কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ০২:৩৯ পিএম
আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ০২:৪০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

নারীর অধিকার সুরক্ষায় নিবন্ধন আইন শক্তিশালীকরণ জরুরি

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুবিধা এবং ন্যায়বিচারের মতো মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় শক্তিশালী জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করলেও বিদ্যমান আইনের দুর্বলতা এই লক্ষ্য অর্জনে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস-২০২৫ উপলক্ষে, গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর জিএইচএআই-এর সহযোগিতায়, গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত, ‘নারী অধিকার সুরক্ষায় শক্তিশালী নিবন্ধন আইন’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এসব বিষয় তুলে ধরেন বক্তারা। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি’।

ওয়েবিনারে জানানো হয়, জন্ম নিবন্ধনের অভাবে বয়স প্রমাণ করা কঠিন হয়, ফলে মেয়েরা বাল্যবিবাহের শিকার হয়। বাল্যবিবাহ নারীর ওপর শারীরিক ও মানসিক সহিংসতার ঝুঁকি বাড়ায়। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের মধ্যে প্রারম্ভিক মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মাতৃমৃত্যুর হার বেশি। নিবন্ধনহীনতা নারী পাচার ও নারীদের ঝুঁকিপূর্ণ পেশা গ্রহণেও ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশে সম্পত্তিহীন নারীদের মধ্যে মৃত্যু নিবন্ধন হার খুবই কম। নারীর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্যহারে বাড়াতে, আইন সংশোধন করে পরিবারের বদলে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের দায়িত্ব দিতে হবে, যাতে হাসপাতালে ঘটিত জন্ম ও মৃত্যু স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধনের আওতায় আসে। বর্তমানে বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধনের হার মাত্র ৫০ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৪৭ শতাংশ, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গড় হারের তুলনায় অনেক কম।

ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধূরী বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নারীদের অদৃশ্য করে তোলে। প্রতিটি নারীর পরিচয় ও অধিকার নিশ্চিত করতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ সংশোধনের মাধ্যমে শক্তিশালী করা জরুরি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা বলেন, ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নারীর অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষায় সকল নারীর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে।

জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, হাসপাতালভিত্তিক জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে প্রত্যেক নারীকে নিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব। এতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ১৬.৯ (সবার জন্য বৈধ পরিচয়পত্র) অর্জন ত্বরান্বিত হবে।

ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স- আত্মার কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ; এবং দৈনিক ইত্তেফাক-এর স্টাফ রিপোর্টার রাবেয়া বেবী। গণমাধ্যমকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা ওয়েবিনারে অংশগ্রহণ করেন। প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা ও উপস্থাপনা করেন সংগঠনের কো-অর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, পরীক্ষা বাতিলসহ ৪ দাবি এনসিপির

স্কুলে তালা দেওয়ায় ১৬ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত

তাহসান-রোজার বিচ্ছেদ যে কারণে

২০২৬ সাল নিয়ে বাবা ভাঙ্গার ভয়ংকর ভবিষ্যদ্বাণী

ফের নতুন সম্পর্কে মাহি

ইউজিসির স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষা ১৬ জানুয়ারি

এলপিজি আমদানিতে ঋণ সুবিধা নিয়ে নতুন নির্দেশনা

কাঁকড়া নদীতে ভাসছিল ২ যুবকের মরদেহ

ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে যা বললেন মির্জা ফখরুল

‘মুজিব কোট তুলে রেখেছি, এবার ধানের শীষে ভোট দেব’

১০

বাংলাদেশ থেকে উড়ে যাওয়া বেলুন নিয়ে ভারতে তুলকালাম

১১

আইপিএল প্রসঙ্গ টেনে বিপিএলে প্রশ্ন, বিরক্ত নবী

১২

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় সুখবর

১৩

অর্থ আত্মসাৎ মামলায় অব্যাহতি পেলেন মেহজাবীন

১৪

টেকনাফ সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে যুবকের পা বিচ্ছিন্ন

১৫

কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

১৬

৪০ বার হজ আদায়কারী ১৪২ বছরের হাজির মৃত্যু

১৭

বার্সার কাছে হার, তবু নিরাপদ জাবির চেয়ার

১৮

বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব ঘাটতি ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা

১৯

কিশোর বয়সে ইতিহাস গড়লেন ওয়েন কুপার

২০
X