

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হজ। জীবনে একবার হলেও আল্লাহর ঘর বায়তুল্লাহ-এ উপস্থিত হয়ে হজ আদায় করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর ফরজ।
তবে বাস্তবতায় অনেকেই শারীরিক অসুস্থতা, বার্ধক্য কিংবা অন্যান্য অক্ষমতার কারণে নিজে হজ আদায় করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে ইসলামে ‘বদলি হজ’ বা অন্য কাউকে দিয়ে হজ আদায়ের বিধান রয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন ওঠে, একজন নারী কি পুরুষের পক্ষ থেকে কিংবা একজন পুরুষ কি নারীর পক্ষ থেকে এই বদলি হজ আদায় করতে পারবেন? বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যেই রয়েছে কৌতূহল ও সংশয়।
এ প্রসঙ্গে রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালাম (মিরপুর-১২)-এর ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী কালবেলাকে বলেন, ‘হ্যাঁ, নারীরা পুরুষের পক্ষ থেকে এবং পুরুষরা নারীর পক্ষ থেকে বদলি হজ করতে পারবেন।’ (কিতাবুল ফাতাওয়া : ৪/৬২)
হাদিস শরিফে এসেছে, বিদায় হজের সময় এক মহিলা নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, ‘আমার পিতা অনেক দুর্বল, তিনি হজ করার সক্ষমতা রাখেন না। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ করতে পারব?’ উত্তরে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, পারবে।’ (সহিহ বোখারি: ১৫১৩)
হাদিসটির ব্যাখায় সিলেটের খ্যাতিমান শায়খুল হাদিস মাওলানা শামছুদ্দীন দুর্লভপুরি কালবেলাকে বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজে হজ আদায় করতে অক্ষম, তার পক্ষ থেকে অন্য কেউ বদলি হিসেবে হজ করতে পারে। এতে নারী-পুরুষের ভেদাভেদ নেই; উভয়েই একে অপরের পক্ষ থেকে এ ইবাদত আদায় করতে পারবেন।’
উল্লেখ্য, যার ওপর হজ ফরজ হয়েছে এবং হজ আদায়ের শারীরিক সক্ষমতাও আছে, তার নিজে হজ করা জরুরি। এক্ষেত্রে অন্যকে দিয়ে বদলী হজ করানো জায়েজ নয়। বদলী করালে এর দ্বারা তার ফরজ হজ আদায় হবে না। (হিদায়া : ১/২৯৬, আলবাহরুল আমীক : ৪/২২৩৯, বাদায়েউস সানায়ে : ২/৪৫৪)