

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকারকর্মী আইরিন খানকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে তাকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনকালীন আইরিন খান প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের বর্তমান স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন আইরিন খান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের নেতৃত্ব দেবেন তিনি।
বর্তমানে আইরিন খান জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের মতপ্রকাশ ও মতামতের স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২০ সালের আগস্টে এ দায়িত্ব গ্রহণের পর আন্তর্জাতিক পরিসরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন তিনি।
এর আগে ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল অর্গানাইজেশনের (আইডিএলও) প্রথম নারী মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সপ্তম মহাসচিব এবং সংস্থাটির প্রথম নারী প্রধান ছিলেন তিনি।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরেও দীর্ঘ ২১ বছর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন আইরিন খান। সদর দপ্তরের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশেও দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শরণার্থী সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি।
১৯৫৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করা আইরিন জুবাইদা খান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত মুখ। তিনি ঢাকার সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স গ্রীন হেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। পরে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ল স্কুল থেকে পাবলিক ইন্টারন্যাশনাল ল ও মানবাধিকার বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।
পারিবারিকভাবেও তিনি একটি সুপরিচিত পরিবারের সদস্য। তার চাচা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান ছিলেন।
মানবাধিকার, লিঙ্গসমতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক সম্মাননা পেয়েছেন আইরিন খান। ২০০৬ সালে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার রক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি মর্যাদাপূর্ণ সিডনি পিস প্রাইজ অর্জন করেন। এছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি।