

আজকাল আমাদের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপেই জড়িয়ে গেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। কোডিং করা থেকে শুরু করে সিনেমার চিত্রনাট্য লেখা; সবক্ষেত্রেই নিজের আধিপত্য বিস্তার করছে এই প্রযুক্তি। তবে বর্তমানে একটি নতুন প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে; শরীর খারাপ হলে অনেকেই সরাসরি চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে চ্যাটজিপিটির মতো এআই টুলের কাছে পরামর্শ চাইছেন। কিন্তু এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ? এটি কি সত্যিই নিখুঁত?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই সম্প্রতি একটি গবেষণা চালিয়েছেন আমেরিকার পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির ইনফরমেশন সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর অমূল্য যাদব এবং তার গবেষক দল।
গবেষকরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ২০০টিরও বেশি স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত প্রশ্ন বা সমস্যা সংগ্রহ করেন। এরপর সেই প্রশ্নগুলো চ্যাটজিপিটর মতো বিভিন্ন জনপ্রিয় এআই মডেলের কাছে পাঠানো হয়। এআই-এর দেওয়া উত্তরগুলো কতটা সঠিক, তা যাচাই করার জন্য সেগুলো পাঠানো হয় বড় বড় সার্টিফায়েড চিকিৎসকদের কাছে।
গবেষণার ফলাফল ছিল বেশ চমকপ্রদ। দেখা গেছে, এআই চ্যাটবটগুলো প্রায় ৭৬ শতাংশ ক্ষেত্রে একেবারে সঠিক স্বাস্থ্য পরামর্শ দিয়েছে। আর এই পরীক্ষায় সবথেকে বেশি সফল হয়েছে ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি।
প্রফেসর অমূল্য যাদবের মতে, এই গবেষণার একটি ইতিবাচক দিক হলো চিকিৎসা পরিষেবার সহজলভ্যতা। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষের কাছে উন্নত বা পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা পৌঁছায়নি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যেখানে হাতের কাছে কোনো ডাক্তার বা হাসপাতাল নেই, সেখানে এআই-এর কাছ থেকে পাওয়া ৭৬ শতাংশ সঠিক তথ্য একজন সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে। কোনো সাহায্য না পাওয়ার চেয়ে এই ‘অসম্পূর্ণ কিন্তু কার্যকরী’ সাহায্যটুকু অনেক ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।
ডাক্তারের বিকল্প কি এআই?
এআই-এর এমন অভাবনীয় সাফল্য সত্ত্বেও গবেষকরা একটি বিষয়ে বারবার সতর্ক করেছেন, এআই কখনোই একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের বিকল্প হতে পারে না। প্রফেসর যাদব স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে এআই কোনোভাবেই একজন মানুষের মতো দক্ষ চিকিৎসকের সমকক্ষ নয়।
এআই-এর পরামর্শ অন্ধভাবে বিশ্বাস করে ‘সেলফ-ডায়াগনোসিস’ বা নিজে নিজে চিকিৎসা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক যেভাবে রোগীর শারীরিক অবস্থা ও সূক্ষ্ম লক্ষণগুলো নিখুঁতভাবে বুঝতে পারেন, তা একটি কম্পিউটারের পক্ষে সম্ভব নয়। এছাড়া এআই-এর দেওয়া তথ্যে ভুল থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
শেষ কথা
প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক না কেন, চূড়ান্ত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের চেম্বারে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। কোনো রোগ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা বা সচেতনতার জন্য এআই-এর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, আপনার জীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য একজন রক্ত-মাংসের চিকিৎসকের অভিজ্ঞ পরামর্শের কোনো বিকল্প নেই।
তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াল