কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:৩২ এএম
অনলাইন সংস্করণ

নতুন সাইবার আইন গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী : সাইফুল হক

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। ছবি : কালবেলা
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। ছবি : কালবেলা

নতুন সাইবার নিরাপত্তা আইন সংবিধান স্বীকৃত গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সচিবালয় অভিমুখে বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে এই মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় সংসদে সাইবার নিরাপত্তা আইন পাসের কঠোর সমালোচনা করে সাইফুল হক বলেন, হয়রানি ও নিপীড়নমূলক নতুন এই আইন নাগরিকদের সংবিধান স্বীকৃত গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। কোনো সভ্য দেশ পুলিশকে পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি ও গ্রেফতারের অনুমতি দিতে পারে না।

তিনি বলেন, বিরোধী দল ও মতকে দমন করার এই আইন দেশকে আরও নিপীড়নমূলক ও স্বৈরতন্ত্রী করে তুলবে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, মানুষের পেটে আগুন, মার্কেট আর বাজারেও আগুন- সরকার কোনোভাবেই এর দায় এড়াতে পারে না। জীবনযাত্রার ব্যয় মিটাতে মানুষ দিশেহারা ও নাকাল। বাজারের আগুনে মানুষ আজ বড় অসহায়।এরমধ্যে জীবন টিকিয়ে রাখতে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠেছে। গোটা বাজার ব্যবস্থায় রীতিমতো নৈরাজ্য চলছে।

তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে মুনাফাখোর সিন্ডিকেটের অশুভ আঁতাত ও যোগসাজশের কারণেই বাজার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণহীন; বাজারে চলছে চরম স্বেচ্ছাচারিতা। উৎপাদন, সরবরাহ ও মজুদে তেমন কোন ঘাটতি না থাকলেও প্রায় প্রতিটি খাদ্যপণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে।

সাইফুল হক ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন, সরকারের মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য অস্বীকার করায় এরা এখন আরও বেপরোয়া।

তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, যে সরকার মশা মারতে পারে না- সেই সরকার কীভাবে দেশ চালাবে। ডেংগুতে মৃত্যুকে তিনি এক ধরনের হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করে ব্যর্থতার দায় নিয়ে অবিলম্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ঢাকার দুই মেয়রের পদত্যাগ দাবি করেন।

তিনি বলেন, গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে সরকার আজ দেশ ও জনগণকেই বাজি ধরেছে। তিনি অবৈধ দখলদারিত্ব থেকে দেশ ও জনগণকে মুক্ত করতে আর একটি গণজাগরণ- গণঅভ্যুত্থানের ডাক দেন।

বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, আবু হাসান টিপু, আনছার আলী দুলাল, মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাশিদা বেগম, সাইফুল ইসলাম, স্নিগ্ধা সুলতানা ইভা, ঢাকা মহানগর সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, কবি জামাল সিকদার প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির বিক্ষোভ মিছিল প্রথমে পুরানা পল্টনে পুলিশের ব্যারিকেডের সম্মুখীন হয়। নেতাকর্মী এই ব্যারিকেড ভেঙ্গে জিরো পয়েন্ট দিয়ে সচিবালয়ের মুখে দ্বিতীয় ব্যারিকেডের মুখোমুখি হয়। এখানে পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের ধস্তাধস্তি হয়। এতে পার্টির কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়।

পরে পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, দাবি আদায় না হলে অচিরে সচিবালয় ঘেরাওসহ আন্দোলনের বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এরপর তিনি বিক্ষোভ কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চর দখলের চেষ্টা

নামাজে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল মুসল্লির

ঋণখেলাপি হওয়ায় মনোনয়ন বাতিল, যা বললেন বিএনপির প্রার্থী রফিকুল

গণতন্ত্র রক্ষায় আজীবন সংগ্রাম করেছেন খালেদা জিয়া : সেলিমুজ্জামান

সাংবাদিক জাহিদ রিপন মারা গেছেন

জাতীয় ছাত্র-শক্তি নেতার পদত্যাগ

শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় যুবকদের নেশা মুক্ত করতে হবে : শেখ আব্দুল্লাহ 

এক সঙ্গে ধরা পড়ল ৬৭৭টি লাল কোরাল

ঐক্যই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি : কবীর ভূঁইয়া

বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত বেড়ে ২

১০

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ‘রোহিঙ্গা’ বললেন রুমিন ফারহানা

১১

বিএনপি থেকে আ.লীগে যোগ দেওয়া সেই একরামুজ্জামানের স্বতন্ত্র প্রার্থিতা প্রত্যাহার

১২

ঋণখেলাপি হওয়ায় মনোনয়ন বাতিল আরেক বিএনপি প্রার্থীর

১৩

নির্বাচনে খরচ করতে রুমিন ফারহানাকে টাকা দিলেন বৃদ্ধা

১৪

বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যার মূল শুটার গ্রেপ্তার

১৫

ইরানজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ

১৬

ইসলামী মূল্যবোধেই রাজনীতি করবে বিএনপি : ইশরাক

১৭

বাস উল্টে নিহত ২

১৮

প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত চেয়ে আইনি নোটিশ

১৯

রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে বিএনপি নেতার আবেদন

২০
X