কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৪৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

অস্থিরতার মধ্যে বাস করছেন, জানালেন মির্জা ফখরুল

বক্তব্য রাখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : কালবেলা
বক্তব্য রাখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : কালবেলা

অস্থিরতার মধ্যে বাস করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ রচিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই মুহূর্তে মওদুদ আহমদকে খুব বেশি দরকার ছিল। আমরা একটা অস্থিরতার মধ্যে বাস করছি। এই অস্থিরতা থেকে যে মানুষগুলো আমাদের পথ দেখাতে পারতেন, দিশা দেখাতে পারতেন। তাদের মধ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ ছিলেন অন্যতম। আমার দুঃখ হয়, তিনি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন দেখে যেতে পারেননি। যেটা তিনি আন্তরিকভাবেই দেখতে চেয়েছিলেন, এটা দুঃখজনক।’

তিনি বলেন, ‘ব্যারিস্টার মওদুদ নিষ্ঠার সঙ্গে ইতিহাস চর্চা করতেন। রাজনীতিবিদ মওদুদের হয়তো কিছুটা সমালোচনা বা বিতর্ক থাকতে পারে; তবে ইতিহাস লেখার ক্ষেত্রে তার সমালোচনা করার কিছু রয়েছে বলে আমার মনে হয় না।’

মওদুদ আহমদকে ‘রাজনীতির বিচিত্রধর্মী পুরুষ’ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আপাদমস্তক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক নেতা ছিলেন মওদুদ। বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন সময় তিনি বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নিয়েছেন। যদি খুঁজে দেখি-মূলত গণতন্ত্রে ফিরে আসার উপায়টা বের করতেই তিনি সেখানে গিয়েছেন। এতে তাকে মূল্যায়ন করার ভালো পথ হবে। যে তরুণ সমাজ আমাদের ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে উদ্ধার করেছে, তাদের জন্য মওদুদের লেখনী গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রয়াত মওদুদ আহমদের স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের কাজের সঙ্গে আমি কিছুটা পরিচিত। আমার মনে আছে, ২০১২ সালে যখন আমরা (ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হান্নান শাহ, কর্নেল (অব.) অলি আহমদ) প্রায় ১৭ জন প্রথম জেলে গেলাম একসঙ্গে। জেল তখন পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে। জেলে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের যে এন্ট্রি হয়, এন্ট্রি হওয়ার পরেই দেখলাম যে, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ দ্রুতগতিতে ডিভিশন সেল থেকে অন্য একটি রুমের দিকে এগোচ্ছেন। তার পেছনে পেছনে দেখলাম, মির্জা আব্বাসও দ্রুত যাচ্ছেন। আমি বুঝতে পারিনি। কারণ প্রথম আমি সেন্ট্রাল জেলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার পাশে আবার আমান উল্লাহ আমান ছিলেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ব্যারিস্টার মওদুদ এতো দ্রুত যাচ্ছেন কেন? আমাকে বললেন, আপনি জানেন না, ওখানে একটা রুম আছে, রুম নম্বর ওয়ান। ওখানে গিয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ ঢুকে পড়লেন। ওখানে মির্জা আব্বাসও যেতে চান। অর্থাৎ উনি যতদিন জেলে থাকবেন, লেখার কাজে উনি পুরোপুরি নিজেকে নিয়োজিত করবেন। প্রায় ১০-১২ দিন ওই জেলে ছিলাম। দেখেছি, উনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেন, তারপরে তিনি লিখতে বসে যেতেন। উনি সারাদিন লিখতেন। শুধুমাত্র খাওয়ার সময় একটু বেরিয়ে আসতেন।’

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রতিপক্ষকে ১০ গোল দেওয়ার ম্যাচে যে রেকর্ড গড়লেন পেপ গার্দিওলা

স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন / সম্ভাব্য ইরান হামলা নিয়ে ‘প্রাথমিক’ আলোচনা করেছে ওয়াশিংটন

তামিম বিতর্কে অবস্থান পরিষ্কার করল কোয়াব

কিউই সিরিজের আগে ভারতীয় শিবিরে দুঃসংবাদ

আরেকবার চেষ্টা করে দেখি : মাহফুজ আলম

১১ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

বরিশালে ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা

৯ ঘণ্টা পর আইন বিভাগের সেই শিক্ষককে ছাড়ল চবি প্রশাসন

জমি নিয়ে বিরোধে ধস্তাধস্তি, একজনের মৃত্যু

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুপক্ষের সংঘর্ষ, গুলিতে নিহত ১

১০

পাকিস্তানে বোমা বিস্ফোরণে জমিয়ত নেতা নিহত

১১

প্রথম দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৫১, হারালেন ১ জন

১২

সুসংবাদ পেলেন বিএনপির আরও দুই নেতা

১৩

খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় আইইবির দোয়া ও শীতবস্ত্র বিতরণ

১৪

সিমেন্ট কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৮

১৫

কোনো দুষ্কৃতিকারী বিএনপি করতে পারবে না : রবিউল আলম

১৬

রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির বকুলতলায় স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিদের নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন

১৭

আ.লীগের মতোই জঘন্য কাজ করছে জামায়াত : কায়কোবাদ

১৮

কবিতা মানুষের মনে সৌন্দর্য, অনুভূতি ও ভাবনা নিয়ে আসে : আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ

১৯

খালেদা জিয়া ছিলেন জাতীয়তাবাদী শক্তির আদর্শ : পিএনপি

২০
X