কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:২১ পিএম
আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:৩১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ড. ইউনূস শ্রমিকের পাওনা বুঝিয়ে দেননি, ঘুষেও রফা হয়নি : তথ্যমন্ত্রী

গবেষক পপি দেবী থাপা গ্রন্থিত ‘শরণার্থীর জবানবন্দি ১৯৭১’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচনে অতিথিরা। ছবি : কালবেলা
গবেষক পপি দেবী থাপা গ্রন্থিত ‘শরণার্থীর জবানবন্দি ১৯৭১’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচনে অতিথিরা। ছবি : কালবেলা

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে শ্রমিকের পাওনা বুঝিয়ে না দেওয়ার অপরাধ সংঘটনের জন্য এবং তার প্রতিষ্ঠান ঘুষ দিয়ে সেটি ‘ম্যানেজ’ করার অপচেষ্টাও করেছে।

সোমবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের’ (পিআইবি) গবেষক পপি দেবী থাপা গ্রন্থিত ‘শরণার্থীর জবানবন্দি ১৯৭১’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন শেষে সাংবাদিকরা গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে প্রশ্ন করলে মন্ত্রী এ কথা বলেন। একুশে পদকপ্রাপ্ত পিআইবির মহাপরিচালক ও গবেষণাগ্রন্থটির মুখবন্ধকার জাফর ওয়াজেদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

উল্লেখ্য, এ দিন দুপুরে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলার একটি ধারায় গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. ইউনূসসহ চারজনের ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং আরেকটি ধারায় ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন ঢাকার আদালত। তবে রায় ঘোষণার পর আদালত আপিলের শর্তে ইউনূসের জামিন মঞ্জুর করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বহু নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ফৌজদারি ও দেওয়ানি অপরাধে শাস্তিপ্রাপ্ত হয়েছেন, অনেকে অনেক দিন জেলও খেটেছেন। যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পাওয়া একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এমন ঘটনাও আছে। আর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাহেবের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলতে চাই যে, ইউনূস সাহেব বহু বছর ধরে শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেননি। এরপর যখন শ্রমিকরা আদালতে গেছে, তখন আদালতের বাইরে দুজন শ্রমিক নেতাকে তার প্রতিষ্ঠান থেকে ৩ কোটি করে ৬ কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে ম্যানেজ করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সাধারণ শ্রমিকরা তো আর টাকা পায় নাই, দুজন নেতা টাকা পেলে তো আর হবে না। সে কারণে সাধারণ শ্রমিকরা মামলায় গেছে।

‘শ্রমিকের অধিকার নিয়ে তো অনেক কথা হয়, শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আমাদের বন্ধুরাষ্ট্রগুলো অনেক কথা বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্ধুরাষ্ট্ররা গার্মেন্টস শ্রমিকের পাওনা আদায়ের কথা বলে। আশা করবো তারা এ ব্যাপারেও কথা বলবে। শ্রমিকের পাওনা বুঝিয়ে না দেওয়ার কারণেই অর্থাৎ একটি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে বিধায় মামলা হয়েছে।’

‘বিএনপি যাদের চিঠি দিয়েছে তারাও এই নির্বাচনকে গ্রহণ করেছে।’ বিএনপি নির্বাচনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘকে চিঠি দিয়েছে- এ নিয়ে প্রশ্নে ড. হাছান বলেন, বিএনপি তো এখন দিগ্বিদিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। তারা ভেবেছিল দেশে নির্বাচন হবে না এবং নির্বাচন হলেও জনগণের অংশগ্রহণ থাকবে না। এখন তারা বুঝতে পেরেছে, জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে যেখানে বিএনপির সমর্থকরাও যোগ দিয়েছে।

তারা নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগে থেকেই পেট্রলবোমা, সন্ত্রাস, অগ্নিসন্ত্রাস চালিয়ে মানুষ হত্যা করে, মা ও শিশুকে এক সাথে হত্যা করে, ট্রেনলাইন কেটে, ট্রেনের ওপর পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে, গাড়িতে, বাসে মানুষের ওপর পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে নির্বাচন ভণ্ডুল করতে চেয়েছে, পারেনি। না পেরে তারা এখন তাদের সেই পুরোনো কায়দা বিদেশিদের কাছে চিঠি লেখা শুরু করেছে।

‘যারা পেট্রলবোমা সন্ত্রাস চালিয়েছে তাদের অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছে, ট্রেন লাইন যারা কেটে ফেলেছিল তারা ধরা পড়েছে, স্বীকার করেছে কে টাকা দিয়েছে, কার নির্দেশে এগুলো করেছে, এগুলো দিবালোকের মতো স্পষ্ট’- জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি এই কাজগুলো ২০১৩-১৪-১৫ সালে করেছে, এখন আবার করছে। এখন আত্মরক্ষার্থে চিঠিপত্র লিখছে। যাদের কাছে চিঠি লিখছে, তারাও এই নির্বাচনকে গ্রহণ করেছে, পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে এবং তারা বলছে, নির্বাচন যেন সহিংসতামুক্ত হয়। দেশের বিরুদ্ধে বহু চিঠি বিএনপি লিখেছে, এই চিঠিতে কোনো লাভ হবে না।

‘ভোট বন্ধ করার জন্য বিএনপি এখন প্রার্থীদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছে', এ প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো নির্বাচনী এলাকায় কোনো প্রার্থী মারা গেলে সেই আসনে নির্বাচনটা বন্ধ হয়ে যায়। সে কারণে তারা এই পরিকল্পনা করেছে। তবে সন্ত্রাসী দলের মতো এ সব ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না।’

‘শরণার্থীর জবানবন্দি ১৯৭১’- গ্রন্থ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ যে কতো বেদনার, কত সংগ্রামের, সেটি যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি তাদের পক্ষে অনুধাবন করা কঠিন। আমরা ১ কোটি শরণার্থীর কথা বলি, কিন্তু দেশের অভ্যন্তরেও ১ কোটি মানুষ শরণার্থী হয়েছিল, যাদের ঘরবাড়ি হানাদাররা জ্বালিয়ে দিয়েছিল, অপরের ঘর-বাড়িতে থাকত।

বাল্যস্মৃতিচারণ করে হাছান বলেন, ‘চট্টগ্রামের প্রান্তে রাঙ্গুনিয়ায় আমাদের গ্রামটা ছিল শরণার্থী যাওয়া আসার রোড। সেই পথ ধরে মিজোরাম যেতে হলে উঁচু পাহাড় পাড়ি দিতে হতো। অনেক বাচ্চা ও বয়স্ক যারা পাহাড়ে উঠতে পারত না, তাদের ফেলে অন্যরা চলে যেত -এ রকম বহু ঘটনা ঘটেছে।’

গ্রন্থকার, পিআইবির সহসম্পাদক আকিল উজ-জামান, গবেষক মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন বইমোড়ক উন্মোচনে অংশ নেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পিংক সল্ট কি সত্যিই বেশি উপকারী? যা বলছেন পুষ্টিবিদ

বিনামূল্যে এআই ও চাকরিমুখী প্রশিক্ষণ চালু করছে গুগল 

লোকালয়ে মেছোবাঘ, অতঃপর...

বিরল সিদ্ধান্তে চমকে দিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড

একযোগে গণঅধিকার পরিষদের শতাধিক নেতাকর্মীর পদত্যাগ

চীন থেকে দেওয়া সারজিসের স্ট্যাটাস ভাইরাল

যে হাতে সন্ত্রাসী-দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে লিখি, সে হাতেই হাতকড়া : সাংবাদিক পান্না

আমরা পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফিরতে চাই না : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা 

দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে মিলল হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত মরদেহ

সংকটে তাঁতশিল্প, কাজ হারিয়েছেন লক্ষাধিক

১০

লাল না সবুজ আপেল, কোনটা বেশি উপকারী?

১১

ইঞ্জিন চালু করতেই আগুন ধরে গেল অ্যাম্বুলেন্সে

১২

ক্রিকেটে ‘ফিরছেন’ শোয়েব আখতার-আফ্রিদি, খেলবেন টি-টোয়েন্টি ম্যাচ

১৩

টনসিল অপারেশনে শিশুর মৃত্যু, পুলিশ হেফাজতে ২ চিকিৎসক

১৪

চাকরি গেল সাবেক ম্যানইউ ও রিয়াল মাদ্রিদে কোচের

১৫

নির্বাচনী রোডম্যাপে জনআকাঙ্ক্ষার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি : এবি পার্টি

১৬

শুটিং সেটে ঝগড়া করলেন আয়ুষ্মান-সারা

১৭

ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে : ফারুক

১৮

মালয়েশিয়ার ৬৮তম স্বাধীনতা উদযাপনে নানা আয়োজন

১৯

‘প্রধান উপদেষ্টা গণঅভ্যুত্থানের চেতনার বিরোধী শক্তি হয়ে গেছেন’

২০
X