

প্রথম দেশ হিসেবে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কার্যত অচল করে দিয়েছে ইরান। সামরিক জ্যামার ব্যবহার করে দেশটি স্টারলিংকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে, যা সরকারবিরোধী আন্দোলনকারী ও কর্মীদের জন্য বিকল্প ইন্টারনেট ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) ফোর্বস ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান হয়েছে।
ইরান ওয়্যার জানিয়েছে, ইরানের ভেতরে দশ হাজার স্টারলিংক ইউনিট সক্রিয় থাকার তথ্য থাকা সত্ত্বেও এই ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট স্যাটেলাইট সংযোগেও পৌঁছেছে। প্রাথমিকভাবে স্টারলিংকের আপলিংক ও ডাউনলিংক ট্র্যাফিকের প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যাহত হয়, যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেড়ে ৮০ শতাংশের বেশি হয়ে যায়।
টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইরানে স্টারলিংক রিসিভারের সংখ্যা অনেক বেশি। অথচ ইরান সরকার কখনোই স্টারলিংক ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি, ফলে এটি দেশটিতে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত।
স্টারলিংক রিসিভারগুলো স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগের জন্য জিপিএস সিগন্যালের ওপর নির্ভরশীল। টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্যমতে, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের পর থেকেই ইরান জিপিএস সিগন্যাল ব্যাহত করে আসছে। এর ফলে এই ইন্টারনেট বন্ধের প্রভাব এলাকাভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে— কোথাও আংশিক সংযোগ, কোথাও প্রায় সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট দেখা গেছে।
মিয়ান গ্রুপের গবেষক আমির রাশিদি টেকরাডারকে বলেন, গত ২০ বছর ধরে আমি ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার নিয়ে গবেষণা করছি, কিন্তু জীবনে এমন ঘটনা আগে দেখিনি। স্টারলিংকের ডেটা প্যাকেট হঠাৎ কমে যাওয়ার বিষয়টি মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনের সঙ্গে মিলছে, যা স্যাটেলাইট সংযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ দেয় বলে জানিয়েছে ফোর্বস।
ইন্টারনেট শাটডাউন নিয়ে সম্প্রতি একটি বিস্তৃত প্রতিবেদন তৈরি করা গবেষক সাইমন মিগলিয়ানো বলেন, ইরানের বর্তমান দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ একটি কঠোর পদক্ষেপ, যার উদ্দেশ্য ভিন্নমত দমন করা। তিনি বলেন, এই ‘কিল সুইচ’ কৌশল দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিচ্ছে— ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার ক্ষতি হচ্ছে।
এদিকে নেটব্লকস জানিয়েছে, ইরানে জাতীয় ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ৬০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে এবং দেশটির সামগ্রিক ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক সময়ের মাত্র ১ শতাংশের আশপাশে স্থির হয়ে রয়েছে।
মন্তব্য করুন