কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:০৬ পিএম
আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:১৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছে মানবাধিকার কমিশন

কথিত সমাজসেবক মিল্টন সমাদ্দার। ছবি : সংগৃহীত
কথিত সমাজসেবক মিল্টন সমাদ্দার। ছবি : সংগৃহীত

মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছে মানবাধিকার কমিশন। রোববার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইউশা রহমানের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৫ এপ্রিল ২০২৪ তারিখ কালবেলা পত্রিকায় ‘মানবিক মুখোশের আড়ালে ভয়ংকর মিল্টন সমাদ্দার’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নজরে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মিল্টন সমাদ্দার নামক এক ব্যক্তি ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’ নামের বৃদ্ধাশ্রম গড়ে রাস্তা থেকে অসুস্থ কিংবা ভবঘুরেদের কুড়িয়ে সেখানে আশ্রয় দেন। সেসব নারী-পুরুষ ও শিশুকে নিয়ে ভিডিও তৈরি করে প্রায়ই তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করতে দেখা যায়। মানুষের অসহায়ত্ব তুলে ধরে তাদের জন্য বিত্তবানদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। তার আবেদনে সাড়াও মেলে প্রচুর। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ১৬টির বেশি নম্বর এবং ৩টি ব্যাংক হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় কোটি টাকা জমা হয়। এর বাইরে অনেকেই তার প্রতিষ্ঠানে সরাসরি অনুদান দিয়ে আসেন। মানবিক কাজের জন্য এখন পর্যন্ত ৩টি রাষ্ট্রীয় পুরস্কারও পেয়েছেন মিল্টন সমাদ্দার।

এটি মিল্টনের আসল চেহারা নয়। প্রতিবেদনে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। মানবিকতার আড়ালে তিনি যা করেন, তা গা শিউরে ওঠার মতো। যেই প্রতিষ্ঠানের জন্য এত পরিচিতি, সেই আশ্রম ঘিরেই ভয়াবহ প্রতারণার জাল বিস্তার করেছেন মিল্টন। প্রকৃতপক্ষে যে কয়জনকে লালন-পালন করছেন, প্রচার করছেন তার চেয়ে কয়েক গুণ। লাশ দাফন করার যে হিসাব দিচ্ছেন, তাতেও আছে বিরাট গরমিল। সবচেয়ে ভয়ংকর হলো- মিল্টনের বিরুদ্ধে রয়েছে অসহায় মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার নামে তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রির অভিযোগ। মিল্টন সমাদ্দারের ব্যক্তি জীবনেও নৈতিকতা বা মানবিকতার বালাই নেই। কিশোর বয়স থেকেই ছিলেন অর্থলোভী। প্রতিবেশী, চিকিৎসক কিংবা সাংবাদিকরা বিভিন্ন সময় তার কাছে শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। এমনকি নিজের জন্মদাতা পিতাকেও বেধড়ক মারধরের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ফেসবুক পেজ ঘেঁটে দেখা যায়, তার আশ্রমে সব সময় আড়াইশ থেকে তিনশ অসুস্থ রোগী থাকেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে রাস্তায় যারা মারা যান, তাদের দাফন করেন মিল্টন। আবার তার আশ্রমে অবস্থানকালেও অনেকে মারা যান। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০০ মরদেহ দাফন করেছেন বলে মিল্টন দাবি করেন। মিল্টন জানান, যাদের দাফন করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ৬০০ জন তার আশ্রমে মারা গেছেন। আর বাকি ৩০০ মরদেহ রাস্তা থেকে এনে তিনি দাফন করেছেন। এসব মরদেহ রাজধানীর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান, রায়ের বাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থান ও আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে দাবি তার। তবে কালবেলার অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। সরেজমিন মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে গিয়ে জানা যায়, মিল্টন সমাদ্দারের প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে সেখানে সব মিলিয়ে ৫০টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়, এসব মরদেহের ডেথ সার্টিফিকেট কালবেলার হাতে রয়েছে। কালবেলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিল্টন সমাদ্দারের দক্ষিণ পাইকপাড়া আশ্রমের কাছেই বায়তুর সালাম জামে মসজিদ। এই মসজিদে এক সময় তার প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসা মরদেহ বিনামূল্যে গোসল করানো হতো। তার মানবিক কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে মসজিদ কর্তৃপক্ষ তাকে এই সুবিধা দিয়েছিল। তবে গোসল করানোর সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা প্রায় প্রতিটি মরদেহের বিভিন্ন স্থানে কাটাছেঁড়ার দাগ শনাক্ত করেন। এ বিষয়ে মিল্টন সমাদ্দারকে মসজিদ কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন করলে তিনি ওই মসজিদে মরদেহ পাঠানো বন্ধ করে দেন।

কালবেলায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে মানবসেবার অন্তরালে যে নির্মম ও বর্বরোচিত চিত্র ফুটে উঠেছে তা অত্যন্ত ভয়াবহ। মানবসেবা পরম ধর্ম কিন্তু মানব সেবার নামে মুখোশের আড়ালে রাস্তা থেকে অসুস্থ, অসহায় ও নিরীহ মানুষকে তুলে এনে চিকিৎসার নামে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রির যে অভিযোগ মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে উঠেছে তা অত্যন্ত ভীতিকর, ন্যক্কারজনক ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। গুরুতর অসুস্থদের হাসপাতালে না নিয়ে নিজ প্রতিষ্ঠানে আটকে রাখা, ভুয়া ডাক্তার কর্তৃক মৃত্যু সার্টিফিকেট তৈরি করা কিংবা মৃত লাশের শরীরে কাটাছেঁড়ার যে তথ্য প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে তার যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত মর্মে কমিশন মনে করে। এ অবস্থায় অভিযোগের বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক দ্রুত কমিশনে প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য পুলিশ কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক কমিশনে প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য মহাপরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে। আগামী ৩০/০৫/২০২৪ তারিখ প্রতিবেদনের জন্য ধার্য করা হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নির্বাচন নিয়ে বিএনপির কোনো শঙ্কা নেই : নুরুদ্দিন অপু

চিনির বিকল্প হিসেবে মধু খাওয়া কি ভালো? যা বলছে বিজ্ঞান

পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের উন্নতি

খালেদা জিয়া ছিলেন জনগণের নেত্রী : খন্দকার আবু আশফাক

ত্রয়োদশ সূর্য সেন স্মারক বিতর্ক উৎসবে ইউআইইউ রানার্স আপ

বহিষ্কৃত খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টাকে দলে ফেরাল বিএনপি

আপিলে বহাল জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন, মিষ্টি বিতরণ

ডাবলু হত্যা আইনের প্রতি চরম অবমাননা : মির্জা ফখরুল

সুযোগ পেলেই আয়নায় চোখ রাখছেন? যে রোগের শিকার হতে পারেন

নাগরিক ছাত্র ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতার বিএনপিতে যোগদান

১০

গুলি করে ভাইরাল সেই সোহাগ গ্রেপ্তার

১১

জাপানে কবি কাজী নজরুল ইসলাম সেন্টারের কমিটি গঠন

১২

বুধবার ঢাকায় আসছে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি

১৩

সংকটের মাঝেই বড় ধাক্কা, প্রধান কোচকে হারাল ঢাকা ক্যাপিটালস

১৪

ইরান ইস্যুতে মালালার স্ট্যাটাস, কার পক্ষ নিলেন

১৫

নোবেল বিজয়ীর দাবি / ইরানে লিথ্যাল উইপনের গুলিতে ১২ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত

১৬

চট্টগ্রাম বন্দরে ৯ ‘জুলাই যোদ্ধার’ নিয়োগ নিয়ে সমালোচনা

১৭

ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের আড়ালে গণহত্যা চলছে : নোবেল বিজয়ীর অভিযোগ

১৮

একাত্তরের পরম বন্ধুদের কথা : ভালোবাসায় বাড়ানো হাত

১৯

অবশেষে মুখ খুললেন তাহসান

২০
X