্রতি ৮ জন পুরুষের মধ্যে ১ জনের এটি হতে পারে।
সমস্যা হলো, প্রস্টেট ক্যান্সার শুরুর দিকে সাধারণত কোনো উপসর্গ (লক্ষণ) দেয় না। তাই পরীক্ষা ছাড়া বোঝা যায় না। কিন্তু যদি আগে ধরা পড়ে, তাহলে তা পুরোপুরি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে ৫ বছরের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০%।
প্রস্টেটের সমস্যা অনেক সময় চুপচাপ বাড়তে থাকে—কোনো লক্ষণ ছাড়াই। যখন সমস্যা বুঝতে পারা যায় (যেমন প্রস্রাবে সমস্যা, ব্যথা বা রক্ত আসা), তখন অনেক সময় দেরি হয়ে যায়।
তাই আগেই PSA রক্ত পরীক্ষা বা ডিজিটাল রেকটাল পরীক্ষা (DRE) করিয়ে সমস্যাটি ধরা গেলে চিকিৎসা সহজ হয়।
শুধু ক্যানসার নয়, প্রস্টেট বড় হওয়া (BPH) বা ইনফেকশন (প্রোস্টাটাইটিস) থেকেও অনেক সমস্যা হতে পারে—যেমন ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাবে জ্বালা, বা রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া। এসব সমস্যা জীবনযাত্রাকে কষ্টদায়ক করে তোলে।
চিকিৎসা করলে এসব সমস্যা থেকে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। কিন্তু তার জন্য আগে ধরা পড়া জরুরি।
যারা ৫০ বছরের বেশি বয়সী, তাদের প্রস্টেটের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেশি। যদি বাবা, ভাই বা পরিবারের কারও প্রস্টেট ক্যানসার থেকে থাকে, তাহলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
আবার আফ্রিকান বা ক্যারিবিয়ান বংশোদ্ভূত পুরুষদের মধ্যেও এই ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। এসব ক্ষেত্রে ৪০ বা ৪৫ বছর বয়স থেকেই চেকআপ শুরু করা ভালো।
অনেকেই ভয় পান, ভাবেন পরীক্ষা করতে গিয়ে হয়তো অনেক কষ্ট হবে। কিন্তু বাস্তবে এখনকার প্রস্টেট পরীক্ষা খুবই সহজ, যেমন একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা (PSA)। আর প্রয়োজন হলে যে ডিজিটাল পরীক্ষা করা হয়, তাও মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার।
এ ছাড়া আধুনিক সময়ের MRI বা বায়োপসি পরীক্ষার মাধ্যমে খুব নির্ভুলভাবে বোঝা যায় কোনো সমস্যা আছে কি না।
প্রস্টেট চেকআপ করানো শুধু অসুখ ঠেকানোর জন্য নয়, এটা নিজের প্রতি যত্ন নেওয়ার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদি সব ঠিকঠাক থাকে, তাহলে মনেও একটা শান্তি পাওয়া যায়। আর যদি কোনো সমস্যা ধরা পড়ে, তাহলে আগে থেকেই চিকিৎসা শুরু করা যায়।
প্রস্টেট চেকআপ নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এটি খুবই সাধারণ ও দরকারি একটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা। আপনি যদি ৫০-এর বেশি হন, কিংবা পরিবারের কারও প্রস্টেট সমস্যা থাকে, তাহলে এখনই সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার।
নিজের শরীরের যত্ন নিন। কয়েক মিনিটের একটি পরীক্ষা হয়তো আপনার জীবন বাঁচাতে পারে।
৫০ বছর বয়সের পর: সব পুরুষেরই চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করা উচিত।
৪০-৪৫ বছর বয়সে: যদি পারিবারিক ইতিহাস থাকে বা আপনি বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
যে কোনো বয়সে: যদি প্রস্রাবে সমস্যা, ব্যথা বা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দেয়।
স্বাস্থ্যই সম্পদ। তাই নিজের প্রতি যত্নবান হন।