ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৫, ১১:৪৯ এএম
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:১২ এএম
অনলাইন সংস্করণ

‘জুমা মোবারক’ বলে শুভেচ্ছা বিনিময় কি জায়েজ?

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

সপ্তাহের সাত দিনের মাঝে মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে পবিত্র, মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ দিন হচ্ছে জুমা। এই দিনটিকে আল্লাহ তায়ালা বিশেষভাবে সম্মানিত করেছেন। পৃথিবীতে সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বরকতময় দিন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন স্বয়ং রাসুলও (সা.) । শুধু তাই নয়, এই দিনে মুসলিম উম্মাহর জন্য রয়েছে বিশেষ কিছু করণীয়, যা পালন করলে মিলবে অপার সওয়াব ও পরকালীন সফলতা।

জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে কোরআন ও হাদিসে এসেছে অসংখ্য ফজিলতের বর্ণনা। তবে, আমাদের দেশে শুক্রবার এলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘জুমা মোবারক’ বলে অভিবাদনের প্রথা দেখা যায়। কিন্তু জুমাবারকে সামনে রেখে এভাবে ‘জুমা মোবারক’ বলে শুভেচ্ছা জানানো কি জায়েজ? এ ব্যাপারে সঠিক সমাধান জানা প্রয়োজন।

হাদিসে জুমার দিনের জন্য আলাদা অভিবাদনের কোনো শব্দ বা বাক্য নেই। নবীযুগ ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় নাই। আর নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কেউ যদি আমাদের (ইসলামের) সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়, এমন কোনো আমল করে, তা প্রত্যাখ্যাত হবে।’ (বোখারি : ৩৫০৮)

বিশেষজ্ঞ আলেমরা বলছেন, ‘জুমা মোবারক’ একটি দোয়া। শুধু দোয়া হিসেবে, কোনো প্রথা বা রীতিনীতির পেছনে না পড়ে ‘জুমা মোবারক’ বলা যাবে। তবে, প্রতি জুমাবার এটিকে আবশ্যকীয় আমল মনে করা যাবে না।

এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, সাহাবিদের মধ্যে ঈদের দিনে পরস্পর পরস্পরকে অভিবাদন জানানো, শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়টি প্রমাণিত। তবে জুমার দিনে আলাদা কোনো শুভেচ্ছা বিনিময় বা অভিবাদন জানানো বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। কাজেই হাদিসে জুমাবারকে ঈদের দিন উল্লেখ করা হলেও ঈদের দিনের মতো শুভেচ্ছা বিনিময় করা সুন্নাহসম্মত নয়। অতএব ‘জুমা মোবারক’ বলে শুভেচ্ছা বিনিময় সুন্নাহ নয়।

সবাইকে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, ‘জুমা মোবারক’ বলা-কে যদি আমরা নিয়মিত সিস্টেম বানিয়ে ফেলি, তাহলে এটি বিদআতের দিকে চলে যেতে পারে। সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, জুমাবারে মসজিদে আগে আগে যাওয়া সুন্নত। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন,‘যে ব্যক্তি জুমার দিন ফরজ গোসলের মতো গোসল করে এবং প্রথম প্রহরে মসজিদে যায়, সে যেন একটি উট কোরবানি করল। দ্বিতীয় প্রহরে গেলে গরু কোরবানির সওয়াব, তৃতীয় প্রহরে গেলে ভেড়া, চতুর্থ প্রহরে গেলে মুরগি এবং পঞ্চম প্রহরে গেলে ডিম কোরবানির সওয়াব পাবে। এরপর যখন ইমাম খুতবা দিতে মিম্বারে ওঠেন, তখন ফেরেশতারা আর আমল লিখেন না, তারা খুতবা শুনতে থাকেন। (বোখারি : ৮৮১)

অর্থাৎ, জুমার দিন যত আগে মসজিদে উপস্থিত হওয়া যায়, সওয়াবও তত বেশি। মসজিদে দেরি করে গিয়ে নামাজে শরিক হওয়া গেলেও, আগেভাগে না আসার কারণে অমূল্য সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়ে যেতে হয়।

কালবেলা/এটিআর
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১৯ বছর পর বেতার যন্ত্রপাতি ফেরত পেলেন সাবেক এমপি লালু

ঝরল আরও ৬ প্রাণ / হাম ও উপসর্গে ৮০০ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্তে শীর্ষে বাংলাদেশ

ফাইনালে হারার ‘কষ্ট’ নিয়ে এবার মুখ খুললেন ম্যাক অ্যালিস্টার

এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস পেল এটেক

সম্পদের তথ্য গোপন: সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের ৭ বছরের কারাদণ্ড

স্কুল থেকে অপহৃত ৭ বছরের শিশু পুলিশের অভিযানে উদ্ধার

ফ্রি খাদ্য কর্মসূচির বাজেট ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি কমাল ইন্দোনেশিয়া

কান কামড়ে জখমের মামলার আসামি বিএনপি নেতার প্রকাশ্যে সমাবেশ

‘বিএনপিকে একচুল ছাড় নয়’, ফেসবুকে কেন বললেন রনি

ইরানের শান্তি আলোচনার আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্রের

১০

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৪৬

১১

কনটেন্ট ক্রিয়েটর বনি আমিনের ওপর হামলা

১২

‘৩০ শতাংশ না দিলে প্রকল্প নয়’—ঘুড়কা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

১৩

সন্দেহজনক কার্গো জাহাজ জব্দ করল দক্ষিণ কোরিয়া

১৪

গাজীপুরে হাজীর মাজার বস্তিতে পুলিশের অভিযান

১৫

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু

১৬

ময়মনসিংহে প্রতারক হরিদাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

১৭

ভিডিও বিতর্কে গাজী নজরুলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ জামায়াত এমপি এনামুলের

১৮

অভিজ্ঞতা ছাড়াই ১০০ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণ গ্রুপ, আবেদন শেষ ৩১ জুলাই

১৯

‘তাদের উচ্ছ্বাস আমার পুরো দিনটাকে আনন্দময় করে তুলল’

২০
X