কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৪, ০৬:১৪ পিএম
আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:০৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আ.লীগের আমলে বছরে পাচার হয়েছে ১৫ বিলিয়ন ডলার : টিআইবি

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান । ছবি : সংগৃহীত
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান । ছবি : সংগৃহীত

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ থেকে প্রতি বছর ১২ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে।

শনিবার (২ নভেম্বর) দুপুরে ‘ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)’ ও ‘সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ আয়োজিত এক সেমিনারে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ব্যাংক খাত থেকে যে ১৭ বিলিয়ন ডলার পাচার হওয়ার কথা বলেছেন, বাস্তবে তার পরিমাণ আরও বেশি। তৎকালীন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালীরা ব্যাংক খাত ও বাণিজ্যের আড়ালে বছরে ১২ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে।

তিনি জানান, শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশ থেকে কী পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে তার প্রকৃত হিসাব কোথাও নেই।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক, আমলাতান্ত্রিক ও ব্যবসায়িক সংস্কৃতি পরিবর্তন না হলে অর্থ পাচার ও দুর্নীতি বন্ধ হবে না। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হলেও প্রক্রিয়াটি খুবই জটিল। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বৈঠক করেছে সরকার। আগামী দুই বছরের মধ্যে যদি একটা পয়সাও ফেরত আসে তাহলে সেটা হবে বড় অর্জন হবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশে ঋণ খেলাপির সংস্কৃতি যারা চালু করেছে, তারা পাঁচতারকা হোটেলে বসে ব্যাংকখাতের নীতি পলিসি তৈরি করতো; আর বাংলাদেশ ব্যাংক শুধু সেসব পলিসি ঘোষণা করত।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুদক এখন যাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে, সেসব তথ্য-উপাত্ত আগেই তাদের হাতে ছিল। দুদক প্রমাণ করলো, যারা ক্ষমতায় আসছে বা আসবে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করা যাবে না। সেই জন্য তাদের সংস্কার করা দরকার।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়েস্ট সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া এবং আর্থিক অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। এসব উদ্যোগ নিলে পাচার হওয়া টাকার পুরোটা না হলেও একটা অংশ উদ্ধার করা যাবে। এতে ভবিষ্যতে পাচার করার বেলায় সবাই সাবধান হয়ে যাবেন।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ প্রক্রিয়ায় অর্থ স্থানান্তর ও অর্থ পাচার—উভয় পদ্ধতিতেই দেশ থেকে অর্থ সরানো হয়েছে। বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চালান জালিয়াতির মাধ্যমে অনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিদেশে অর্থ পাচার করা হয়। অনুমান করা হয়, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলার পাচার করা হয়েছে।

সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আইএমএফসহ বিভিন্ন বিদেশি সংস্থার দেওয়া ঋণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা ছিল না, ঋণ দিলে সে অর্থ জনগণের কাজে আসবে না—এসব জানা সত্ত্বেও আইএমএফ সরকারকে কেন ঋণ দিয়েছিল? এসব ঋণের টাকা শুধু অপব্যবহারই হয়নি, তা দিয়ে সরকার গুলি কিনেছে, বারুদ কিনেছে ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে তা ব্যবহার করেছে।

তিনি বলেন, গত সরকারের সময়ে বিভিন্ন উৎস থেকে যত ঋণ নেওয়া হয়েছে ও ব্যয় করা হয়েছে, সব ক্ষেত্রে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে স্বাধীন তদন্ত করতে হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিএনপির আরও ১১ নেতাকে দুঃসংবাদ

একই পরিবারের ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল চীন

রাতে ঘুম না এলে যে দোয়া পড়তে বলেছেন নবীজি (সা.)

বিতর্কে দিলজিৎ দোসাঞ্জ

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাজিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ

ভোট নিয়ে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান আমিনুলের 

নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার আহ্বান মামুনুল হকের

রাজশাহীর জনসভায় তারেক রহমান

আগে ’৭১ নিয়ে মাফ চান, পরে ভোট চান : মির্জা ফখরুল 

বিমান থেকে নিজেই লাগেজ নিয়ে নামলেন তারেক রহমান

১০

হাইকোর্টের রায় / নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সরকারের চুক্তি বৈধ

১১

চট্টগ্রাম বন্দরে চরম উত্তেজনা, শনি ও রোববার শাটডাউন ঘোষণা

১২

শেরপুরের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত : মাহদী আমিন

১৩

থানা থেকে লুট হওয়া বিপুল অস্ত্র উদ্ধার

১৪

হজরত শাহ মখদুম (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

১৫

ঝিনাইদহে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০

১৬

শুক্রবার যেসব এলাকায় ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

১৭

জব্দ করা সুপারট্যাংকার ছেড়ে দিল যুক্তরাষ্ট্র

১৮

নির্বাচন থেকে সততা পালিয়ে গেছে : মির্জা ফখরুল

১৯

দুটি আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক চায় না জামায়াত

২০
X