কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৫, ১০:৫০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সংবিধানের মূলনীতি নিয়ে গণভোটে যেতে হবে : ইসলামী আন্দোলন

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে অংশ নিয়ে কথা বলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। ছবি : কালবেলা
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে অংশ নিয়ে কথা বলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। ছবি : কালবেলা

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, বিস্ময়কর ব্যাপার হলো সংবিধানের মূলনীতি নিয়ে আলোচনায় ’৭২ এর সংবিধানকে ভিত্তি ধরে আলোচনা করা হচ্ছে। অথচ ’৭২ এ সংবিধান যারা প্রণয়ন করেছেন তারা পাকিস্তানের সংবিধান রচনার জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান রচনা করার জন্য তাদের ম্যান্ডেটই ছিল না।

রোববার (২২ জুন) জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে। কিন্তু সংবিধান প্রণয়ন সভায় শুধু একটি দলের প্রতিনিধিত্ব ছিল। যুদ্ধে অংশ নেওয়া অন্যদলগুলোর মতামত সংবিধানে প্রতিফলিত হয়নি। ফলে ’৭২ এর সংবিধান একক দলের সংবিধান যেখানে আবার দুঃখজনকভাবে ভারতের সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই মূলনীতি ঠিক করা হয়েছে। ফলে ’৭২ এর সংবিধানের প্রতি জনগণের সমর্থন ছিল কিনা সেই প্রশ্ন গুরুতরভাবে বিদ্যমান আছে।

তিনি বলেন, আল্লাহর ওপরে আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপনের ব্যাপারে কেউ কেউ বলছেন যে, এতে নাকি বিশেষ ধর্মের প্রতি প্রধান্য দেওয়া হয়। তাদেরকে বাংলাদেশের সামাজিক, ধর্মীয় ও আমাদের জিওপলিটিক্যাল বাস্তবতা বিবেচনায় রাখতে হবে। এখানে আবেগে কাজ হবে না। আমাদের রাষ্ট্র টিকে আছে কিসের ওপরে তা চিন্তা করতে হবে। আমরা একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র। আমাদের চারপাশে শত্রু। আমাদের স্বাধীনতা, স্বকীয়তার ভিত্তি কি তা আমাদের বুঝতে হবে। শুধু ধর্মনিরপেক্ষতা ও বহুত্ববাদের কথা বললে আমাদের রাষ্ট্র টিকবে না।

আমাদের রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্বের ভিত্তি হলো ইসলাম। ইসলাম না থাকলে আমাদের আলাদা ভূখণ্ড হতো না। ভারতের সঙ্গে মিশতে আমাদের সমস্যা ছিল না। অতএব এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই আমাদের রাষ্ট্রের মূলনীতি ঠিক করতে হবে। তাই সংবিধানের মুলনীতির প্রশ্নে একমত না হলে বিষয়টাকে গণভোটে নিয়ে যেতে হবে। কারণ, আমরা কয়েকটা দল মিলে এমন গুরুত্বপূর্ণ একটা সিদ্ধান্ত নিলাম তা হতে পারে না। কারণ, এটা আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন আমাদের ভবিষ্যতের অস্তিত্বের প্রশ্ন।

সংলাপ শেষে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, সাম্য ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের জন্য বহুবার আন্দোলন করেছি। কিন্তু আমরা কি দেখছি? সুইস ব্যাংকে পাচারকৃত টাকার পরিমাণ বেড়েই চলছে।

এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য পিআর (সংখ্যানুপাতিক) পদ্ধতিই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। ৯১টা দেশে পিআর আছে। মানুষ কোনো দলকে ভোট দেবে না বরং ভোট দেবে দলকে। এই পদ্ধতিতে সংসদ হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতি। সংসদ হবে জবাবদিহিতামূলক সংসদ। সেজন্য আমরা এই দাবির পক্ষে জোড়ালো আন্দোলন গড়ে তুলছি। এটাই হবে জুলাই অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে চায় তুরস্ক 

যেসব লক্ষণে বুঝবেন আপনার শরীর বিরতি চাইছে

কারাগারে হাজতির মৃত্যু

শিয়ালের কামড়ে ঘুমন্ত বৃদ্ধার মৃত্যু

১৯ জেলায় বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, থাকবে কতদিন 

বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা শাহজালাল 

চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

ভুলেও যে ৫ খাবারের সঙ্গে ডিম না খাওয়াই ভালো

প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর তাসনিম জারার স্ট্যাটাস

চবির এক সিন্ডিকেটে ১৫৩ নিয়োগ 

১০

দেশবাসী তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে আছে : মির্জা ফখরুল

১১

ব্র্যাকে চাকরির সুযোগ

১২

ইলেকট্রিশিয়ান পদে নিয়োগ দিচ্ছে আড়ং

১৩

আ.লীগ নেতা তোজাম্মেল গ্রেপ্তার

১৪

আইসিসি থেকে বিসিবি কত টাকা পায়, যা জানা গেল

১৫

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন তাসনিম জারা

১৬

শিবচরের খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

১৭

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল

১৮

আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার, এসআই আহত

১৯

রাজধানীতে ফাস্ট ওয়াশ ঢাকা ম্যানস হাফ ম্যারাথন অনুষ্ঠিত

২০
X