নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৫, ০৯:৪৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার রাস্তা : আন্দোলনের প্রেমে পড়া যানজট

ঢাকার রাস্তায় যানজট। ছবি : সংগৃহীত
ঢাকার রাস্তায় যানজট। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা শহরের রাস্তাগুলো যেন একেকটা নাটকের মঞ্চ। আর এই মঞ্চে প্রতিদিনই কোনো না কোনো নাটক মঞ্চস্থ হয়। নাটকের নাম? আন্দোলন! এই আন্দোলনের নাটকের প্রধান চরিত্র হলো রাস্তা ব্লক আর সঙ্গে অতিথি শিল্পী হিসেবে যানজট। দর্শক? আমরা, ঢাকার সাধারণ মানুষ, যারা এই নাটক দেখতে দেখতে জীবনের কয়েকটা বছর রাস্তায় কাটিয়ে দিচ্ছি।

আন্দোলনের ঢাকাই রেসিপি ঢাকায় আন্দোলনের রেসিপিটা বড্ড সহজ। প্রথমে একটা ইস্যু বাছাই করুন। ইস্যু যে কোনো কিছু হতে পারে- বাসের ভাড়া বাড়ানো, বিদ্যুৎ বিলের দাম, কিংবা কারও কথা মনঃকষ্টের কারণ হওয়া। এবার একদল লোক জোগাড় করুন, কয়েকটা ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে দিন, আর সোজা চলে যান শাহবাগ। রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিন, ব্যাস! আন্দোলন রেডি। এরপর যানজট নিজে থেকেই হাজির হবে, কারণ ঢাকার রাস্তাগুলো যেন আন্দোলনের জন্যই অপেক্ষা করে থাকে।

ঢাকার যানজট আর আন্দোলনের মধ্যে যেন একটা অলিখিত প্রেমের সম্পর্ক। একটি ছাড়া আরেকটি অসম্পূর্ণ। আন্দোলন শুরু হলেই যানজট এসে হাত ধরে বলে, ‘চিন্তা করিস না, আমি আছি!’ ফলে একটা ছোট্ট মিছিল মোহাচ্ছন্নের মতো পুরো শহরকে থমকে দেয়। অফিসগামী মানুষ, স্কুলের বাস, অ্যাম্বুলেন্স- সবাই যেন এই প্রেমের নাটকের পার্শ্বচরিত্র। কেউ কেউ বাসের মধ্যে বসে ফেসবুকে লাইভ দেন, কেউ আবার ট্রাফিকের মধ্যে সেলফি তুলে ক্যাপশন দেন, ‘ঢাকার জীবন, ভালোবাসার জীবন!’

এই আন্দোলন আর যানজটের মিলনে যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, তা হলো সাধারণ মানুষের ধৈর্য। ধরা যাক, আপনি সকালে অফিসে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছেন। রাস্তায় দেখলেন, একটা মিছিলের কারণে বাস থেমে আছে। ড্রাইভার বললেন, ‘ভাই, আরেকটু অপেক্ষা করেন, এখনই রাস্তা খুলবে।’ কিন্তু সেই ‘এখনই’ যেন ঢাকার সময়ের হিসেবে এক ঘণ্টা পর। এর মধ্যে বাসের ভেতরে একজন চাচা ফোনের স্পিকারে গান বাজাচ্ছেন, আরেকজন ভাই টিকটকের জন্য ভিডিও বানাচ্ছেন। এরইমাঝে আবার একদল আসবে, হাতে তালি দিয়ে ১০ টাকা করে নিয়ে যাবে। আপনি শুধু জানালা দিয়ে তাকিয়ে ভাববেন, ‘এই শহরে বেঁচে থাকাটাই একটা আন্দোলন!’

এখন প্রশ্ন হলো, এই আন্দোলন আর যানজটের প্রেমকাহিনি থেকে ঢাকাকে মুক্তি দেওয়ার উপায় কী? একটা উপায় হতে পারে, আন্দোলনের জন্য আলাদা একটা ‘আন্দোলন পার্ক’ বানানো। সেখানে সবাই গিয়ে স্লোগান দিক, ব্যানার টানাক, কিন্তু রাস্তা যেন ফাঁকা থাকে। আরেকটা উপায় হলো, প্রতিটি মিছিলের সঙ্গে একটা ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট টিম থাকুক, যারা নিশ্চিত করবে যে আন্দোলন হলেও যানজট না হয়। তবে এই স্বপ্নগুলো বাস্তবে আনতে গেলে হয়তো আরেকটা আন্দোলন লাগবে, আর সেটাও ঢাকার রাস্তায়!

ঢাকার রাস্তা আর আন্দোলনের এই প্রেমকাহিনি যেন চিরন্তন। আমরা, ঢাকার বাসিন্দারা, এই নাটকের দর্শক হয়ে বছরের পর বছর কাটিয়ে দিচ্ছি। তবে একটা কথা মনে রাখা দরকার- ঢাকা শহর শুধু আন্দোলন আর যানজটের নয়, এটি আমাদের স্বপ্ন, সংগ্রাম আর বেঁচে থাকার গল্পের শহর। তাই পরের বার যখন রাস্তায় আটকে যাবেন, একটু হেসে নেবেন। কারণ, এই যানজটের মধ্যেও ঢাকা আমাদের শেখায়, ধৈর্য আর হাসির মাঝেই জীবনের মজা!

[ নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। দৈনিক কালবেলার সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, দৈনিক কালবেলা কর্তৃপক্ষের নয়। ]
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরান চুক্তি ও ট্রাম্পের ওপর ভীষণ ক্ষুব্ধ অনেক ইসরায়েলি

শ্রমিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় কারখানায় উত্তেজনা, সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা

পিডিপির ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত

বড় পর্দায় ফেরার অপেক্ষায় ফারিন

ইঁদুরে তার কাটায় রাজধানীতে দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল এআই ক্যামেরা!

ট্রাম্পের শান্তি চুক্তিতে অশান্তি করতে পারেন নেতানিয়াহু : মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা

ঢাকা কলেজে ছাত্রশিবিরের বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ

বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়েনি, এটা ইতিহাসে প্রথম : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফরে গুরুত্ব পাবে যেসব বিষয়

ব্রাজিলের জয়ে মাথা ন্যাড়া, কথা রাখলেন আর্জেন্টিনা সমর্থক রাফি

১০

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এমওইউ নিয়ে হোয়াইট হাউসের বার্তা

১১

বিশ্ব শরণার্থী দিবস ২০২৬ : ‘যতক্ষণ না সবাই নিরাপদ’

১২

বেনজীরকে ফেরাতে দুবাইয়ে ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি পাঠানো হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৩

আগামী সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্য সফরে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

১৪

শেষ হলো আন্তর্জাতিক দৌড় প্রতিযোগিতার ৩য় আসর

১৫

পেনশনে বড় সুখবর : ৫ বছর চাকরিতেই সুবিধা, সর্বোচ্চ হার ৯০ শতাংশ

১৬

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার চাপ সামলাতে বাড়তে পারে ট্রাইব্যুনাল: চিফ প্রসিকিউটর

১৭

হবিগঞ্জে গ্যাসের সন্ধান, চলছে অনুসন্ধান

১৮

বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার পর পরিদর্শনে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী

১৯

আর্জেন্টিনার পতাকা চুরি, থানায় অভিযোগ সমর্থকের

২০
X