

ডিমেনশিয়া (Dementia) শুধু “ভুলে যাওয়ার রোগ” নয়—এটি ধীরে ধীরে মানুষের স্মৃতি, চিন্তাশক্তি, আচরণ ও ব্যক্তিত্বকে প্রভাবিত করে। বয়স বাড়ার সাথে (সাধারণত ৫৫/৬০ বছর) এ ঝুঁকি বাড়লেও এটি কিন্তু স্বাভাবিক বার্ধক্য জনিত নয়। এ রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় খুব সূক্ষ্ম— নতুন তথ্য মনে রাখতে কষ্ট, পরিচিত কাজ ভুলে যাওয়া, কথোপকথনে শব্দ খুঁজে না পাওয়া, কিংবা দৈনন্দিন সিদ্ধান্তে দ্বিধা।
আশার কথা, পরিবার যদি শুরুতেই পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়, তবে রোগের অগ্রগতি কিছুটা ধীর করা ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব। সহানুভূতি, ধৈর্য ও সম্মান—এই তিনটি বিষয় ডিমেনশিয়া রোগীর যত্নে সবচেয়ে জরুরি।
ডিমেনশিয়ায় অনেক সময় মানসিক উপসর্গ দেখা দেয়। কেউ কেউ গায়েবি আওয়াজ বা দৃশ্য অনুভব করেন—যাকে বলা হয় হ্যালুসিনেশন (Hallucination)। আবার ভ্রান্ত বিশ্বাসও তৈরি হতে পারে—যেমন, কেউ তার ক্ষতি করতে চায়, সম্পত্তি ছিনিয়ে নেবে, বা কাছের মানুষই ষড়যন্ত্র করছে—এগুলো ডিলিউশন (Delusion)। এসব উপসর্গ রোগীর কাছে একেবারেই বাস্তব মনে হয়, তাই তর্ক না করে শান্তভাবে আশ্বস্ত করা জরুরি।
আচরণগত পরিবর্তনও লক্ষণীয়—অনিয়মিত জীবনযাপন, উদ্দেশ্যহীনভাবে এদিক-সেদিক চলে যাওয়া, সামাজিক ও ধর্মীয় আচরণে পরিবর্তন, এমনকি কখনো অপ্রাসঙ্গিক রসিকতা বা অনুচিত স্পর্শের মতো আচরণও দেখা যেতে পারে, যা তার পূর্বের স্বভাবের সাথে যায় না। এসব পরিবর্তন অনেক সময় পরিবারে ভুল বোঝাবুঝি ও কষ্টের কারণ হয়। ব্রেইন কোষের মধ্যে নানারকম জৈব যৌগ জমে ব্রেইন কোষের ক্ষয় থেকেই এমন হয়।
মনে রাখা দরকার—এগুলো ইচ্ছাকৃত নয়, রোগেরই অংশ। তাই সমালোচনা নয়, প্রয়োজন বোঝাপড়া, সহমর্মিতা এবং সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা।
লেখক: ডা. সাঈদ এনাম (ডিএমসি-৫২, বিসিএস-২৪)
অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর অব সাইকিয়াট্রি
(ইন্টারন্যাশনাল ফেলো, আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন)