দেশকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দেওয়া আওয়ামী অপশক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে জনগণকে আগামীকাল ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি। এর আগে সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচন বর্জনে ৭ জানুয়ারিকে ইতিহাসের কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত করে পুরোদিন ‘স্বেচ্ছায় প্রতিবাদী লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি।
শনিবার (৬ জানুয়ারি) বিজয় নগরস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন এ আহ্বান জানান দলের আহ্বায়ক এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পার্টির সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু। সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার।
এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী বলেন, ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রকে চূড়ান্তভাবে দাফন করার আয়োজন চলছে। এ নির্বাচন জনগণের কোনো নির্বাচন নয়। এটি আওয়ামী লীগ, ডামি আওয়ামী লীগ, সরকারের পদলেহনকারী প্রশাসন ও সংস্থাসমূহের যৌথ নির্বাচন।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, এ সরকার দেশের জনগণের অধিকার, বাক্ স্বাধীনতা ও স্বাধীন মতামতের মাধ্যমে সরকার গঠনের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার পরম্পরায় ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো করে আগামীকাল আরেকটি সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করতে যাচ্ছে। একজনের একক সিদ্ধান্তে এ নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে। সরকারের লুটপাট অব্যাহত রাখার লাইসেন্স নবায়নের এ নির্বাচনকে দেশের জনগণ ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।
তিনি বলেন, ২৮ অক্টোবরের পর থেকে বিএনপি ও আন্দোলনরত বিরোধীদলগুলোর ওপর সরকার মর্মন্তুদ নির্যাতনের ভয়াবহ স্টিম রোলার চালিয়ে আসছে। পাশাপাশি সরকার পর্দার অন্তরালে লোভ প্রলোভন, ভয়-ভীতির মাধ্যমে দল ভাঙার ষড়যন্ত্র করেছে। এক রাতে সবাইকে মুক্তি দেওয়ার আশ্বাস, নির্বাচনে গেলে শত শত হাজার কোটি টাকা এবং সিট প্রদানের অফার। হানি ট্র্যাপ, মানি ট্র্যাপ করে নানাভাবে ফাঁদ পাতে।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের এতসব তাণ্ডব এবং মানুষকে জোর করে ভয় ভীতি দেখিয়ে ভোটকেন্দ্রে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি ৫ থেকে ১০ শতাংশের বেশি লোক ভোটকেন্দ্রে যাবে না। আমরা দৃপ্ত কণ্ঠে বলতে চাই, শোষিত মজলুমের বিজয় ও অপশাসনের করুণ পরিণতি ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে। ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশে সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে অচিরেই।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক বি এম নাজমুল হক, যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ব্যারিস্টার জোবায়ের আহমেদ ভুইয়া, আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, প্রচার সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুল, যুবপার্টির আহ্বায়ক এ বি এম খালিদ হাসান, সিনিয়র সহকারী সদস্যসচিব আব্দুল বাসেত মারজান, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আলতাফ হোসাইন, সহকারী সদস্যসচিব শাহ আব্দুর রহমান, এম আমজাদ খান, মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সদস্যসচিব কেফায়েত হোসেন তানভীর, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম নুর, যুবপার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক তোফাজ্জল হোসেন রমিজ, উত্তরের সদস্যসচিব শাহিনুর আক্তার শীলা, গাজীপুরের সদস্যসচিব রাজিয়া সুলতানা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমানুল্লাহ খান রাসেল, মশিউর রহমান মিলু, রিপন মাহমুদ, পল্টন থানা আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সি।
মন্তব্য করুন