

ইসলামপন্থি দলগুলোর ভোট এক বাক্সে আনার কথা যখন উঠেছিল, তখন সেই দলগুলোর কোনো কোনো নেতা ইসলামি বা শরিয়া আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের কথাও বলেছেন।
কিন্তু পরবর্তীকালে এই জোটে এনসিপি, এবি পার্টির মতো ধর্মভিত্তিক নয়, এমন দলগুলোও যুক্ত হয়। ফলে জুলাই সনদে একমত থাকলেও এই জোট শরিয়া রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবে, নাকি প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থাকেই গ্রহণ করবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব দাবি করে বলেন, শরিয়া রাষ্ট্র গঠন করা হবে, এমন কথা জামায়াত বা অন্য দলগুলো বলছে না।
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে জামায়াত যে ইসলামি রাষ্ট্র করবে, এমনটা তারা কিন্তু বলেনি। কারণ তারা সেই জায়গা থেকে বের হয়ে সবগুলো দল মিলে গণতান্ত্রিক জায়গায় এসেছে, জোট করেছে।’
এখন প্রশ্ন উঠছে, তাহলে ধর্মভিত্তিক দলগুলো কি শরিয়া রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আদর্শ থেকে বের হয়ে এসেছে? কারণ গত সপ্তাহে ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে সরে যাওয়ার আগে এই কারণটিকেই সামনে এনেছিল ইসলামী আন্দোলন।
যদিও জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলো অবশ্য সেটা নাকচ করছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ‘যার যার আদর্শ, যার যার রাষ্ট্রকল্প, যার যার রাজনৈতিক দর্শন, তার তার কাছে অটুট আছে, অক্ষুণ্ন আছে। আমরা এই মুহূর্তে বাংলাদেশটাকে সবার আগে ইনসাফের বাংলাদেশ হিসেবে গড়তে চাই।’
ইসলামপন্থি দলগুলো বলছে, তাদের শরিয়া বা ইসলামি আইনভিত্তিক রাষ্ট্রের ধারণা আছে। কিন্তু বাস্তবায়ন তারা হঠাৎ করে করতে চান না।
‘জনগণকে প্রস্তুত করে ধাপে ধাপে এটা হবে’, বলেন মামুনুল হক।
একই রকম কথা বলছে জামায়াতও। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এখন তো দেশে বিদ্যমান একটা আইন আছে। যে দলই জিতুক, কালকে গিয়েই তো সে সব আইন বদলাতে পারবে না। তার জন্য একটা প্রসিডিউর (প্রক্রিয়া) এর মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সংসদ লাগবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে, তাদের মধ্যে একটা মিউচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং দরকার হবে। মানুষের জন্য কল্যাণকর, মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়, এমন সব বিধান আমরা অ্যালাউ করব। তো এটা তো ইসলামও অ্যালাউ করে।’
সূত্র : বিবিসি বাংলা
মন্তব্য করুন