

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. হাবিবুর রহমান। ২০২২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বান্দরবান রিজিয়নের অধীনস্থ রুমা জোনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি প্রাণ হারান।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) তার তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়ার ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে হাবিবুর রহমানকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
হাবিবুর রহমানের স্মরণে সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. হাবিবুর রহমান, এসবিপি ২৮ বীর, রুমা জোনের একজন দায়িত্বশীল সিনিয়র জেসিও ছিলেন। তিনি সৎ, মেধাবী, কর্মঠ ও দক্ষ একজন সৈনিক হিসেবে দীর্ঘদিন অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এসবিপি ২৮ বীর, রুমা জোনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও) হিসেবে কর্মরত অবস্থায় তিনি দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও সাহসিকতার জন্য সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন অনুকরণীয়।
২০২২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বান্দরবান রিজিয়নের আওতাধীন রুমা জোনে সন্ত্রাসীদের অবস্থান সম্পর্কে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মো. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। একই দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সন্ত্রাসীরা টহল দলের ওপর অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করলে তিনি অসীম সাহসিকতার সঙ্গে পাল্টা আক্রমণ চালান। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিহত হন এবং বাধ্য হয়ে বাকি সন্ত্রাসীরা পিছু হটে। তখন একপর্যায়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. হাবিবুর রহমান বুকে ও মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন।
অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে একটি সাবমেশিন গান (এসএমজি), ২৭৫ রাউন্ড তাজা গুলি, ৩টি ম্যাগাজিন, ৩টি দেশীয় বন্দুক, পাঁচ রাউন্ড দেশীয় বন্দুকের গুলি, চার জোড়া সন্ত্রাসীদের ইউনিফর্ম এবং চাঁদাবাজির নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
দেশমাতৃকার নিরাপত্তা ও পার্বত্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষায় আত্মোৎসর্গকারী এই বীর সেনাসদস্যের সাহসিকতা ও ত্যাগ জাতির জন্য গর্বের। তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে সেনাবাহিনী পদক (এসবিপি) প্রদান করা হয়।
মন্তব্য করুন