কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১০:৪৬ পিএম
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১০:৪৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তারা

কোনো অপশক্তির হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে চাই না

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আলোচনা সভার উদ্বোধন করছেন অতিথিরা। ছবি : কালবেলা
রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আলোচনা সভার উদ্বোধন করছেন অতিথিরা। ছবি : কালবেলা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রাখতে চান হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। তবে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের সঠিক প্রতিকার না পাওয়ায় তারা অসহায় বোধ করলেও কোনো সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চাচ্ছেন না। পাশাপাশি মানবতাবাদী সরকারের মধ্যে মৌলবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন হিন্দু নেতারা।

শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ পর্ব এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তারা এমন মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত এ অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার পক্ষে ইন্ডিয়ান কালচারাল সেন্টারের পরিচালক মৃন্ময় চক্রবর্তী।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি মনীন্দ্র কুমার নাথের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং, নির্মল কুমার চ্যাটার্জী, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জেএল ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নারায়ণ চন্দ্র বিশ্বাস।

মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রাখতে চাই। পাশাপাশি আমাদের মনে যন্ত্রণা আছে। যদিও বলা হচ্ছে, আমাদের জন্য অনেক কিছু করা হচ্ছে। আমরা যোগ-বিয়োগ করে হিসাব মিলিয়ে দিতে চাই, সেটা সঠিক হিসাব করা হচ্ছে না। যদি তাই হতো, আমাদের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন চলে, তখন সঠিক প্রতিকার পাওয়া যায় না। তাদের গ্রেপ্তার করা হয় না। তখন আমরা অসহায় বোধ করি। তিনি বলেন, আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কোনো অপশক্তির হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে চাই না। একটি অপশক্তি, ধর্মীয়ভাবে যারা উগ্র, সন্ত্রাস করে। যারা বিভিন্ন দিক থেকে মৌলবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, সেই ধরনের সরকার আমরা চাই না। আমরা অবশ্যই মানবতাবাদী সরকার চাই। কিন্তু মানবতাবাদী সরকারের মধ্যে যখন মৌলবাদী অপশক্তি ঢুকে যায়, তখন আমাদের সেই জায়গায় রুখতে হবে। তাই আমি মনে করি, সাংগঠনিক দিক থেকে আমাদের শক্তি আমাদের বিস্তার ঘটাতে হবে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই অবশ্যই আমরা আমাদের অবস্থান সেই জায়গায় নিয়ে যেত পারব।

মৃন্ময় চক্রবর্তী বলেন, আমি বিশ্বাস করি ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক সংস্কৃতির ওপর স্থাপিত। যদি পলিটিকস (রাজনীতি) অন্যভাবে চলে যায়, তাহলে সংস্কৃতির ভিত্তি আমাদের ঠিক পথে চালিত করবে। সুতরাং আমাদের যে সংস্কৃতির ঐতিহ্য, সেই ঐতিহ্য ধরেই আমরা চলব। এখানে আমরা কৃষ্ণের জীবন সম্পর্কে কথা বলছি। কৃষ্ণ হচ্ছে পুরুষ বাকি সব প্রকৃতি। তিনি আমাদের ভালোবাসতে শিখিয়ে গেছেন। একটা কথা ভারতে আমি অনেক জায়গায় শুনেছি। রাম অনুকরণীয় এবং কৃষ্ণ চিন্তনীয়। এর মানে পারিবারিক জীবনে রামের কর্মকাণ্ড অনুকরণ করতে হবে। কৃষ্ণের কর্মকাণ্ড বা চিন্তায় ছিল ভক্তিবাদ। তিনি জাতপাতের বাইরে এসে সমাজ সংস্কারের কাজ করেছেন। তিনি একসঙ্গে রাজনীতিবিদ, সাম্যবাদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন। তিনি বলেছেন, সমাজের নিম্নস্তরের মানুষও আমার ভক্ত হতে পারে।

ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার বলেন, দেবোত্তর সম্পত্তি আইনসহ আমাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিকেল সাড়ে ৩টায় এবং দেশের সব জেলা ও উপজেলায় মানববন্ধন করব এবং ১৬ সেপ্টেম্বর সারা দেশে যুব কর্মশালা করা হবে।

ড. নারায়ণ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আমাদের সব দেব-দেবীর হাতে অস্ত্র আছে। আমরা দেব-দেবীদের হাতে অস্ত্র দিয়ে নিজেরা কিছু না করে এগিয়ে যেতে চাই। কিন্তু তাদের নীতি নিজেদের মধ্যে ধারণ করি না। এটা সত্য, আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। কিন্তু যারা অপশক্তি সমাজে অশান্তি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কৃষ্ণের মন্ত্র ধারণ করে প্রতিরোধ করতে হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঝুপড়ি ঘরে এসি-সিসি ক্যামেরা / বেদে পল্লীর সেই মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ফুটবলকে কেন ‘সকার’ বলা হয়?

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে থেকে শুরু, সংসদে পরিকল্পনা জানালেন মির্জা ফখরুল

রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে ভিনদেশিরা, অভিযোগ প্রত্যাখ্যান চীনের

রাতে ১৭২ ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত, মস্কো অঞ্চলে বড় হামলা

রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে আরও ১০ জেলা

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে ২০২৫ সালের জন্য ৩০% ডিভিডেন্ড অনুমোদন

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের স্বাস্থ্যসেবা কার্ড দিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন

ইসরায়েলকে বলেছি হিজবুল্লাহর দায়িত্ব সিরিয়ার ওপর ছেড়ে দিতে : ট্রাম্প

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান

১০

দুজন নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষশূন্য গ্রাম, থমথমে পরিস্থিতি

১১

পুলিশের গাড়িবহরে হামলা, আহত ১০

১২

জানালেন সেতুমন্ত্রী / পদ্মা রেলসেতুর পিলারের মাটি খুঁড়ে নেওয়া হয়েছে, ‘বিষয়টি এমন নয়’

১৩

শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

১৪

পুলিশের গুলিতে ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ, আটক ৪

১৫

নদীবন্দরে সতর্কতা, বজ্রবৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে

১৬

বৃদ্ধের বিবস্ত্র মরদেহ পড়েছিল পাহাড়ের চূড়ায়

১৭

মায়ের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবেদন বিএনপির সংসদ সদস্যের

১৮

গম আমদানি রেকর্ড উচ্চতায়, কমছে চাষের জমি

১৯

গ্যাস বিস্ফোরণে বাবা-মা-ভাইয়ের পর চলে গেল মিমও

২০
X