ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:০২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারে শিশুদের পদচারণা 

শিশুদের পদচারণায় মুখরিত হয়েছে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। ছবি : কালবেলা
শিশুদের পদচারণায় মুখরিত হয়েছে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। ছবি : কালবেলা

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি...।’ ১৯৫২ সালে, মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলার অধিকারের লড়াইয়ে রক্ত দেওয়া সেই ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা জানাতে বড়দের পাশাপাশি শিশুদের পদচারণায়ও মুখরিত হয়েছে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে দেখা যায়, নানা শ্রেণি-পেশার অনেকেই তাদের পরিবারের শিশুদেরকে নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন। এ সময় শিশুদের হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে, মুখে জাতীয় পতাকার ছবি এঁকে এবং মাথায় মাতৃভাষা দিবস সম্বলিত ফিতা লাগিয়ে ফুল দিতে এবং ছবি তুলতে দেখা যায়। বাবা-মা, ভাই-বোন বা অভিভাবকদের সঙ্গে তারাও ফুল দিচ্ছেন শহীদ মিনারে। জাতীয় এই আচারে শিশুদের অংশগ্রহণের দৃশ্য যেন চমৎকার এক প্রদর্শনী। এ দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে শিশুদের ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন অনেকেই।

মিরপুর থেকে আসা রাকিব হাসান নামে একজন বলেন, আমি আমার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে এসেছি। তাকে নিয়ে এসেছি এজন্য যে, আমি চাই, আমার সন্তান ছোটবেলা থেকেই ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন তাদের প্রতি সম্মান রাখতে শিখুক, তাদের প্রতি সম্মানের গুরুত্ব সম্পর্কে জানুক এবং শহীদ মিনারের সাথে যে আমাদের আত্মার সম্পর্ক, সেই সম্পর্কটাকে অনুধাবন করতে শিখুক।

বাবা-মায়ের সাথে আসা মিষ্টি নামে এক শিশু বলেন, আমি আমার আব্বু আম্মুর সাথে শহীদ মিনারে ফুল দিতে এসেছি। এই শহীদ মিনারের ছবি আমাদের একটি বইয়ে আছে। আজ শহীদ মিনার বাস্তবে দেখলাম। আমার অনেক ভালো লেগেছে।

তাহমিনা সুলতানা নামে একজন বলেন, আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলাম, তখন প্রতিবছরই শহীদ মিনারে আসা হতো এবং ফুল দেয়া হতো। এটা এক অনন্য অনুভূতি। কিন্তু, সাবেক হওয়ার পর ঢাকার বাইরে থাকায় কয়েক বছর মিস হয়ে গেছে। কিন্তু এ বছর ঢাকায় থাকায় আর মিস হলো না। আমরা দুই বোন ও আমার একমাত্র ছেলেকে নিয়ে চলে আসলাম। আমার বাচ্চাটা কান্নাকাটি করছে না, বুঝা যাচ্ছে তার হয়তো ভালো লাগছে।

দিবসটি উপলক্ষে রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রীবর্গ, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান, সম্মানিত ভাষাসৈনিকবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, অনুষদের ডিনবৃন্দ ও হলের প্রাধ্যক্ষবৃন্দ। এরপর সাড়ে ১২টার দিকে সর্বস্তরের জনসাধারণের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দুকে মাতৃভাষা হিসাবে চাপিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিলে এর প্রতিবাদে সর্বস্তরের জনতা রাজপথে নেমে আসে। এদিন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের গুলিতে শহীদ হন বরকত, সালাম, রফিক জব্বারসহ অনেকেই।

ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর সারা বিশ্বে সম্মানের সাথে দিবসটি পালিত হয়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজয় আমাদের হয়ে গেছে, এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা : নুর

ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্ধারণ করবে গণভোট : আলী রিয়াজ

ইরানে ৩ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা

৪ দেশের বাংলাদেশ মিশনের প্রেস সচিবকে অব্যাহতি

নীরব ঘাতক থাইরয়েড ক্যানসার, এই ৬ লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হোন

যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর বার্তা

ভারতে বাংলাদেশে খেলার পরিবেশ নেই : আসিফ নজরুল

গণতন্ত্র রক্ষায় খালেদা জিয়া দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব : চসিক মেয়র

নির্বাচনের ট্রেন ট্রাকে উঠে গেছে : বদিউল আলম

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ‘রহস্যজনক’ অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি শতাধিক

১০

রংপুরের হ্যাটট্রিক হার

১১

পলকের প্রিজনভ্যানে ডিম নিক্ষেপ

১২

প্রথম দেশ হিসেবে স্টারলিংকও অচল করে দিল ইরান

১৩

স্পিরিট পানে প্রাণ গেল ৩ জনের

১৪

নির্বাচনী জনসভায় পুলিশের অনুমতি নিয়ে নতুন নির্দেশনা

১৫

নতুন জরিপে উঠে এলো বিএনপি-জামায়াতের ভোট কত শতাংশ

১৬

লাইফ সাপোর্টে গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফা, যা জানালেন চিকিৎসক 

১৭

তৃতীয় দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৪১, হারালেন ২৩ জন

১৮

খুবির ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের দুই শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার

১৯

মুস্তাফিজ থাকলে বাড়তে পারে নিরাপত্তা ঝুঁকি—বিসিবিকে আইসিসির অদ্ভুত সতর্কতা

২০
X