কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৩, ০২:৪৬ পিএম
আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৩, ০২:৪৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ : রিপোর্ট

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যার দিক থেকে নেদারল্যান্ড ছাড়া বাংলাদেশের চেয়ে আর কোনো দেশ এগিয়ে নেই বলে জানিয়েছে গ্রন্থাম রিসার্চ ইনস্টিটিউট।

বুধবার (২৩ আগস্ট) প্রকাশিত ‘পরিবর্তনশীল জলবায়ুতে বাংলাদেশে বন্যা মোকাবিলা’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন তৈরি করেছে ‘লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স’র জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিষয়ক ‘গ্রন্থাম রিসার্চ ইনস্টিটিউট’।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ উচ্চ বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা নেদারল্যান্ড ছাড়া বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় জনসংখ্যার একটি উচ্চ অনুপাত এবং প্রায় ৪৫ শতাংশ উচ্চ ফ্লুভিয়াল বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ সংখ্যা। জলবায়ু পরিবর্তন এই ঝুঁকিকে বাড়িয়ে তুলছে এবং ক্রমবর্ধমান উচ্চ আর্থিক ও মানবিক খরচ সহ ক্ষতির কারণ হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বেঙ্গল ডেল্টায় অবস্থান নীচু এবং সমতল ভূমির কারণে বাংলাদেশ বন্যার প্রবণতা বেশি। তাই দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বেশ কিছু কারণ দেশের বন্যার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, যার মধ্যে ক্রমবর্ধমান মাত্রায় বৃষ্টিপাতের ঘটনা এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাত।

গবেষণায় দেখা যায়, ১৯৭১-২০০০ সালের সাপেক্ষে ২০৭০-২০৯৯ সালের মধ্যে উচ্চ-নির্গমনের পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ নদী প্রবাহের মাত্রা গড়ে ৩৬ শতাংশ এবং কম-নির্গমনের পরিস্থিতিতে ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। কার্যকর বন্যা নীতিগুলি স্থিতিস্থাপকতা এবং অভিযোজন বৃদ্ধি এবং মানবিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কার্যকর বন্যা-নীতির ওপর জোর দিয়ে বন্যা মোকাবিলার জন্য বিংশ শতাব্দীতে বাঁধ নির্মাণের মতো কাঠামোগত ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সরকারি নীতিগুলি 'বন্যার সাথে জীবনযাপন' পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। সরকারের উচিত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে বসতি স্থাপনকে নিরুৎসাহিত করা এবং পানী-প্রতিরোধী নির্মাণ সামগ্রী এবং লবণ-প্রতিরোধী ফসল প্রদানের মতো ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে আরও কার্যকর বন্যা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে বাধার মধ্যে রয়েছে দুর্বলতা এবং স্থানীয় চাহিদা সম্পর্কে অপর্যাপ্ত জ্ঞান। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মতো স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে সক্ষমতার অভাব। অভিযোজনে বিনিয়োগের জন্য তহবিলের দুর্বল অ্যাক্সেস।

বন্যা ও দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন মূল্যায়ন, আরও বেশি জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) সাথে সরকারি সংস্থাগুলির মধ্যে আরও ভাল সমন্বয়ের মাধ্যমে উন্নত করা যেতে পারে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জামায়াতের সঙ্গে বৈঠককে স্বাভাবিক কূটনৈতিক যোগাযোগ বলছে ভারত

হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যদের থামানোর কেউ নেই!

গরম ভাতে ঘি খান, মস্তিষ্কে কেমন প্রভাব পড়ে জানলে অবাক হবেন

রাস্তার পাশ থেকে অচেতন অবস্থায় এমপি প্রার্থী উদ্ধার

খালেদা জিয়ার চিকিৎসাজনিত অবহেলার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন : চিকিৎসকদলের প্রধান

খালেদা জিয়ার নাগরিক শোকসভায় যা বললেন শফিক রেহমান

‘এক নেত্রীর ঠাঁই মানুষের হৃদয়ে, অন্যজনের দেশের বাইরে’ 

এনসিপির সেই নেত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাস

ম্যাচসেরা হয়েই ‘মানবিক’ সেই উদ্যোগের কথা জানালেন শরিফুল

মির্জা ফখরুলকে দেখেই দাঁড়িয়ে সম্মান জানালেন তারেক রহমান

১০

সিরিয়া থেকে শতাধিক ছাগল চুরি করল ইসরায়েলি সেনারা

১১

নির্বাচনের প্রার্থী স্বামী-স্ত্রী

১২

চবি ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয়, রাবিতে জালিয়াতি করতে গিয়ে ধরা

১৩

মোবাইল চুরিকে কেন্দ্র করে ২ খুন

১৪

ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে শ্রমিক হত্যা

১৫

ইসলামী আন্দোলন নিয়ে জামায়াতের বিবৃতি 

১৬

রাঙ্গুনিয়ায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বেতাগী মানবিক ফাউন্ডেশন

১৭

শবেমেরাজের ঘটনা থেকে গুরুত্বপূর্ণ ১২ শিক্ষা

১৮

‘হ্যাঁ’ ভোটে জনগণের আশার প্রতিফলন ঘটবে : অর্থ উপদেষ্টা

১৯

খালেদা জিয়া মানুষ ও দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন : নূরুল কবীর

২০
X