

মানবতার স্পর্শে দূর হোক অসহায়ত্ব— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অগ্নিদুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে বেতাগী মানবিক ফাউন্ডেশন। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো অসহায় মানুষদের দুর্ভোগ লাঘবে সংগঠনটির উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ ও আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের মধ্য বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির আওতায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। শীতের কনকনে ঠান্ডায় যখন স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ে, তখন আগুনে ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলোর দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই বেতাগী মানবিক ফাউন্ডেশন এই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, অগ্নিদুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো শুধু ঘরবাড়িই হারায় না, হারায় নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনের আশ্রয়। এমন সংকটময় সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের নৈতিক দায়িত্ব। মানবিক সংগঠনগুলোর এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি গণভোট বিষয়ক একটি ব্যানার স্থাপন করেন এবং গণভোটের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মাঝে সংক্ষিপ্ত সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেতাগী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আরমান হোসেন। তিনি বলেন, দুর্যোগকালে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেতাগী মানবিক ফাউন্ডেশনের এই মানবিক কার্যক্রম প্রশংসনীয় এবং অনুকরণীয়।
তিনি এলাকায় জুয়া, মাদক ও বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে ঘরের রান্নার চুলা ও ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবহারে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, একটি অগ্নিদুর্ঘটনা মুহূর্তেই একটি সাজানো-গোছানো পরিবারকে সর্বস্বান্ত করে দিতে পারে। যার ক্ষতি কখনো পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নয়।
রাঙ্গুনিয়া ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা মো. জাহেদুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ড একটি মুহূর্তেই একটি পরিবারকে সর্বস্বান্ত করে দিতে পারে। সামান্য অসতর্কতা কিংবা বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে বসতঘর, সহায়-সম্পদ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তাই রান্নাঘরের চুলা ব্যবহার, গ্যাস সিলিন্ডার ও বৈদ্যুতিক সংযোগে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।
বেতাগী মানবিক ফাউন্ডেশনের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম বলেন, অগ্নিদুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য। সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে মোট ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
শীতবস্ত্র ও আর্থিক সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নারী, শিশু ও বয়স্ক সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা জানান, আগুনে সবকিছু হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। এই সহায়তা তাদের জন্য শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং নতুন করে বেঁচে থাকার প্রেরণা।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য বেতাগী গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে আনুমানিক ২৫ লাখ টাকার সম্পত্তি পুড়ে যায়। আগুনে ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও বিভিন্ন ব্যবহার্য সামগ্রী সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
মন্তব্য করুন