মোহাম্মদ আব্দুর রহমান
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৪, ১১:৫৩ এএম
আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৪, ১১:৫৫ এএম
অনলাইন সংস্করণ

নৈতিকতাসম্পন্ন জাতি গঠনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা

মোহাম্মদ আব্দুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
মোহাম্মদ আব্দুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত

দেশ ও জাতির সামগ্রিক উন্নয়নে শিক্ষার গুণগত মান ও মানসম্মত শিক্ষা একান্ত দরকার। শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটানো খুবই জরুরি।

দেশের বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থায় পাসের হার প্রতি বছর বাড়লেও শিক্ষার্থীর মেধা সঠিকভাবে বিকশিত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে দেশের ও সমাজের অনেকেরই।

বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলের মধ্যে একটি বিষয় সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়, তা হলো জিপিএ-৫। তাদের ধারণাটা এমনই যে, পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া মানে মহাকাশ জয় করা। আপনাকে আমাকে এটি স্মরণ রাখতে হবে যে, তাদের মেধা বা প্রতিভা সঠিকভাবে বিকশিত হচ্ছে কিনা? লোক দেখানো জিপিএ-৫ শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে দেশ ও জাতি একদিন গভীর সামাজিক সংকটের মুখে পড়তে পারে বা পড়বে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলি গড়ে তুলতে পরিবারকে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ পরিবারেই এসবের বীজ প্রথিত হয়। এ ছাড়া সামাজিক পরিবেশ দেখে শিশুরা অনেক কিছু শেখে। এ জন্য সমাজকে গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে। সামাজিক কৃষ্টি-কালচার, রীতিনীতিও শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ সৃষ্টিতে প্রভাব ফেলে।

তাই প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার সকল স্তরে নিয়মিত দেশের কৃষ্টিকালচার বিষয়ক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে একটি শক্ত ভিত গড়ে উঠবে।

এছাড়া ধর্মের প্রকৃত পাঠই শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। এক্ষেত্রে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে কেউ যাতে শিক্ষার্থীদের ভুল পথে পরিচালিত করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকাশের বিষয়টি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকের ত্রিভুজ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।

জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘মানুষ করে তোলাই শিক্ষা’। এখন ভালো মানুষ হলো, ‘যে কখনই কারও কোনো ক্ষতি করে না, সকলের প্রতি সহমর্মিতার মানসিকতা পোষণ করে এবং তার ওপর অর্পিত পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে।’ আমাদের সন্তানদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের।

এ বিষয়ে শিক্ষকদের ভূমিকা এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট বলতে বাধ্য হয়েছেন, ‘আমি আমার বাবার কাছে ঋণী জীবনের জন্য, কিন্তু আমার শিক্ষকের কাছে ঋণী সুন্দর জীবনের জন্য।’ তাই ‘ভালো মানুষ গড়া’ প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ও পবিত্র দায়িত্ব হওয়া উচিত। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য লেখাপড়া, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রমে সুপরিকল্পিত নৈতিকতা শিক্ষা ও ধর্মীয় অনুশীলন অত্যন্ত জরুরি।

সালাম প্রদান সম্পর্কে হজরত মোহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে পরিচিত-অপরিচিত সকলকে খেতে দেয় এবং সালাম প্রদান করে’ (বোখারি ও মুসলিম)। সালাম প্রদান মানুষকে বিনয়ী করে এবং অন্যের কাছে নিজেকে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। এ জন্যই সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সিনিয়র ভাইবোনকে সালাম প্রদান করা সকল শিক্ষার্থীর জন্য আবশ্যক করা উচিত।

বিদ্যালয়গুলোতে অ্যাসেম্বিলির শুরুতে শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট তরজমাসহ আয়াত পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়ে থাকে। পরে জাতীয় পতাকাকে সালাম প্রদানের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়। এর পরে সকলে নিম্নলিখিত শপথ বাণী পাঠ করে, ‘আমি শপথ করছি যে, মানুষের সেবায় সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখব, দেশের প্রতি অনুগত থাকব। দেশের একতা ও সংহতি বজায় রাখার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকব। অন্যায় ও দুর্নীতি করব না এবং প্রশ্রয়ও দেব না। কোনো ব্যক্তির ক্ষতি করব না। প্রতিদিন কমপক্ষে একটি ভালো কাজ করব। হে আল্লাহ! আমাকে শক্তি দাও, আমি যেন বাংলাদেশের সেবা করতে পারি এবং বাংলাদেশকে একটি আদর্শ ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। আমিন!’ এরপর পরম আবেগে দেশপ্রেমে আপ্লুত হয়ে সকলে গেয়ে উঠে জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা...’।

পরে প্রতিষ্ঠানের প্রধান মহোদয় প্রদান করেন প্রেরণামূলক বক্তব্য, যেখানে তিনি বার বার সকলকে স্মরণ করিয়ে দেন পিতা-মাতা, পরিবার, সমাজ ও দেশের প্রতি তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

মোহাম্মদ আব্দুর রহমান সহকারী শিক্ষক, ইংরেজি দূর্গাপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ।

[ নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। দৈনিক কালবেলার সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, দৈনিক কালবেলা কর্তৃপক্ষের নয়। ]
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ওয়ালটনে চাকরির সুযোগ, পাবেন একাধিক সুবিধা

ট্রেনের ধাক্কায় আধা কিলোমিটার দূরে ছিটকে পড়ল অটোরিকশা

বাড়ির পাশে খেলছিল ভাই-বোন, অতঃপর...

ক্ষুব্ধ নাগরিকরা, ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রীর বাড়িতে লুটপাট

দেড় ঘণ্টা ধরে পিটিয়ে মৃত ভেবে ফেলে গেল গ্রামবাসী

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে এনসিপি

ড. ইউনূসের ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে আজ : মোস্তফা ফিরোজ

‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে অঙ্গীকার করতে হবে’

ঢাবি ছাত্রলীগ সেক্রেটারি সৈকত ফের রিমান্ডে 

পদ্মা ব্যাংকে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মশালা 

১০

সম্পদ বিবরণী জারির নোটিশ / অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল দম্পতির বিপুল সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দুদক

১১

শেষ মুহূর্তের গোলে ভারতকে হারাল বাংলাদেশ

১২

ধানমন্ডিতে আ.লীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ

১৩

মেট্রোরেলে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন করুন এখনই

১৪

সেপটিক ট্যাংক থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

১৫

শিশুকে অপহরণের পর থানায় অভিযোগের পরামর্শ দেন তারা

১৬

চবিতে দুই ছাত্রকে কুপিয়ে ছাদ থেকে ফেলে নির্যাতন

১৭

ফোরজি ইন্টারনেট নিয়ে সুখবর, সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর

১৮

মানুষের পালানোর সব পথ বন্ধ করতে শহরের চারপাশে দেওয়া হচ্ছে মাটির দেয়াল

১৯

শুধু সৌন্দর্যে নয়, পুষ্টিগুণেও ভরপুর শাপলা

২০
X